Wednesday, October 2, 2013

বাংলার প্রাচীন লোহা শিল্প৪, Iron & Steel in Medieval Bengal4

লোহা ইস্পাতের দেশজ প্রযুক্তি
বাংলায় এখন দেশজ প্রযুক্তিতে লোহা ইস্পাত তৈরি হয়না বললেই চলে। উনবিংশ শতের আগে কি ধরণের প্রযুক্তি ছিল তার কোনও নিদর্শন পাওয়া যায় না। ডঃ ফ্রান্সিস বুকাননের, দ্য হিস্টোরি, অ্যান্টিকুইটিজ়, টোপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া, ১৮০০৭-১৮১৩য় প্রথম বর্ণনা পাওয়া যায়। ভাগলপুরে কোল সমাজ কি ধরণের প্রক্রিয়ায় লোহা উৎপাদন করতেন তার বিশদ বর্ননা এই সমীক্ষায় করেছেন বুকানন। এই শতেরই চার এবং পাঁচের দশকে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে এধরনে অনেকগুলি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। ১৮৪৯এ কিটো, ওড়িশার তালচের, উঙ্গুল এবং ঢেঙ্কানলের লোহা তৈরির বর্ননা দেন(জার্নাল, ৮ খন্ড, ১৪৪ পৃ); ব্যাবিংটন ১৮৪৩ সালে সম্বলপুরের কুটারবাগা খনি থেকে একটি চুল্লির নমুনা এশিয়াটিক সোসাইটিতে পাঠান(জার্নাল, ১২ খন্ড, ১৬৪পৃ), ওয়েলবি জ্যাক্সন ১৮৪৫এ বীরভূমের লোহা গলানোর একটি ছোট বর্ননা দেন (জার্নাল, ১৩ খন্ড, ৭৫৪ পৃ), রাজমহল পাহাড়ের লোহা তৈরি নিয়ে ডঃ ওল্ডহ্যাম লেখান(জার্নাল, ২৩ খন্ড, ২৭৯)। এই সময় কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টর্স এই প্রদেশের খনিজ নিয়ে কিছু প্রশ্ন পাঠান। ওল্ডহ্যাম এ সময় বীরভুমের খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি বিস্তৃত সমীক্ষা(সিলেক্সন্স ফ্রম দ্য রেকর্ডস অব দ্য বেঙ্গল গভর্ন্মেন্ট, সপ্তম খন্ড, ১৮৫৩) তৈরি করেন। সম্বলপুরের লোহা শিল্প নিয়েও আরও একটি সমীক্ষা(ডঃ জে শর্ট - সমীক্ষা(সিলেক্সন্স ফ্রম দ্য রেকর্ডস অব দ্য বেঙ্গল গভর্ন্মেন্ট, ত্রয়োবিংশতি খন্ড, ১৮৫৫) পেশ করা হয়।
এই সমীক্ষা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয় যে উনবিংশ শতকে ওড়িশা, সম্বলপুর এবং ভাগলপুরে প্রায় এক ধরণের লোহা গলানোর প্রযুক্তি ব্যবহার হত। চুল্লিগুলি মাটির তৈরি, তিন থেকে চার ফুট উঁচু, মাথার দিকে ঘেরে আড়াই ফুট এবং নীচের দিকে একটু বেশী চওড়া। মাথার দিকে ভেতরের ঘের করেক ইঞ্চি আর নিচের দিকে এক ফুটের কাছাকাছি। একটি মাটির পাইপ টুইয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর মাধ্যমে দুটি হাপরের ওপর একজন দাঁড়িয়ে পাদিয়ে পর্যায়ক্রমে হাপরকে চালিয়ে চুল্লিয়ে হাওয়া ঢোকানোর কাজ করতেন। চুল্লিতে চারকোলের সঙ্গে লোহা আকরিক মিশ্রন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হত। গলিত লোহা চুল্লির নিচে এসে জমা হত। একে বের করে এনে সাধারণ কামারশালে বহুবার ঠাণ্ডা গরম করে পিটিয়ে শুদ্ধ লোহা আর লোহার নানান যন্ত্রপাতি তৈরি করা হত। শুধু ভাগলপুর জেলায় ৩০০ টনের মত লোহা তৈরি হত। কিন্তু অন্য দুটি জায়গা, ওড়িশা, সম্বলপুরের উৎপাদন পরিমানের বর্ননা দেওয়া হয় নি। বীরভূমের লোহা গলানোর প্রায় একই পদ্ধতি। পার্থক্য হল এটির চুল্লির আকার বেশ বড়। প্রত্যেক চুল্লি ২৫ মনের মত লোহা তৈরি করতে পারত। ডঃ ওল্ডহ্যাম বলছেন প্রত্যেক বছর ২৩৮০ টনের মত লোহা তৈরি করত বীরভূমের চুল্লিগুলো।
Post a Comment