Showing posts with label Fulia. Show all posts
Showing posts with label Fulia. Show all posts

Thursday, July 9, 2015

Nilambari sari


Nilambari Sari originates from Shantipur in Nadia District of West Bengal. It was a seat of Sanskrit learning and literature, Vedic texts and scriptures during the ninth century.
Of late under the tutelage of UNESCO AwardWining MasterWeaver Writer Haripada Basak, Kalaboti Mudra and Bangiya Paramparik Karu O Bastra Shilpi Sangha jointly reviving the traditional skill-sets again. It is to remember that, invention of Chemical Blue Colour destructed the dyeing infrastructure of Bengal Cotton and Silk. We are also reviving charka weaved cotton thread again.
The word ‘nilambari’ literally means blue sky referring to the saree's deep navy-blue color. The ‘Aanchal’ is decorated with stripes of varying thickness. These stripes, called ‘sajanshoi,’ have colors that are complementary to those used on the borders. Some saris even include silver colored starry patterns embroidered on the border, giving it an appearance of a night sky. They often had flowing diagonal lines similar to the flow of a river. The colors were also typical-deep maroon, black, indigo blue and chrome yellow. There was also the famous Nilambari saree in which the midnight blue-black background was held together by star-like flowers, as a dark star-studded, moonless night.
These two organizations are reviving saris which are in four colours namely nilambari (blue), shwetambari (white), pitambari (yellow) and rakthambari (red). These are made in pure handcrafted cotton and woven sans jacquard m/c.

Nilambori Saree, নীলাম্বরী শাড়ি

মায়ের পেটে থাকা অবস্থা থেকে শুনে আসছি করতে হবে, দিতে হবে - কিন্তু কে করবে, কেই বা দেবে? আমরা কলাবতী মুদ্রা, বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ - একটি চাঁদা দিয়ে চালানো ছোট গ্রাম উদ্যমীদের সংগঠন নিজেদের সদস্যদের উদ্যমে এই হাতে কাটা সুতো, ঠকঠকি তাঁত আর প্রাকৃতিক রঙে চোবানো শাড়ি তৈরির সামাজিক উদ্যম বাস্তবায়িত করেছি বিগত কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত প্রচেষ্টায় - তাঁতিপাড়া ফুলিয়ায়।
এই কাজ শুধু অতীতকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার অতীত বিলাসী উদ্যম নয়। এটি আদতে নিজের দেশের মানুষের সমাজের যে দক্ষতা - বাংলার তাঁতিরা নিজের উদ্ভাবনী শক্তির যে অক্লান্ত নজির পেশ করেছিল সারা বিশ্বে, যাকে বড় পুঁজি ধ্বংস করেছিল নিজের স্বার্থে, তাকে ফিরিয়ে এনে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করা।
আজ বাংলার তাঁতি পাড়ার সব থেকে বড় সমস্যা কিন্তু তাঁতিদের দক্ষতা ফিরিয়ে দেওয়া নয় - এটা ভারত সরকারের এনএসডিসির ট্রেনিং প্রোগ্রাম নয় - যে প্রোগ্রাম মানুষকে কর্পোরেটের চাকুরে করে তোলে - সেই দক্ষতাটা তাঁদের আজও রয়েছে। প্রয়জন নষ্ট ধংস করে দেওয়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
ফুলিয়াতে কেন আজ পশ্চিমবঙ্গের কোনো তাঁতি পাড়ায় এই নিজস্ব পরিকাঠামো অমিল - নির্ভর করতে হয় মিলের রঙ সুতোর উতপাদনের ওপর - দিনের পর দিন পরিকাঠামো নেই বলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের কদর কমছে - তারা নেই হয়ে যাচ্ছেন - মারা যাচ্ছেন - তাঁদের সঙ্গে দক্ষতারও কবর হচ্ছে।
আজ নীল গাছের চাষ হয় শুধু দক্ষিণ ভারতে। প্রাকৃতিক নীলের বিপুল দাম। দুটি কোম্পানি তৈরি করে। কিলো ৩৫০০ টাকা। একটা নীলাম্বরী শাড়ি রঙ করতে প্রয়োজন হয় অন্তত ২৫০ গ্রাম প্রাকৃতিক নীল। ফলে এখানেই দিন পাঁচেকের শ্রমের মূল্য ছাড়াই একটা শাড়ির দাম জুড়ে গেল ১০০০টাকার কাছাকাছি।
খুব ঘুরে ঘুরে চরকা কাটুনিদের খুঁজে খুঁজে বার করেছি সাঙ্গঠনিক ভাবে - মধ্যবিত্ত সমাজ তাঁদের কাজের সম্মান দেননা - বোঝেন না বিষয়টা। সেই সুতো তৈরির পরিকাঠামো নেই হয়ে গিয়েছে প্রায়। কিন্তু দক্ষতা রয়েছে - সেই দক্ষতা আজও বড় পুঁজির পশ্চিমি যন্ত্র আর্জন করতে পারে নি। যে সুতো মিল তেরি করতে পারে না, সে সুতো আজও চরকা কাটুনিরা করে দিতে পারেন অবহেলে - সে যে কি পরিমান দক্ষতা তা না দেখলে বোঝানো যাবে না।
রঙ করাও একটা দক্ষতা। সেটা আজ দুতিনজনের আছে।
আজ এই দক্ষতাগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে গোটা তাঁতি পাড়ায়, সারা পশ্চিমবঙ্গে।
নানান বিরোধ সত্ত্বেও বিশ্ববঙ্গ নিয়ে বাংলা সরকারের এই উদ্যোগ আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করি।
কয়েক দিন আগে ফুলিয়ায় তাঁতিদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করি যে আমরা নিজেরা নীল চাষ করব। শুধু নীল চাষ করলেই হয় না, গাছ থেকে নীল রঙ বের করা খুব শ্রম সাধ্য এবং দক্ষতা সাধ্য কাজ। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা ধান্য গবেষণা কেন্দ্রর শ্রী অনুপম পালের সঙ্গে কথা বলি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই চাষ করতে তিনি তাঁতিদের সাহায্য করবেন।
এই সমস্ত কাজ করতে গিয়ে দেখছি, এটা আমাদের মত চাঁদা দিয়ে সংগঠন চালানো সংগঠনের ক্ষমতার আতীত হয়ে যাচ্ছে।চাই আপনাদের সক্রিয় সমর্থন। তবেই বাংলার তাঁতিপাড়াগুলোর নিজস্ব পরিকাঠামো বাড়বে। নিজেদের উতপাদনের ওপর নিজেদের সমাজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে। নতুনতরভাবে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই করার একটা হাতিয়ার ফিরে পাওয়া যাবে।
এ সব বিষয়ে আপনাদের সাহায্য চাই। নষ্ট ধ্বংস করে দেওয়া পরিকাঠামো তৈরি করাই আজকের প্রাথমিক কাজ - এ কাজ সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। শুধু অর্থ সাহায্য নয় নানাবিধ ভাবনাও তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস বাড়িয়েছে প্রথম দফায় তৈরি করা শাড়িগুলি বিপুল দাম সত্ত্বেও বিক্রি করতে পেরে। পরের দফায় উতপাদনের দাম কমেছে। দেখা যাক।

Monday, June 11, 2012

Published in Pratyahik Khobor, খবরটি প্রাত্যহিক খবরে প্রকাশ পেয়েছে

এই লেখাটি প্রকাশ পায় প্রাত্যহিক খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ পায় বিগত রবিবার, ১০ই জুন, ২০১২.
এই অধম লেখক তার লেখা পাওয়ার আগেই কোনও ব্যক্তি সেই লেখাটিকে নিয়ে ইমেলএ বিভিন্ন মানুষকে জানান.
কলাবতী মুদ্রার পক্ষ থেকে অজানা মানুষটিকে ধন্যবাদ.

Wednesday, February 1, 2012

একটি চিঠি - ফুলিয়ার তাঁতে ধূসর মৃত্যু ছোঁয়া


মাননীয় রন্তিদেব সেনগুপ্ত মহাশয় সমীপে
সম্পাদক, সাপ্তাহিক বর্তমান,
কলকাতা।
                
মহাশয়,
আমরা কলাবতী মুদ্রার নথিকরণ দলের সদস্য। বিগত কয়েক দশক ধরে আমরা গ্রাম বাংলার জ্ঞাণ ভান্ডার নথিকরণের কাজ করে চলেছি, তৈরি হয়েছে বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ। দুই সংগঠণের যৌথ উদ্যমে সম্প্রতি ফুলিয়ায় তাঁত বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে বেশকিছু মনখারাপের তথ্য উঠে এল, সেই তথ্য জানানোর জন্য এই পত্রের অবতারণা। আমরা নিয়মিতআপনার বহুল প্রচারিত সাময়িকীর নানান সামাজিক প্রতিবেদনের ভক্ত এবং বাঙালিদের নানান দুর্দশার কথা আপনাদের সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে নিয়মি উঠে আসছে। আশাকরব আপনারা এই চিঠিটি প্রকাশকরে ফুলিয়ার তাঁতিদের অবস্থা জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাহায্য করবেন।
দেশভাগের প্রতিক্রিয়ায় বাঙলাদেশের টাঙ্গাইলের ২২টি গ্রামের বহু তন্তুবায় চলেএসেছিলেন এ বাঙলার ফুলিয়া অঞ্চলে। ফুলিয়ার অগ্রণী তন্তুবায়, হরিপদ বসাকের নীলাম্বরীর নকশা উপন্যাসে বিশদে সেই জনপদ পাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে, যদিও সেই ইতিহাস বাখান এই রচনার অংশ নয়। নানান অত্যাচার অনাচারে, শহুরে উচ্চবর্ণের বিশ্বাসঘাতকতায়, আমলাদের সমর্থন অথবা চক্রান্তে আর তাঁতিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, সৃষ্টিতে আর গবেষণায় ক্রমে ক্রমে ফুলিয়া হয়ে উঠল এ বাঙলার শিল্প-কারিগরী ইতিহাসের অন্যতম প্রধাণ অংশিদার। ফুলিয়ার টাঙ্গাইল, পাশেরই ঐতিহাসিক জনপদ, শান্তিপুরের শান্তিপুরীর বয়ন শিল্পের অসাধারণ কুহকী আকর্ষণীয় তন্তুবায়েদের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ফুলিয়া জনপদ নিজস্ব সুচারু দক্ষতায় বিশ্ববিজয়ী তাঁতশিল্পের মর্যাদা অর্জন করল। ফুলিয়ার কারিগরদের অসামান্য দক্ষতা, বাঙলার বয়নশিল্পে ফুলিয়াকে নিজের স্থান তৈরি করতে সাহায্য করল মাত্র কয়েকটি দশকের যাত্রায়। ফুলিয়ার তাঁতিদের সাধারণতম তাঁতে বোনা কাপড় আজ ইওরোপ, এশিয়ার নানান দেশে রপ্তানি হচ্ছে মাথা উঁচু করে।
আশ্চর্যের, ফুলিয়ার এই বিশ্বজোড়া নাম ডাক ডেকে এনেছে মৃত্যু ফাঁদ। নিজের মাংস আর মৃগনাভিরই স্বাদ-গন্ধে হরিণের মৃত্যু। এক লাখেরও বেশি হস্তচালিত শিল্পী তন্তুবায়ের রুটি রুজি মারতে ফুলিয়া, রাণাঘাট, শান্তিপুরের নানান এলাকায় বসে গিয়েছে কয়েক হাজার কলের তাঁত, দৈত্যসম শাড়ি কারখানা। এই কল একই ধরণের ফুলিয়ার শাড়ি বুনে দিচ্ছে অত্যন্ত কম মূল্যে, অতি কম সময়ে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ফুলিয়ার হস্তচালিত তাঁতের অন্ততঃ পঞ্চাশ হাজার তাঁতি শ্রম দান করছেন সেই সব কলের তাঁতের কারখানায়। শ্রম দানই বলা ভাল। কেননা কলে সামগ্রিকভাবে হয়ত বেশি অর্থ রোজগার করছেন, কিন্তু কলে খেটে তাঁতিরা শাড়ি পিছু মজুরি পাচ্ছেন যথেষ্ট কম। তাঁতে একটি শাড়ি তৈরি করতে মজুরি পেতেন শদুয়েক টাকা, কিন্তু কলে একটা শাড়িতে পাচ্ছেন ২০ টাকা সর্বাধিক। মরে যাচ্ছে হাড়রক্তজলকরে তিলে তিলে গড়ে তোলা ফুলিয়ার গর্বিত ঐতিহ্য। বিগত এক বছরেরমধ্যে ফুলিয়ার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ হাতে টানা তাঁত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে অন্ততঃ তিনটি পারম্পরিক তাঁত সমিতি বিপুল উদ্যমে বিশ্বের নানান প্রান্তে কাপড়ের ব্যবসা করে চলেছেন- বিশ্ব বাজারে ফুলিয়া আজ বড় নাম। বাঙলার একমাত্র টাঙ্গাইল শাড়িকে তাঁরা বাঁচিয়ে দিয়েছেন নবতম উদ্যমে। এর সুফল ভোগকরছেন এককালে সোসাইটির প্রবল বিরোধিতা করা বহু মহাজনও। অথচ প্রত্যেকজন হস্তচালিত তাঁতির মনে আজ ধুসর মৃ্ত্যুর ছোঁয়া। ভারত সরকারের সংরক্ষণের তালিকায় হস্তচালিত তাঁতের উল্লেখ রয়েছে। এ যেন সেই আবার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলের ইতিহাসের প্রত্যবর্তন।
ভারত সরকারের যে দপ্তরের এই কর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়, ডেভেলাপমেন্ট কমিশনার অব টেক্সটাইলসএর এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটএর আমলারা মুদ্রারাক্ষসের প্রভাবে কলের তাঁতের স্বার্থ রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যস্ত – স্বাধীণতার পর মধ্যবিত্তরা সমাজ উন্নয়ণ কর্ম নিয়ে, দেশের গর্ব নানান প্রযুক্তি নাশে যে স্বেচ্ছাচার করে এসেছেন এই উদ্যম তারই সর্বশেষ প্রক্রিয়া। একদিন হয়ত ঐশ্বর্যমন্ডিত ফুলিয়ার, অমর্ষি-কসবা, চন্দ্রকোণার তাঁতের চরমতম দশাপ্রাপ্ত হবে। দেশজ ঐতিহ্য, দেশজ সাধারণ মানুষের উদ্যম, দেশজ মানুষের গবেষণালব্ধ জ্ঞাণ রক্ষা, বিকাশে মধ্যবিত্ত আমলা সমাজের বিন্দুমাত্র উত্সাহ নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বাঙলার সরকারও উদাসীন। সম্প্রতি বাঙলাদেশ থেকে কলের তাঁতের একই ধরণের অসংখ্য টাঙ্গাইল বস্ত্র এ বাঙলার বাজার ছেয়ে ফেলছে – সেখানের হাতে বোনা টাঙ্গাইলের আরও বেশি দুর্দশা। বাঙলাদেশ থেকে যে ৪০০ও বেশি দ্রব্য ভারতে আসা বন্ধ ছিল, তা ভারত সরকারের ফরমানে নেমে এসেছে কয়েকশতে। ফুলিয়ার অগ্রণী তাঁতি হরিপদ বসাক ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের পারম্পরিক বস্ত্রশিল্পীদের অন্যতম প্রতিনিধি, তিনি সেই ফরমানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। কিন্তু কাকস্যঃ পরিবেদনা। দেশের শিল্পীদের পায়ে কুড়ুল মেরে প্রতিবেশীদেশের বড় শিল্পের সঙ্গে সখ্যের দৌত্য কতটা দুদেশের সাধারণ মানুষের, গড়েতোলা ঐতিহ্যের প্রচার-প্রসারের জন্য হচ্ছে তা সরকারই জানেন। ভারত সরকারের অন্যতম উদ্যম বিদেশ আগত কলের তাঁত স্থাপনে উতসাহদেওয়া, তাতে হস্তশিল্প মারাযায় যাক, দেশের ঐতিহ্য লুপ্তহয় হোক। ভারতে চিনের হাতে লুঠ হয়ে যাওয়া ভারতীয় বস্ত্রের ভারতের বাজার ধরতে সরকারি মদতে পাঞ্জাবে বিশাল বিশাল কলের তাঁত বসানো হচ্ছে। এতে ভারতে চিনের তাঁতের বাজার কতটা পড়বে, অথবা পশ্চিমি কলের তাঁতের যন্ত্রপাতির বাজার কত রেখা বাড়বে, ভারতে বেকারিজ্বালা কতটা দূর হবে, এসব কথা স্পষ্ট করে না বলা গেলেও, একটি কথা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বানী করা যায়, ভারতের পারম্পরিক তাঁত শিল্পের ওপর বড় ধাক্কা আসতে চলেছে, পাঞ্জাবী এই উদ্যমে।
ফুলিয়ার তাঁতিদের আরও বড় মরণফাঁদ পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুত নিগমের এক তুঘলকি ফরমান। ফুলিয়ার যাঁদের ঘরে হস্তচালিত তাঁত রয়েছে তাঁদের সবাইকে ব্যবসায়িকহারে বিদ্যুতের মাসুল দিতে হয়। অথচ পাশের জনপদ শান্তিপুরের তাঁতিরা কিন্তু বাড়ির ব্যবহৃত মাসুলই দেন। হস্তচালিত তাঁতে বিদ্যুত প্রয়োজন যে হয় সে তথ্য কোনো বিদ্যুত দপ্তরের আমলার কাছে থাকলেও সমাজের বহু মানুষ এই গুঢ় তথ্য জানেন না। সরকারি এক ব্যবসায়িক সংস্থার পক্ষে পাশাপাশি দুই জনপদে দুরকম নীতি বিষ্ময়কর বৈকি। আজকের সমাজে এমনিতেই হস্তচালিত তাঁতের দুর্ভোগের শেষ নেই। কলের তাঁতের বিষয়টি কেন্দ্রিয় সরকারের অধীণে হলেও বিদ্যুতের বোঝাটি কিন্তু রাজ্যসরকার একটি কলমের খোঁচায় সমাধাণ করে দিতে পারেন।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সমীপে এই আবেদন জানালাম। নিবেদনে,

বিশ্বেন্দু নন্দ, কলাবতী মুদ্রা নথিকরণ দলের পক্ষে
২৪/১৮, নাবালিয়া পাড়া রোড, কলকাতা – ৭০০০০৮
০৯১৬৩৮২৫৯৯৪, ০৩৩২৮৯৪৪৭৫৮

Tuesday, July 19, 2011

ফুলিয়ার তাঁতে ধূসর মৃত্যু ছোঁয়া ২

শোনা যাচ্ছে ভারত সরকারের অন্যতম উদ্যম বিদেশ আগত কলের তাঁত স্থাপনে উতসাহদেওয়া, তাতে হস্তশিল্প মারাযায় যাক, দেশের ঐতিহ্য লুপ্তহয় হোক। ভারতে চিনের লুঠকরা বস্ত্রের বাজার ধরতে পরোক্ষে সরকারি মদতে পাঞ্জাবে বিশাল বিশাল কলের তাঁত বসানো হচ্ছে। এতে ভারতে চিনের তাঁতের বাজার কতটা পড়বে, অথবা পশ্চিমি কলের তাঁতের যন্ত্রপাতির বাজার কত রেখা বাড়বে, ভারতে বেকারিজ্বালা কতটা দূর হবে, এসব কথা স্পষ্ট করে না বলা গেলেও, একটি কথা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বানী করা যায়, ভারতের পারম্পরিক তাঁত শিল্পের ওপর বড় ধাক্কা আসতে চলেছে, পাঞ্জাবী এই উদ্যমে।
ফুলিয়ার তাঁতিদের আরও বড় মরণফাঁদ পশ্চিম বঙ্গ বিদ্যুত নিগমের এক তুঘলকি ফরমান। ফুলিয়ার যাঁদের ঘরে হস্তচালিত তাঁত রয়েছে তাঁদের সবাইকে ব্যবসায়িকহারে বিদ্যুতের মাসুল দিতে হয়। অথচ পাশের জনপদ শান্তিপুরের তাঁতিরা কিন্তু বাড়ির ব্যবহৃত মাসুলই দেন। হস্তচালিত তাঁতে বিদ্যুত প্রয়োজন যে হয় সে তথ্য কোনো বিদ্যুত দপ্তরের আমলার কাছে থাকলেও সমাজের বহু মানুষ এই গুঢ় তথ্য জানেন না। সরকারি এক ব্যবসায়িক সংস্থার পক্ষে পাশাপাশি দুই জনপদে দুরকম নীতি বিষ্ময়কর বৈকি।
আজকের সমাজে এমনিতেই হস্তচালিত তাঁতের দুর্ভোগের শেষ নেই। কলের তাঁতের বিষয়টি কেন্দ্রিয় সরকারের অধীণে হলেও বিদ্যুতের বোঝাটি কিন্তু রাজ্যসরকার একটি কলমের খোঁচায় সমাধাণ করে দিতে পারেন।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সমীপে এই আবেদন জানালাম।
নিবেদনে,

বিশ্বেন্দু নন্দ, কলাবতী মুদ্রা নথিকরণ দলের পক্ষে
২৪/১৮, নাবালিয়া পাড়া রোড, কলকাতা – ৭০০০০৮
০৯১৬৩৮২৫৯৯৪, ০৩৩২৮৯৪৪৭৫৮

Monday, June 27, 2011

ফুলিয়ার হস্তচালিত তাঁতের বর্তমান অবস্থা


দেশভাগের প্রতিক্রিয়ায় টাঙ্গাইলের ২২টি গ্রামের বহু তন্তুবায় চলেএসেছিলেন এ বাংলার ফুলিয়া অঞ্চলে। ফুলিয়ার অগ্রণী তন্তুবায়, হরিপদ বসাকের নীলাম্বরীর নকশা(প্রকাশক, উবিনিগ, বাংলাদেশ। এই উপন্যাসের এ দেশে একজন প্রকাশক জুটলেও তিনি হতচ্ছেদ্দা করে সেই উপন্যাসটি ছেপেছেন কিন্তু বাজারে আনতে তাঁর বড় দ্বিধা) উপন্যাসে বিশদে সেই জনপদ পাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে, যদিও সেই ইতিহাস আপাততঃ এই রচনার অংশ নয়। কাশবনময় সেই ধূধূকরা অঞ্চলটিতে উচ্চবর্ণের নানান অত্যাচারে, অনাচারে, বিশ্বাসঘাতকতায়, আমলাদের সমর্থন অথবা চক্রান্তে সব থেকে বড় কথা তাঁতিদের রক্ত, ঘামে ক্রমে ক্রমে ফুলিয়া হয়ে উঠল বাংলার কারিগরী ইতিহাসের অন্যতম অংশিদার। ফুলিয়ার টাঙ্গাইল, পাশের জনপদ শান্তিপুরের শান্তিপুরীর অসাধারণ আকর্ষণীয় তাঁতের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে কারিগরদের নিজস্ব দক্ষতায় বিশ্ববিজয়ী তাঁত শিল্পের মর্যাদা পেল।  অন্ততঃ তিনটি পারম্পরিক তাঁত সোসাইটি বিপুল উদ্যমে বিশ্বের নানান প্রান্তে ব্যবসা করে চলেছেন। বাংলার একমাত্র টাঙ্গাইল শাড়িকে তাঁরা বাঁচিয়ে দিয়েছিন নবতম উদ্যমে। এক সময়ে সাথী হয়েছিলেন বাংলার সরকার। প্রচার আর তাঁতিদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল ভোগকরছেন এককালে সোসাইটির প্রবল বিরোধিতা করা বহু মহাজনও। কিন্তু ততদিনে এক লাখ হস্তচালিত তন্তুবায়ের রুটি রুজি মারতে ফুলিয়া, রাণাঘাট, শান্তিপুরে বসে গিয়েছে কয়েকশ কলের তাঁতের শাড়ি কারখানা, যারা একই ধরণের শাড়ি, অথবা অন্য জামাকাপড় তৈরি করে দিচ্ছেন অতি কম দামে। বিগত এক বছরেরমধ্যে ফুলিয়ার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ হাতে চালানো তাঁত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু তাঁতি কাজ করছেন সেই সব স্বচালিত কারখানায়। ফুলিয়ায় তাঁত বসালেই কারখানার দাম নিচ্ছে সরকারি বিদ্যুত কোম্পানি। তাই প্রত্যেকজন তাঁতির মনে আজ ধুসর মৃ্ত্যুর ছোঁয়া। অথচ ভারত সরকারের সংরক্ষণের তালিকায় হস্তচালিত তাঁতের উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু তার প্রতিকার নেই।
ভারত সরকারের যে দপ্তরের এই কর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়, ডেভেলাপমেন্ট কমিশনার অব টেক্সটাইলসএর আমলারা মুদ্রারাক্ষসের প্রভাবে কলের তাঁতের স্বার্থ রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যস্ত। একদিন হয়ত ঐশ্বর্যমন্ডিত ফুলিয়ার, অমর্ষি-কসবা, চন্দ্রকোণার তাঁতের চরম দশাপ্রাপ্ত হবে। দেশজ ঐতিহ্য, দেশজ সাধারণ মানুষের উদ্যম, দেশজ মানুষের গবেষণালব্ধ জ্ঞাণ রক্ষা, বিকাশে একজনও মধ্যবিত্ত আমলার উত্সাহ নেই। তাই সরকারও উদাসীন। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কলের তাঁতের একই ধরণের কোটি কোটি বস্ত্র এসে বাংলার বাজার ছেয়ে ফেলছে। যে ৪০০ওপরের দ্রব্য ভারতে আসা বন্ধ ছিল, তা সরকারি ফরমানে নেমে এসেছে কয়েকশতে। অগ্রণী তাঁতি হরিপদ বসাক নিজে ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের বস্ত্রশিল্পীদের অন্যতম প্রতিনিধি, তিনি দেখেছেন সেই ফরমান। দেশের সাধারণ মানুষের পায়ে কুড়ুল মেরে প্রতিবেশীদেশের সঙ্গে সখ্যের দৌত্য কতটা সাধারণ মানুষের ভালর জন্য হচ্ছে তা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আজ ভারত সরকারের অন্যতম উদ্যম কলস্থাপনে উতসাহদেওয়া, তাতে হস্তশিল্প মারাযায় যাক, দেশের ঐতিহ্য লুপ্তহয় হোক। স্বাধীণতার প্রায় সাড়েছয় দশক পার বয়ে যাওয়ার পরেও দেশের মানুষেরা কতটা স্বাধীণ নতুন করে ভাবতে হবে!