Showing posts with label মধুমঙ্গল মালাকার. Show all posts
Showing posts with label মধুমঙ্গল মালাকার. Show all posts

Saturday, November 30, 2019

বাংলায় রাবণ-রাজ

দুই প্রখ্যাত কারিগরের সংযোগে বিশ্বের দ্বিতীয় কিউটেস্ট রাবণ
মুখা নেপাল সূত্রধর। শোলার মুকুট Madhumangal Malakar
চড়িদা এবং মুষ্কিপুর
বাঙ্গালির জয় হোক।

দিনাজপুরেরর গ্রামে কীর্তন

আহা, শীতের ওম মেখে মাটির বাড়িতে কীর্তন!
Madhumangalদার বাড়িতে।

Friday, June 1, 2018

মেচ বস্ত্র বয়ন প্রকল্প

গত বছর আলিপুরদুয়ারের কামাখ্যাগুড়ির মধ্যনারাথলি গ্রামে মেচ সমাজএর মহিলাদের নিয়ে কাপড় বোনার কর্মশালা হয়েছিল।
সেই কর্মশালায় সম্পাদক মধুমঙ্গল মালাকার কয়েকটি উতপাদন হাতে নিয়ে।
Rajib Thakur Protap Karjee এরই দুই নেতার নেতৃত্বে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।

Tuesday, January 23, 2018

দেশিয় উৎপাদন চর্চা - দিনাজপুরের মেল্লি

আপনাদের সঙ্গে আজ পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক বাংলার আরেক আচার(যদিও আপনারা পশ্চিমের অনুকরণে বলেন ধর্ম, আমরা যারা দেশি অশিক্ষিত তারা বলি আচার) উৎপাদন মেল্লির সঙ্গে। এটি এক্কেবারেই আঞ্চলিক। দিনাজপুরিয়।দক্ষিণ দিনাজপুরের মুষ্কিপুর গ্রামে এনার উদ্ভব। কারিগর, মধুমঙ্গল মালাকার এবং তাদের পরিবারের মানুষেরা।
মেল্লি আদতে মঞ্জুষ। আমাদের ধারণা এটি বৌদ্ধ লাঞ্ছিত শব্দ। চেহারায়ও মনে হয় বৌদ্ধ উদ্ভব।
মেল্লি মোটামুটি দু প্রকারের একটি চণ্ডীর মেল্লি, অন্যটা মনসার মেল্লি। কেউ কেউ এর চেহারার সঙ্গে বৌদ্ধতার সঙ্গে জুড়তে চান। আমাদের এত জ্ঞান নেই যে একে বলে দিই পৌণ্ড্রবর্ধনে সেই সময়কার বৌদ্ধ কারিগরের হাতে তৈরি আচার পণ্য।
পিরামিডাকৃতি  মেল্লির মাথায় থাকে একটি সুতো।গ্রামের মানুষেরা এই মেল্লিগুলি নিয়ে মনসা পুজো বা চণ্ডী পুজো অথবা গ্রাম দেবতার থানে ঝুলিয়ে দেন।
মুষ্কিপুরের মালাকার পরিবার মালদা-দুইদিনাজপুরের তিন জেলার ১০০ কমি ব্যাসার্ধের মানুষ এই মেল্লিগুলি তাঁর পরিবারের কাছ থেকে নেন।
সমস্যা হল এ নিয়ে চর্চা কম।
আমাদের ভাগ্য ভাল আজও এই কারিগর বাংলায় থাকেন। আজও গ্রামের মানুষ শেকড়ে থাকেন। আজও কয়েকশ বছরের এই অভ্যেস ছাড়েন নি।
জয় বাংলা!

Sunday, January 21, 2018

বাংলার পরম্পরার প্রযুক্তি, জ্ঞান আর দক্ষতা প্রবাহ

শেকড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক উদ্যমী কি করে খুঁজে নেন তার উত্তরপ্রজন্মকে
কারিগর গড়ে ওঠার ধাপগুলি - অসামান্য মাথা নামিয়ে শেখার

গুরুরা নিজের হাতে তৈরি করে নেন নিজেদের উত্তরপ্রজন্ম। নিশ্চিত করে যান পরম্পরার প্রবাহমানতা। ৫৬ বছর বয়সী শেকড়ে থাকা বিশ্বজয়ী কারিগর মধুমঙ্গল মালাকার নিজের হাতে তৈরি করে যাচ্ছেন তাঁর উত্তর প্রজন্ম।
মধুমঙ্গল তাঁর বাপদাদার কারিগরি নিয়ে প্রায় সারা বিশ্ব চক্কর দিয়ে ফেলেছেন। পা কিন্তু নিজের গ্রামে, নিজেরে কাজে। পরিবারের নবীন সদস্যকে কারিগরির বাইরে রাখেন নি, কর্পোরেট চাকরি দালালির দিকে ঠেলে দেন নি, বিদেশে বাস করতে উৎসাহ দেন নি। নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসছেন বাংলার পরম্পরায়। বংশপরম্পরায় প্রবাহিত জ্ঞান, অর্জিত দক্ষতার রেশটুকু ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছেন তার উত্তরপ্রজন্মের ভেতর তিল তিল করে।
বেছে নিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে। নিজের পুত্র যোগ্য কারিগর, তাকে কিন্তু সঙ্গে করে নিয়ে আসেন নি তিনি। নিয়ে এসেছেন তার দুই ভায়ের দুই পুত্রকে। পরম্পরার অর্থ লুঠেরা গণতন্ত্র নয়, পরিবার বা নিজের রক্তের উত্তরাধিকারীই যে প্রথম পছন্দ হবেন, নাও হতে পারে। কারিগরের অসামান্য চোখ খুঁজে নেয় তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকার।
এই ভেঙ্গে পড়া তরল সময়েও বাংলার পরম্পরার কারিগরি তার মত করে বেঁচে থাকে ভদ্রবিত্তের প্রিয় লুপ্তপ্রায় নামক শব্দবন্ধের বাইরে নিজের মত করে দাঁড়িয়ে থাকেন পরম্পরার উদ্যমী।
ভাগ্যভাল এই মানুষদের সঙ্গ করতে পারছি, শিখতে পারছি পরম্পরা - গণতান্ত্রিক সার্বজনিক নাম্নী ফেল কড়ি মাখ তেল মার্কা পশ্চিমি লুঠেরা জ্ঞানের ঢক্কা নিনাদের ঘোমটা সরিয়ে।
জয় গুরু!
জয় বাংলা!

Friday, January 19, 2018

বাংলায় শোলার কাজ - বাংলার প্রযুক্তি - বাংলার কারিগর

ICCRএ চলছে ক্রাফটস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের ৫০ বছর পুর্তি।
ওয়াপাগের সভাপতি মধুমঙ্গল মালাকারের শোলা শিল্পের প্রদর্শনী।
ছবি - Mahua Lahiri সূত্রে









Monday, October 16, 2017

পরম্পরার গ্রামীন উদ্যমীদের সংঘ - অনঅপচয়ের বিশ্ব বাঁচানোর ব্যবহারিক তত্ত্ব

পরম্পরার গ্রামীন উদ্যমীদের সংঘ
অনঅপচয়ের বিশ্ব বাঁচানোর ব্যবহারিক তত্ত্ব
বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ, ব্যবসায়া উদ্যম শিক্ষা কেন্দ্র আইবিএসএর সঙ্গে মিলে বাংলার পরম্পরার গ্রামীন উদ্যোগী হস্ত, বস্ত্র ও অভিকর শিল্পীদের সংঘ(গিল্ড) তৈরির উদ্যম নিয়েছে। সেই উদ্যমের ধরতাই করতে একটি আলাপ আলোচনার উদ্যম নিয়েছে ৯ নভেম্বর, ২২ কার্ত্তিক, ১৪২২, বিকেল দুটো থেকে পাঁচটা পর্যন্ত, সেক্টর পাঁচে, সেই উপলক্ষ্যে বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ এই মানুষদের উদ্যমের তত্ত্ব বিষয়ে কিছু লেখা প্রকাশ করবে। সেই ধারার প্রথম লেখা এটি।
গাঁইয়া পরম্পরার শিল্পের পৃথিবী বাঁচানোর কতগুলি গুণ রয়েছে। সেই গুণগুলি আগে বহুবার আলোচনা করা গিয়েছে - যেমন উৎপাদনের বিকেন্দ্রিতা, যতসম্ভব একালার বাইরের সম্পদ ব্যবহার না করা, বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করা, যন্ত্রপাতি যত সম্ভব কম ব্যবহার করা, ইত্যাদি। এ নিয়ে অতীতে আমাদের ব্লগে(http://lokfolk.blogspot.in/), ফেবুকে এবং পরমএর পাতায় বেশ কিছু লেখা বেরিয়েছে।
আজকের বিষয় সম্পদ সংরক্ষণের।
চোখে দেখা সেই বিষয় নিয়ে এই লেখা।
--
দিন দুয়েক আগে এই ছবিগুলি জুড়ে বলা গিয়েছিল আরও কিছু বলার আছে।আদতে সম্পদ বাঁচানোর দর্শনে এই পরম্পরার গ্রামীন শিল্পের সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষেরা লিপ্ত - যার সঙ্গে সম্পদ অপচয়ী এই পশ্চিমী বড় পুঁজির, বেকনিয় দর্শনে গড়ে ওঠা শিল্প উদ্যমের বিশাল ফারাক। যত দিন যাচ্ছে, তত যেন এই ফারাকটা চোখে লাগছে ক্যাট ক্যাট করে।কেননা বিশ্বজোড়া একচেটিয়া ব্যবসা করেও এই সম্পদ বাঁচিয়েই এই গ্রামীন শিল্প বিশ্বকে বয়ে নিয়ে এসেছেন কয়েক হাজার বছর, এই শিল্পবিপ্লবের শুরুর সময়, কর্পোরেট লুঠের সময়ের শুরুর সময় পর্যন্ত।
দিন তিনেক আগে বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘের সম্পাদক মধুমঙ্গল মালাকার তাঁর পরের প্রজন্ম ভাস্তা গৌরব মালাকার, বংশ পরম্পরায় তৈরি শোলার মুখোশ নিয়ে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে তৈরি বিশ্ববঙ্গএ দেওয়ার জন্য। বিধাননগরে সংগঠনের কেন্দ্রিয় দপ্তরে বসে তিনি তাঁর মুখোশগুলি সাজাচ্ছিলেন। এর আগে তাকে কাজ করতে দেখেছি দিনাজপুরে, কলকাতায়। কিন্তু সেদিন তাঁর কাজ দেখে যেটি বুঝলাম তাঁর সত্য আমার গ্রামশিল্পের বিশ্ব সম্পদ বাঁচিয়ে চলার তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করেছে। বলা দরকার মনের মধ্যে ঢুকে দেখছি এই সত্য সামগ্রিকভাবে গ্রামীন ছোট উদ্যোগের মানুষদের জন্য পরম সত্য।
সামনে বসে বসে দেখছি, তিনি মুখোশগুলি সাজাচ্ছেন শুধু অসম্ভব মমতায়ই নয় অসম্ভব সম্পদীয় মিতব্যয়ীতায়। এই বিষয়টি গ্রামীণ পরম্পরার উদ্যোগের সঙ্গে যে সব মানুষ জড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য সত্যি। দেখছি, যতটুকু যা প্রয়োজন ততটুকুই তিনি ব্যবহার করছেন, এবং কাজ শেষে যতটুকু ব্যবহার হল, তা থেকে বিন্দুমাত্র জিনিস/সম্পদ যদি পড়ে থাকে তা পরম যত্নে কুড়িয়ে নিয়ে রেখে দিচ্ছেন পরেরবার ব্যবহারের জন্য।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাইপো গৌরব। পড়াশোনায় যেমন চৌখস, তাঁদের বংশ পরম্পরার কাজেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার - বাংলার মা্লাকার পরম্পরার যোগ্য উত্তরসূরী। জেঠার সঙ্গে তাঁর কাজও চোখ টানে। এবং মধুদার থেকে নতুন প্রজন্ম সম্পদ বাঁচানোর সেই পরম্পরার শিক্ষা, দর্শন অর্জন করছে সে।
যে খবরের কাগজগুলো মুড়ে মুখোশগুলো নিয়ে এসেছিলেন তারা, কাজ শেষে সেই দলা পাকানো উদ্বৃত্ত হয়ে যাওয়া খবরের কাগজগুলোকেও তারা পরম যত্নে বাঁজ করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দিনাজপুরে। শোলার ছোট ছোট ফুল তারা পরম মমতায় কুড়িয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁদের বাড়ির পানে। কাজ শেষে দেখলাম সে অবস্থায় তারা কাজ করতে বসেছিলেন চার ঘন্টা আগে কাজ শেষ করার পর সেই যায়গাটি তারা ছেড়ে দিয়ে গেলেন আগের মতই, দৃশ্যত কোন দূষণ ঘটল না। অথচ, বড় পুঁজির কোনো এই ধরণের কাজে যে দূষণ বের হয় তা শুধু অসহ্য নয়, বিশ্বকে আজ সেই দূষণ, ফেলে-ছড়িয়ে কাজের দর্শন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ভারত তথা এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা বহু হাজার বছর ধরে সারা বিশ্বে নিজেদের নানা উতপাদন নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে এসেছে। তাঁর জন্য সারা বিশ্ব ধ্বংসের মুখোমুখি হয় নি, আজও সেই বাঁচিয়ে চলা সম্পদ নিয়ে কর্পোরেটরা হরির লুঠ চালাচ্ছে সারাবিশ্বে।
আজ বড় পুঁজির তাত্ত্বিকদের এই শিল্প থেকে এ ধরণের নানান বিষয় শিখতে হবে, যদি তারা সত্যিই বিশ্বকে বাঁচাবার শপথ নিয়ে থাকেন।
পরের লেখার জন্য অলমিতি।
(দুবছর আগের লেখা)

Saturday, July 15, 2017

দেশিয় জ্ঞান, দক্ষতা চর্চা প্রবাহ - গৌরব, গুরুকিঙ্কর, মধুমঙ্গল মালাকার

এই জ্ঞানী, দক্ষ, প্রজ্ঞাবান মানুষদের উৎপাদন ব্যবস্থাকে কোন দিন ঔপনিবেশিক শহুরে জ্ঞানচর্চা খুব বেশি গুরুত্ব দেয় তো নিই, বরং ইওরোপের আদলে ফোক বা লৌকিক বাংলা চর্চা করতে গিয়ে এদের শহুরে জ্ঞানে গরীমায় আন্তর্জাতিক ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ঠেলে দিয়েছে বেড়ার ওপারে।
ঠিক, তাতে এই মানুষদের কিস্যু আসে যায় নি হাজার হাজার ধরে যেমন, তেমনি আজও। এরা কোন দিন শহুরে শিল্পী, নাটুকে বা সিনেমা করিয়েদের মত সরকারি দাক্ষিণ্য দাবি করেন নি, কোনদিন অভিমানভরা ফোলানো ঠোঁট নিয়ে বলেন নি কেন তাঁদের তথাকথিতভাবে শিল্পীরূপে গণ্য করে এই কমিটি ঐ কমিটিতে নেওয়া হচ্ছে না, বা নাটক করিয়েদের মত দাবি তোলেন নি কেন তথাকথিত জাতীয় নাট্যালয় তৈরির জন্য জমি, কম পয়সায় হল, নাটক লেখা তৈরির জন্য দান বা নিদেনপক্ষে কিছু হাবিজাবিমার্কা উপাধি দেওয়া হচ্ছে না, বা সমাজপাল্টাতে মন প্রাণ ঢেলে দেওয়া বড় পুঁজির এই যোগ্য সন্তানকে বাংলার মাটিতে শেকড় গজিয়ে ফেলতে ব্যস্ত সিনেমা করিয়েদের মত দাবি করেন নি, কেন তাঁদের বিপ্লবাত্মক সমাজপরিবর্তনের জন্য সিনেমা করার কাজে সরকার কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালছে না।
না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১৪১৭ সালে লোকপ্রসার প্রকল্প নেওয়ার আগে, কিছু গবেষক, কিছু সরকারি আমলা, কিছু প্রগতিশীল রাজনীতির কারবারি এদের নিয়ে দাবা খেলাখেলি করা ছাড়া, কেউ এদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করে নি - স্থায়ীভাবে এদের পিঠে 'লুপ্তপ্রায়' শব্দবন্ধটি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোন শহুরে কোনদিন এই শিল্পগুলিকে সাহস করে বোঝার চেষ্টা না করেন- তাঁদের মাথায় গুঁজে দেওয়া পড়েপাওয়া চৌদ্দআনা ইওরোপিয় সংস্কৃতির চৌহদ্দির বাইরে এসে - এদের বরাদ্দ অর্থে পোষা হয়েছে গুচ্ছের ভদ্র সন্তান।
এই "অশিক্ষিতরা" তাদের অদক্ষতার পটুত্ব আর দারিদ্র সত্ত্বেও কি করে এই "লোকশিল্প" নামক কাজটিতে বেঁচে রয়েছেন তাই বুঝতে ফোকতত্ত্বজারিত মধ্যবিত্ত সন্তানগণ দিস্তে দিস্তে গবেষণাকর্ম রচতেন। যেমন করে এক মজুমদার নামক এক লোকোসংস্কৃতিবিদ মধুমঙ্গল মালাকারকে বুঝিয়েই ছেড়েছিলেন যে তাঁরা গরীব তাই কাঠের মুখোশ বানাবার মুরোদ নেই তাই তারা শস্তার শোলার মুখোশ বানান।
----
আমার ভাগ্যভাল, বঙ্গীয় পারম্পতিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘে এই মানুষজন জুড়ে নেওয়ার যোগ্য মনে করেছিলেন। গত কাল দিনাজপুরের মুষ্কিপুরে তাই দেখছিলাম, কি করে কয়েকশ বছরের বাংলার, হ্যাঁ খুব বড়ভাবে বলছি, গ্রাম-বাংলার শেকড়ের মুখে বসে থাকা একটা পরম্পরার পরিবার গ্রাম উৎপাদন করেন।
দেখলাম, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, দেখলাম সেই পরিবারের এক প্রজন্ম কি করে এই ভেঙ্গে পড়া হাহুতাশি সময়ে তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, পরম্পরা, তাঁদের মূল্যবোধ, তাঁদের শিল্প ভাবনা, তাঁদের উৎপাদন ব্যবস্থা চারিয়ে দিয়ে যান পরের প্রজন্মের মধ্যে।
দেখলাম আর ঋদ্ধ হয়ে বুঝলাম, সেই দুহাজার বছর পূর্বের হুন আক্রমণের আতঙ্ক থেকে লুঠেরা খুনি ব্রিটিশ আর আজকের মোদি সরকার পর্যন্ত গ্রামবাংলা শত ধ্বংস, শত লুঠ, শত ব্যভিচারের মধ্যে দিয়ে গেলেও কি করে তার মৌলিকতার কুড়টি টিকিয়ে রাখে নিজের মত করে।
ঘটনাটা হল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একটি দেশ থেকে গরুর মূর্তি তৈরি করে দেখানোর আহ্বান পেয়েছেন মুষ্কিপুরের মালাকার পরিবার। শর্ত, প্রবীন মধুমঙ্গল মালাকার যাবেন - তিনি অর্থ পাবেন। কিন্তু সামান্য মধুদার শর্ত হল, তার অর্থের প্রয়োজন নেই, তার সঙ্গে যেতে দিতে হবে, না তার একমাত্র শিল্পী সন্তান নয়, তার ভাই, গুরুকিঙ্করের সন্তান গৌরবকে।
নিজের চোখে দেখলাম কি করে একটা প্রজন্ম অন্য প্রজন্মকে হাতে ধরে তৈরি করান, পাশে দাঁড়িয়ে নয়, সাধারণ কিছু নির্দেশ দিয়ে। মধুদা তখন তার দোকানে, গৌরব বাড়িতে গরুটি তৈরি করছে - কিন্তু গলাটা ঠিক মত যা সে চাইছে হচ্ছে না - মধুদা দুপুরে এলেন - নিজের হাতে ঐটুকু অংশ দেখিয়ে দিলেন।
এই ঘটনাগুলোর কিছু ছবি তুলে নিয়ে এসেছি - আমার নিশ্চিন্তিভাবটা কিছুটা চারিয়ে দিতে চাইছি কিছু বন্ধুর মধ্যতে যারা আম ইংরেজি শিক্ষিত ইওরোপনম্য শহুরে মানসিকতার বাইরে এসে না দেখা, না জানা, না বোঝা, না পড়া নিজের দেশ, গ্রাম, মানুষ, শিল্পকে বুঝতে চান তাঁদের জন্য।
আবারও বলি আমার ভাগ্য ভাল এই অসামান্য মানুষদের সঙ্গ করতে পেরেছি, তারা কোন বাধা ছাড়াই সযত্নে অশিক্ষিত এই মানুষটিকে তাঁদের কর্মতত্ত্ব বোঝার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সেই দীর্ঘদিনধরে সঞ্চিত অমৃতের কিছু ফোঁটা আপনাদের সক্কলের জন্য বেঁটে দেওয়া গেল, গ্রামশিল্পে কোথাও কোন বাধাবন্ধ নেই - সব কিছু বাতাসের মত সূর্যের আলোর মত উন্মুক্ত।
জয় বাংলা!
জয় বাংলার দক্ষতার!
জয় বাংলার জ্ঞান, প্রযুক্তির!
জয় বাংলার পরম্পরার পরিবারগুলোর!
বাংলা আমার মা!

মুষ্কিপুরের মালাকার পরিবারের কার্তিক পুজো - ধর্মাচারণ নয়, আচার মানন

ভদ্রদের সংজ্ঞা অনুযায়ী এই আচার যে রেলিজিয়ন নয় সেটা বোঝা দরকার সর্বাগ্রে
বাংলার পারম্পরিক উৎপাদক সমাজের অন্যতম ধারক বাহক বাংলার শোলা শিল্পের কর্ণধার মালাকার সমাজ। মধুমঙ্গল সেই মালাকার সমাজের অন্যতম পরিচিত প্রতিনিধি। তার নিজস্ব কৃতিতে বিগত ৩০ বছর ধরে বাংলার পারম্পরিক শিল্পী সমাজের নেতৃত্বভার অর্জন করেছেন মধুমঙ্গল - নতুন দল তৈরি করেছেন নিজের জোরে, সেই দলগুলির সম্মেলন হতে যাচ্ছে কয়েকদিন বাদেই - কলকাতায়। তিনি তার সমাজ, দেশের প্রতিনিধি হয়ে বহুবার বাংলা, ভারত এবং বিদেশে নিজের, দশের এবং দেশের শিল্পকৃতি, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উপস্থাপন করেছেন। অতীতে এই পত্রিকায় আমরা মধুমঙ্গলের জীবনের, সংগঠন প্রতিভার নানান দিক আলোচনা করেছি। আজ করব তাঁর পরিবারের আচারিত কার্তিক পুজোর বর্ণনা।
---
বিগত ৩৫ বছর ধরে মধুমঙ্গল তাদের পারিবারিক পুজা অনুষ্ঠিত করছেন স্বকীয় স্বাতন্ত্রে। এই তিনদিন তার পরিবারের পুজা মণ্ডপে বিভিন্ন গ্রামীণ অভিকর শিল্পীরা তাদের হুনর প্রদর্শন করতেন। এবছর একটি পারিবারিক দুর্ঘটনায় এই অনুষ্ঠানটি মধুমঙ্গল আয়োজন করে উঠতে পারেন নি। মধুমঙ্গলের সঙ্গে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এই উতসবে যুক্ত হন। এছাড়াও গ্রামে আরও তিনটি তুতো ভাই পরিবার একই সঙ্গে একটু আলাদা আলাদা ধরনের কার্তিক পুজা করে থাকেন।
মুস্কিপুরের মালাকার পরিবারের কার্তিক পুজা ভারতের বহু বিচিত্র, বহু বর্নিল সংস্কৃতির একটি সুসংস্কৃত প্রবাহমান রূপ। স্বাধীন ধর্মাচরনের এ এক অপুর্ব রূপ। মধুমঙ্গলের বাড়ির কার্তিকের সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং সসর্প মনসা দেবী। এছাড়াও কার্তিকের মেড়ের ওপরে থাকেন শিব। বাংলার যে সব অঞ্চলে কার্তিক পুজিত হন, সেখানে সাধারনতঃ থাকেন শুধু কার্তিক।
কিন্তু এখানে, মুস্কিপুর গ্রামে মালাকার পরিবারে কার্তিক পুজিত হন এক অপুর্ব রূপে। পাশেই এক তুতো ভাইয়ের বাড়িতে লক্ষ্মী, সরস্বতীর বদলে থাকেন জয়া বিজয়া। মধুমঙ্গল জানালেন বেশ কয়েক দশক পুর্বে কার্তিকের সঙ্গে পুজিত হতেন ১৪ দেবতা। শিবের সঙ্গে থাকতেন ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুও। এবং এই বহুত্ববাদী দর্শন আজও ভারতের গ্রামে গঞ্জে বহন করে আসছেন ভারতের গ্রামীণেরা।
গ্রামীণ ভারত এখনও কেন ইয়োরোপীয় দর্শনে, খ্রিস্ট ধর্মে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েনি, তার অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন মুস্কিপুরের মালাকার পরিবারের কার্তিক পুজা। আজও, এই হিন্দুত্বের অশ্লীল নিনাদ সত্বেও বিচিত্র দেশজ সংস্কৃতির বহুরূপ তার নিজস্বতাতেই ভাস্বর। এক জাতি, এক ধর্ম, এক ভাষার নেসন স্টেট গড়ে তোলার অদম্য উতসাহে হিন্দুত্ববাদীরা ভারতের নানান প্রবাহমান সংস্কৃতিকে হিন্দু সংস্কৃতি হিসেবে মানতে নারাজ। ইওরোপের দেখাদেখি, তাদের ধর্মসংস্কার নকল করে বড় অক্ষরের জি ওয়ালা গড এবং ধর্মীয় নিদান হিসেবে বাইবেলের দেখাদেখি বেদ, কেউবা গীতাকে সর্বজমান্য করতে চাইছেন।
অষ্টাদশ, উনবিংশ, বিংশ শতকে যে ধর্ম সংস্কারের ঢেউ উঠেছিল ইয়োরোপীয়দের ভারতীয় ধর্ম সংস্কারের উদ্যমে, ঠিক সেই উদ্যমেই হিন্দুত্ব বাদীরা নতুন করে ভারতকে তাদের মত করে ধর্মীয় ডোরে বাঁধতে চলেছেন। ভারতের আপামর জনগনের একটি বিশাল অংশ তাদের নির্দেশ শুনতে রাজি নন। তাই আজও ভারতের গ্রামগুলোয় হিন্দুত্বের জোরদার আওয়াজ, ধর্মীয় লড়াই, দাঙ্গা, রাজনীতি, ক্ষমতায় আসীন হওয়া সত্বেও ভাজপা, স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, বানর সেনা, দুর্গা বাহিনীসহ হাজারও আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন রাষ্ট্রবাদী ধর্ম(=রেলিজিয়ন) ব্যবসায়ী দলগুলির গ্রহন যোগ্যতা প্রায় শূন্য। এ বিষয়ে বিশদে এই ব্লগে আমরা দেখেছি, কিভাবে ধর্ম সংস্কারের নামে, নবজাগরনের নামে ভারতের বহুত্ববাদী ধর্ম, সংস্কৃতির দীর্ঘ, পরীক্ষিত, সহনশীলতাকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।
ঠিক সেই জন্য হাজারো ধুলাগড়, বসিরহাটের লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়ে দিয়েও তাদের ভোট কাটার সুযোগ কম। যে বৃদ্ধিটা দলটির ঘটছে সেটি চরম মুসলমান বিরোধিতার মানুষের এক জোট হওয়া যা মোট ভোট সংখ্যায় নগণ্য।