Showing posts with label সাংস্কৃতিক কর্মী. Show all posts
Showing posts with label সাংস্কৃতিক কর্মী. Show all posts

Wednesday, August 7, 2013

Cultural Footprints of India3, ভারতের পারম্পরিক সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মেলা৩

আক্ষরিক অর্থে ব্যাঙ্গালোরের পথ গায়ক ভিখারি, ১৯২৮এর ছবি (Mendicant street singer, Bangalore; a photogravure by Martin Hurlimann, 1928)

মধ্যপ্রদেশের সাগরের যাযাবরেরা। স্থানীয়রা বলেন সাগর মানে স(১০০) গড় মানে দুর্গ। একশ দুর্গের সমাবেশ। ১৮৮০র ছবি  (sagar1880s)

১৮৮০র গোদাবরীর তীরে নাসিকে মেলা (Scene in the River Godavery, Nassik, an albumen photo of a pilgrimage center, c.1880)

বোম্বাইয়ের সাপুড়ে। ১৮৭৫ (Snake charmers, Bombay; a wood engraving, 1875 (Hachette, Paris))

গরুকে নিয়ে পারম্পরিক শিল্পীরা (street perforers withbullocks1880s)

Cultural Footprints of India2, ভারতের পারম্পরিক সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মেলা২

হরিদ্বার, কুম্ভ? বোধহয় না। 

লেখা আছে হিন্দু নাচ। কোনও ভারতীয়র আঁকা। ১৮৫৭য়। এক মন্দিরের সামনে এই ঘটনাটি ঘটছে। 
ছবিটি খুব খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে এটি একটি পরিপূর্ণ বাঙালি অনুষ্ঠান। কেননা ছবির নাচিয়েদের বাঁদিকে, পেছনে  ঢাকিরা যে ভাবে ঢাক বাজাচ্ছেন, সেই বাজানোর ঢঙটি বাংলার ঢাকিদেরই নিজস্ব। আর আমরা ধুনুচি নাচও দেখেছি। ঠিক এ রকমই। 
এই ছবিটির ডান দিকে নিচের দিকে একটা অর্ধেক গরুর গাড়ি রয়েছে। সেটিও খুব আশ্চর্যের। ছবিটা বড় করে দেখলে দেখবেন, সেটি অনেকটা ঘোড়ায় টানা রথেরমত। গরুগুলো বেশ সাজানো-গোজানো। এধরনের গরুর গাড়ি খুব একটা দেখিনি। এটির পুরো ছবি থাকলে খুব ভাল হত।  
(Hindoo dance, from a native drawing  from the Illustrated London News, 1857)

মেলা। সম্ভবত বাংলার বাইরের। হয়ত বিহারে। যদিও তখন বিহারের এক অংশ বাঙলায় ছিল। ১৮৫৮র। ছবিটির বাঁ দিকের তাঁবুটির সামনে যতদূর সম্ভব মিষ্টি বিক্রেতাকে দেখুন, আজকের এধরনের শঙ্কু আকৃতির দোকান নিয়ে পথে নানা ধরণের জিনিস বিক্রি করেন। আর একটু দূরে গাছের পাশে হয় মন্দির, না হলে রথাকৃতি গরুর গাড়ি। (Hindoo Fair,a wood engraving from the Illustrated London News, 1858) 

বাজনাদার কি বাজাচ্ছেন? (Indian minstrel playing the tingadee)


মধ্যপ্রদেশের রাজ্য মন্ডলার কিছু শিল্পী। মন্ডলা, নর্মদা নদী তীরের একটি শহর  
(Mandla Acrobats, 1870)

আক্ষরিক অর্থে ভিখারি তীর্থ যাত্রী। ঢোল বাজাচ্ছেন। ১৮৭৬য় আঁকা। আগের পোস্টে দেখেছি কি ভাবে ভারতীয়রা তীর্থ যাত্রা করতেন। এ নিয়ে বাগ বিস্তৃতি করা বাহুল্য মাত্র। শুধু বলা যাক ভারতীয় সংস্কৃতিতে ভিক্ষা নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে, পরে কোনোদিন হয়ত।   (mendicant pilgrim playing drums, from the Illustrated London News, 1876)

Cultural Footprints of India1, ভারতের পারম্পরিক সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মেলা১

শারীরিক দেহভঙ্গি শিল্পীরা, লে তুর দু মন্দে থেকে, ১৮৬৮ (Acrobats and street performers; from 'Le tour du monde', 1868)

দ্য গ্রাফিক, ১৮৭৮এ প্রকাশিত অপেরাধর্মী সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। নজর করে দেখুন, কি ধরণের পরিশ্রম এবং সৃষ্টিধর্মিতা রয়েছে এই চিত্রগুলোতে। ইংরেজিতে কেন কুলি লাইফ বলা হয়েছে তা আমার কাছে বিন্দুমাত্রও পরিষ্কার নয় (Coolie life in India--an operatic performance, from The Graphic, 1878)

খুব পরিচিত ভল্লুকের নাচন, ১৮৫৯ (dancing bears 1859)

ভারত নয়ে কি সব অদ্ভুত সব ধারণা ছিল সাম্রাজ্যবাদীদের, যারা নাকি ভারতকে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন এবং সঠিক তথ্য পরিবেশন করেছেন। আমরা যারা ভারতীয় তারা ছোটবেলা থেকেই এই ধরণের পেশার সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাজের সঙ্গে পরিচিত। আজও মেনকা গান্ধীর লাল চোখ এড়িয়ে কিছু মানুষ পাড়ায় পাড়ায় এধরনের খেলা দেখান। ১৮৮০-৯০ সালের তোলা ছবি 
(Fakir with monkeys,1880-1890)

১৮৬৪তে আঁকা ছবিটির কলাকুশলীরা যতদূর সম্ভব গঙ্গা তীরবর্তী কোনও ধর্মীয় উতসাব বা মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, ছবির সঙ্গে লেখা দেখে যতটুকু বুঝেছি। হাল আমল বাদ দিলে, বিভিন্ন উতসব, মেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের পারম্পরিকসব মানুষ অনেক দিন আগে থেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তেন। কি করে যে তাঁরা এই পঞ্জিকা আজও মাথায় ধরে রেখেছেন সেটাই আশ্চর্যের(কেননা আমরা শহুরেরা পারম্পরিক জীবন ভুলেছি, পঞ্জিকাতো ভুলেইছি।)  আমরা নদিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের এক দল মানুষকে(পুরুষ স্ত্রী নির্বিশেষে) দেখেছি যারা এক বছর আগেই কুম্ভের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ছেন শুধুমাত্র কিছু আটা আর চাল সম্বল করে। গাড়ি(রেল) করে যাওয়ার কথা বললে বললেন, বাবা-দাদারা এই ভাবেই তীর্থে যেতেন। তখন কোথায় রেল ছিল! তীর্থ করতে গেলে কষ্ট করতে হবে। টাকা পয়সার কথা উঠল। বললেন ভগবান আছেন। বুঝলাম, রাস্তার পাথেয় গ্রামের মানুষেরাই দেবেন। এই ভাবেই হাজার হাজার বছর ধরে ভারতের মানুষ তীর্থ করে এসেছে, পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। কেউ বিপদে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোই ছিল ভারত সংস্কৃতির দস্তুর। খুব ভুল বললাম ছিল। আজও আছে। এই টালমাটাল সময়েও। হোটেল, হেলিকপ্টার, টুরিস্টওয়ালা, ক্রেডিট কার্ড, এমনকি নিজের আর্থিক সঙ্গতির পরোয়া না করেই এই মানুষেরা বেরিয়ে পড়তেরত ভারত সংস্কৃতি দর্শনে, পরস্পরের সঙ্গে মিলতে, অদম্য ভারতীয়তাকে প্রনাম করতে। (Ganges Pilgrims passing a ghaut, from the Illustrated London News, 1864)

১৮২৪এ আঁকা পাটনার বাদ্যকরদের দল (Group of Musicians,a watercolor, Patna, 1824)