Showing posts with label গাছ. Show all posts
Showing posts with label গাছ. Show all posts

Monday, June 2, 2014

Construction Materials10, বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম১০

কাটা গাছটিকে আবশ্যই পূর্ব-পশ্চিমের দিকে ফেলতে হবে। গুঁড়িটিকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে কাটা দরকার। গাছটি পড়ার সময় যদি গাছের ছাল ছড়িয়ে না যায়, বা গুঁড়িটি ভেঙে না যাওয়াটি শুভ রূপে ধরে নেওয়া হয়। এটি হলে গাছের মালিক ধনী হন। যদি গাছ কাটার সময় গাছের শীর্ষ আগে মাটি স্পর্শ করে ডালপালা ছড়িয়ে যায় উত্তর-দক্ষিণে এবং গুঁড়ি কিছুটা ওপরে উঠে যায়, সেটি খুবই অশুভ লক্ষণ। গুঁড়িটি অন্য যে কোনও ভাবে পড়াকে অশুভ বলে ধরে নেওয়া হয় না। তবুও ততটা শুভ নয়। গাছটি পড়ার সময় যদি অন্য গাছকে ধাক্কা মারে তাহলেও সেই লক্ষ্মণ আশুভ নয়। গাছ পড়ার সময় যদি গুড়িটি সরে যায় তাহলে সেটি খুবই দুর্লক্ষণযুক্ত ঘটনা। গাছটি পড়ার সময় যদি ভেঙে যায় সেটিও অশুভ হিসেবে মান্য করা হয়, ধরে নেওয়া হয় যে আগামী সময়ে নানান কাজে বাধা আস্তে যাচ্ছে।
গাছ কাটার কাজটি নিয়ম মেনে করতে হবে। গুঁড়িটিকে চার পাশে সমান করে কেটে চৌকো করে তোলা দরকার। গুঁড়ি চৌকো করে কাটার পর সেটিকে সাদা কাপড়ে জড়িয়ে প্রয়োজনীয় শকটে চড়িয়ে কাজের স্থানে সতর্কভাবে বহন করে নিয়ে যাওয়া উচিত। মন্দির বা প্রাসাদ তৈরির উদ্দেশ্যে যে গুঁড়ি কাটা হচ্ছে সেটিকে হাতি বহন করে নিয়ে যেতে হবে। অন্য নানান স্থাপত্য বিষয়ে নানান বাহন এমনকি মানুষকেও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।কাজের যায়গায় বালির স্তুপ তৈরি করে সেই গুড়িগুলোকে মাথার দিকটি উঁচুর দিকে করে রাখতে হবে। কোনও ভাবেই সেই অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। সেই অবস্থায় রেখেই করাত ব্যবহার করে প্রয়োজন অনুযায়ী ৮, ৫ বা ৩ টুকরোয় ভাগ করতে হবে।
মৃল্লোষ্টক(ছাদের টালি)
ইট তৈরি করার মাটি যেভাবে প্রস্তুত হয়, সেই ভাবেই কাদা কাদা করে লেই তৈরি করে রাখতে হবে। এই লেইটির নাম মৃৎসন। এই ধরণের কাদা মাটি দিয়েই ছাদের টালি তৈরি করতে হয়।

বিভিন্ন প্রকারের লোষ্টম এবং তাদের পরিমাপ – ১। নিপ্রালোষ্টম ২। অর্ধলোহষ্টম ৩। তুর্যাশ্রম ৪। কুরালোষ্টম ৫। আস্পালোষ্টম(দ্বয়াষ্ট্রম) ৬। কীলালোষ্টম ৭। কৃশাগ্রলোষ্টম ৮।  স্তুলোগ্রালোষ্টম ৯। কোণালোষ্টম ১০। পোতালোষ্টম।

Construction Materials9, বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম৯

বাড়ি তৈরির কাজে সেক(? sake), আসানা (asana, অর্জুন?), মাডুকা বা মহুয়া, শাল, সার্য(? sarja), চন্দন, পনসা(? pansa), দেবদারু, সামন্তী(? Samonti) গাছ বাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করলে খুব ভাল হয়। এক ধরণের গাছ বা দুধরণের গাছ বা নানান ধরণের কাছের কাঠ প্রাসাদ তৈরির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে রাজা বাস করবেন। যে কাঠ ব্যবহার হবে তাতে পাতা, ফুটো, ফাটা, ছিদ্র ইত্যাদি  থাকবে না। মন ভাল রাখার জন্য দেব পাহাড়, দেব বন, দেবস্থলীর গাছ ব্যবহার করা উচিত।
খদির, শাল, মাডুকা, শাম্বক, শিংশপা বা শিশু, আর্জুন, পদ্ম, চন্দন, দানোয়ান(?) গাছের বড় বড় ডাল রয়েছে এবং পিণ্ডি, সিংহ, রাজদাম, শমী ইত্যাদি স্তম্ভ গাছ নামে পরিচিত। 
নিম, আসানা, শিরীষ ইত্যাদি স্ত্রী গাছ। এগুলি জ্বালন হিসেবে বা যজ্ঞ কাঠ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
যে গাছ গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত গোল, শক্তপোক্ত, শক্ত ডালপালা যুক্ত সেগুলিকে পুরুষ গাছ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্ত্রী গাছের গুড়ি ওপরের দিকটি শক্ত। যে গাছের এ ধরণের চরিত্র নেই সেই গাছকে নপুংসক বলা হয়।
গাছকে কি কাজে ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিল্পী(সূত্রধর)কে বলিকর্ম করে গাছটি কাটতে উদ্দিষ্ট করা হয়। বলি গাছের পায়ের কাছে করতে হবে কেননা সেখানেই ভূতগণ, দেবতা এবং কুবেরের সম্পদ রক্ষক গুহকের আবস্থান। তিনি তাঁদের আশীর্বাদ চাইবেন। বলি দেওয়ার আগে তিনি বলবেন, আমি আপনাদের কাছে আশীর্বাদ চাইছি। আপনারা আমায় বলি দেবার জন্য অনুমতি দিন। হে শিবদেব, কুজাদেব এবং গুহকদেব আমাকে বিধি অনুযায়ী অনুমতি দান করুণ। আমি যেন কাজে সফল হতে পারি। আপনারা এই স্থান থেকে দূরে থাকুন। কুঠারের যে অংশটি গাছ কাটবে সেই অংশকে ঘি, তিল তৈল এবং দুধের মিশ্রণ দিয়ে মাখাতে হবে। এই  বার সূত্রধর গাছের দিকে এগবেন গাছ কাটার জন্য। তিনি মাটি থেকে এক কিস্কু মাপ ওপরে কাটার দাগ করবেন। কাটার সময় যদি সাদাভ বা জলীয় ত্রল বার হয়ে আসে তাহলে সব কিছু শুভ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
গাছ পড়ার আওয়াজ যদি সিংহ, হাতি বা মহিষেরমত হয় তাহলে তাও শুভ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

Construction Materials8, বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম৮

দারু বা কাঠ
কোন কোন কাঠ ব্যবহার করা উচিত নয়
যে গাছে ছিদ্র রয়েছে, যে গাছে ফাটল রয়েছে, যে গাছে ফুটো(হোল) রয়েছে সে গাছের কাঠ ব্যবহার করা উচিত নয়। যে গাছে লতা জড়িয়ে রয়েছে,যে গাছে কাঁটা জন্মেছে, যে গাছে সারা বছরফল বা ফুল হয়, যে গাছকে মানুষ চারটি ঋতুতে ব্যবহার করে, যে সব গাছ পুজোর কাজে ব্যবহৃত হয় বা যে গাছগুলিকে পুণ্য গাছ বলে মানুষ বিশ্বাস করে, যে সব গাছে দেবত্ব আরোপ করা হয়, যে সব গাছ রাস্তার ধারে(ছায়া ফল ফুল দেয়), যে সব গাছে পাখি বা অন্যান্য জীবজন্তু বাসা বাঁধে, শ্মশান ঘাটের গাছ, বেণীর আকারের গাছ, য়ে গাছ স্বাস্থ্যবান নয়, যে সব গাছে সাপ বসবাস করে, যে গাছে ক্ষীর ক্ষরণ হয় বা ভিজে ভিজে দেখতে, ঝোড়ো বাতাস বা আগুণে যে গাছের ক্ষতি হয়েছে, যে গাছের ডাল হাতিতে ভেঙ্গেছে, যে গাছে বাজ পড়েছে, যে গাছ মন্দিরে ঘিরে রয়েছে, হ্রদ নদী কুয়ো পুকুর ইত্যাদিতে জন্মেছে, সে সব সে গাছের কাঠ বর্জন করা উচিত (এমন মানুষের) যারা দীর্ঘ বা সুখী জীবন কামনা করেন।
---(দিনের বেলায় লিখতে হবে) গাছের কাঠ মন্দির বা গৃহ বানাবার কাজে পরিত্যাগ করা উচিত।
খুব হালকা(সফট) কাঠ বাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। যে সব গাছের কাঠ শক্ত, ঝুনো এবং সোজা, সে সব কাঠ দীর্ঘ দিন ধরে  ঝোড়ো হাওয়া, তাপ, জলের ঝাপ্টার মত পরিবেশের খামখেয়ালিপনা সহ্য করতে পারবে, সেই কাঠ বাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করা দরকার। মনেরাখতে হবে, যে পরিবেশে বাড়িটি তৈরি হচ্ছে সেই পরিবেশের দিকে নজর রেখে গাছের কাঠ নির্বাচন করতে হবে।
বাড়ি তৈরির জন্য যে সব গাছ আযোগ্য বলে এর আগে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো যদি শক্তপোক্ত, দৃঢ হয় এবং দীর্ঘ দিনের ঝড় ঝাপটা সহ্য করতে পারে, তবে তা মন্দির তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রায় সব ধরণের ক্ষীর গাছ মন্দির তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যদি সে সব গাছ গৃহ তৈরির কাজে অনুপযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।