Showing posts with label বিজ্ঞান ও খবরদারি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও খবরদারি. Show all posts

Friday, July 20, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা৫ - বিজ্ঞান ও খবরদারি - উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর ভারতে

সে সময়ের প্রখ্যাত কায়স্থ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রথম ভারতীয় সদস্য, এবং বাংলায় বৈদিকতার প্রধান প্রবক্তা রাজেন্দ্রলাল মিত্র টেম্পলের কারিগরি শিক্ষা প্রকল্প বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেন। বাংলার পলাশীর পরে উদ্ভুত অভিজাতরা ঐতিহাসিক কারণেই কারিগরি শিক্ষা দর্শন বিরোধী, আদতে তারা মৌলিকভাবে শ্রম বিমুখ, জাতিবাদী, উতপাদনের ওনুষঙ্গ থেকে বিযুক্ত। ব্রিটিশ শাসন, শ্রম বিমুখ উচ্চবর্ণকে ক্ষমতাকেন্দ্রে নিয়ে আসার একমাত্র কারিগর। পলাশীর পরে ব্রাহ্মণ, কায়স্থদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা দিল।
বাবু রাজেন্দ্রলাল মিত্র, এশিয়াটিক সোসাইটির প্রথম কালা প্রেসিডেন্ট বললেন(এটি মহেন্দ্রলাল সরকারের ভাষ্যে On the Desirability of a National Institution for the Cultivation of the Sciences by the Natives of Indiaয় উল্লিখিত), For three thousand years and upwards their [আর্থাত উচ্চবর্ণের প্রতিভূ মিত্তরবাবুদিগের] ancestors had cherished Sanskrit learning for its own sake, and need it be doubted that their descendents would not be equal to the sciences of the present day’. Temple’s practical science was not acceptable। মিত্তরজা বললেন হুঁশিয়ারি দিয়ে do not ... attempt to make it [the proposed institute] self- supporting by producing remunerative art work in your laboratories. If you do, you will disappoint your pupils, and court signal failure.
মিত্তিরজা এটা বলতেই পারেন কেননা তিনি ১৮৫৪ সালের ক্যালকাটা স্কুল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ার আর্টের সাম্মানিক সম্পাদক এবং হিসাবরক্ষও ছিলেন(এবং শতাব্দ শেষে রবীঠাকুর এবং হ্যাভেলের চেষ্টায় এটি শিল্পকলা বিদ্যালয় হিসেবে আবির্ভূত হয়)। টেম্পলের পৌরোহিত্যে একটি জনসভায় ফাদার লাফঁ বললেন, ‘the other Association’ [pro-Temple] wanted ... to transform the Hindus into a nation of mechanics, requiring forever European supervision, whereas Sircar’s object was to emancipate, in the long run, his countrymen from this humiliating bondage।
কাল্টিভেশন অব সায়েন্সেসএর উদ্যোগে কলেজ পাঠ্যে প্রথম বিজ্ঞান অন্তর্ভূক্ত হয় । তবে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণা পাঠ্য হিসেবে মান্যতা পায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত জগদীশ চন্দ্র বসু আর প্রফুল্ল রায়ের সময়। উল্লেখ্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ছয় বছর পড়ানোর সময় বিদ্যুৎ তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন জগদীশ বসু। অসাধারণ কিছু বিষয় আবিষ্কারও করেন। কিন্তু নিজের আবিষ্কারের পেটেন্ট নিতে অস্বীকার করেন তিনি(এটা নিয়ে বিশদে আমরা পরম পত্রিকায় আলোচনা করেছি, কিভাবে লন্ডনে তার কাজ চুরি করার চেষ্টা করা হয়, কিভাবে তাকে গবেষণা করতে বিশ্বশ্রুত বৈজ্ঞানিকেরা বাধা দেন, কিভাবে টেলিগ্রাফ কর্পোরেটরা তার গবেষণা কিনতে চেয়ে তাকে অর্থ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে)। এবং তাঁকে পাশে পাওয়ার জন্যে উদগ্রীব ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের উপহাস করেন।
পরিহাসের হল এই পেটেন্ট আমেরিকায় নেন তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই আধ্যাত্মিক বান্ধবী - ব্রিটিশ সন্ন্যাসী মার্গারেট নোবেল এবং আমেরিকিয় সারা বুল। জগদীশ সেই অর্থ নিতে স্রেফ অস্বীকার করেন(সূত্র Science and domination: India before and after independence Rajesh Kochhar)। কিন্তু পেটেন্টের অর্থ বহুকাল পেয়েছেন দুই মহিলা। এ নিয়ে তাকে অনেক কটুক্তিও শুনতে হয়েছে। এই অসাধারণ কাজের জন্যে জগদীশচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, জীবনীকার গেডেস তাকে ব্যঙ্গ করে ঋষি বলেছেন(Simply stated, it is the position of the old rishis of India, of whom he is increasingly recognized by his countrymen as a renewed type, and whose best teaching was ever open to all willing to accept if. Bose carried on his shoulders the full weight of his country’s defensiveness)। প্রফুল্ল রায়ও সরকারি খেতাব নিতে গিয়ে জগদীশ বসুকে প্রকাশ্যে কটুক্তি করেছেন। এবং এই প্রবন্ধে কোছার তাকে কুইকজোটিয় বলেও ব্যঙ্গ করেছেন।
জগদীশচন্দ্রের নানান চিঠি, প্রবন্ধ আর জীবনী পড়ে আমাদের যতদূর সম্ভব মনে হয়েছে তিনি হয়ত লন্ডনে বসে বৈজ্ঞানিকদের ধনের প্রতি অতিমাত্রায় লোভ, বিখ্যাত হওয়ার জন্যে অসাধুতা আর কর্পোরেট গৃধ্নুতা দেখে ১৯০০ সালেই বুঝেছিলেন বেতার তরঙ্গর মত নানান প্রযুক্তি কিভাবে কর্পোরেটদের লাভের সূত্র আর সামরিক প্রযুক্তি হিসেবে বিশ্বপ্রভুত্বের হাতিয়ার হতে পারে। তিনি পরবর্তী জীবনে এ বিষয়ে একটিও গবেষণায় উদ্যোগী হন নি।
আমরা আজ হয়ত আন্দাজ করতে পারি তিনি অন্তত কর্পোরেট লাভের নোংরা লুঠ খেলায় আর বিশ্ব ধ্বংসের ঔপনিবেশিক অত্যাচারের হাতিয়ার হসেবে নিজেকে জড়াতে চান নি। যে মানুষটার একটি স্বাক্ষর এবং তার একটি আবিষ্কারের কর্পোরেট অংশিদারি তাকে লক্ষ কোটিপতি করে দিতে পারত, সেই মানুষটা নির্বিবাদে নিজের দেশে ফিরে এসে বিজ্ঞান সাধনা করেছেন তার মত করে, জীবন চালাবার জন্যে ভিক্ষা করেছেন প্রায়। এবং সে সময় তাঁর পাশে একমাত্র দাঁড়িয়েছিলেন আমাদের খুব পছন্দর মানুষ নয়, রবী ঠাকুর। এমনকি রামবাগানের প্রখ্যাত রমেশ মিত্তির তাকে লন্ডন থেকে বাংলায় ফিরতে বাধাও দিয়েছিলেন লন্ডনে অধ্যাপনার কাজ জুটিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অসাধারণ, আজ পড়লে রূপকথা মনে হয়। উল্টো দিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সরকারকে নানান রাসায়নিক সরবরাহ করেন প্রফুল্ল রায়, এবং সেই জন্য তার রানীর খেতাবও জোটে এবং জগদীশচন্দ্র সেটি নেন না, তিনি প্রকাশ্যে জগদীশচন্দ্রকে কিছুটা ব্যঙ্গও করেন। উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে জগদীশচন্দ্র আজও আমাদের বড় হাতিয়ার।
দুঃখের কথা, আজ তার প্রতিষ্ঠিত বসু বিজ্ঞান মন্দির সরকারি বিনিয়োগে সামরিক কাজ করে।
রাজেশ কোছারের Science and domination: India before and after independence প্রবন্ধ অবলম্বনে
জগদীশচন্দ্রের হয়ে পেটেন্ট আবেদনের নিস্পত্তির চিঠি

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা৪ - বিজ্ঞান ও খবরদারি - উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর ভারতে

রাজেশ কোছার
তখন ১৯২২। আর মাত্র ২৫ বছর বাকি বঙ্গ আর পাঞ্জাবভঙ্গে। রমন The acoustical knowledge of the ancient Hin শীর্ষক প্রবন্ধে লিখলেন It would form a fascinating chapter of history to try and trace the gradual development of musical instruments and musical knowledge, from the rhythmic chanting of the Rigveda in the ancient home of the Aryan race to the Indian music of the present day। এটা কিন্তু তাঁর প্রবন্ধের মুল বিষয় ছিল না, একটা হাল্কা মন্তব্য শুধু। এর থেকে একটা বিষয় প্রমানিত যে আর্যতার দাবি সে যময় উচ্চবর্ণের মনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠা পেয়ে গেঁথে বসেছে।
মহেন্দ্রলাল প্রথম স্বচ্ছল সুবিধেপ্রাপ্ত সমাজের ভারতীয় প্রতিনিধি যিনি নিজের কার্জ উদ্ধারে আর্যতত্ত্বকে ব্যবহার করলেন। তিনি ছিলেন British Association for the Advancement of Scienceএর ভারতীয় আজন্ম প্রতিনিধি, যারা এ সম্বন্ধে লিখছিল। ১৮৬৯ সালে তিনি নিজের Calcutta Journal of Medicine পত্রিকায় লিখলেন, On the desirability of a national institution for the cultivation of the Sciences by the Natives of India। এই প্রবন্ধটা পরে পুস্তিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু কিছু জায়গায় উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহৃতও হয়েছে। এই লেখাটা যতটা বেশি প্রচার হওয়া দরকার ছিল ততটা হয় নি।
মহেন্দ্রলাল দেশিয় সমস্যার সমাধান করলেন ম্যাক্ষমূলারের পথ ধরে। তিনি লিখলেন, The Hindu mind, thanks to this religion which has been swaying it for centuries without number, and thanks no less to its other surroundings, has lost much of its original Aryan vigor and energy। তার নিদান হল, the only method... by which the people of India can be essentially improved, by which the Hindu mind can be developed to its full pro- portions is ... by the cultivation of the Physical Sciences।
তাঁর উদ্যমে মহেন্দ্রলাল ব্রিটিশ সমাজের থেকে সাহায্য প্রত্যাশা করলেন উচ্চাভিলাষী প্রয়োজনে ... thanks to the current of inherent generosity that flows through every British heart, some obstacle or other is being removed, that stood in the way of our being recognized as brethren, though now fallen and degraded’. ‘She [England] has become aware that her true glory should consist not in simply holding under subjugation the people of India, but in elevating them in the scale of nations, in taking them by the hand and reconciling them to their long-alienated brethren, her own children।
পতিত এবং আত্মসম্মান হারানো ভাইএরা সাহায্য গ্রহীতার হাত বাড়িয়ে দিল। হিন্দু কলেজ তৈরিতে তিনি বিখ্যাত ব্যক্তির হাত ছিল রামমোহন রায়, অসরকারি ইওরোপিয় ডেভিড হিউম এবং উচ্চাধিকারী ব্রিটিশ আমলাকলকাতার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এডওয়ার্ড হাইড। একইভাবে গড়ে উঠেছিল কাল্টিভেশন অব সায়েন্স বেলজিয়ান জেসুইট পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ইউজিন লাফোঁ, বাংলার লেফতানেন্ট গভর্নর রিচার্ড টেম্পল। অবস্থান, সময় সব কিছুর পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। সে সময় প্রধান বিচারপতি মূল উদ্যোক্তা ছিলেন, আজ বাংলার প্রশাসক জনগণের চাপে নিমরাজি হয়ে বাধ্য হয়েছেন সমিতিতে থাকতে।
১৮৭৫ সালে টেম্পল মহেন্দ্রলালকে লিখলেন একটি পলিটেকনিক (আজকের দিনের ভাষায়) তৈরি করার উদ্যোগ নিতে - But science also may be made to add immeasureably to the national wealth and so’ to afford lucrative employment to numberless persons according to their qualifications and acquirements। এরসঙ্গে তিনি জুড়ে দিলেন কোন কোন পেশা এই শিক্ষা ব্যবস্থায় ঢুকতে পারে তারমধ্যে ছিল ভূমি আর ভূতত্ত্ব সমীক্ষা, অসামরিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্স, বনবিদ্যা, কাঠ আর পাথর শিল্পী। তিনি আরও লিখলেন, Moreover, by these means not only will many new industries be introduced into Bengal, but almost every one of the old established art, and manufacturers of the country may be rendered more useful and remunerative than at present।
আজ ১৮৭৫ সালের এই তত্বকে বলতে পারি গ্রাম বাংলার প্রযুক্তিকে ধ্বংস করে লুঠেরা আধুনিক বিদ্যুৎ নির্ভর প্রযুক্তির দিকে যাত্রার প্রথম তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক নির্দেশাবলী। বাংলার লেফটানেন্ট গভর্নর ভারতের ভাইসরয়কে একটি চিঠ লিখে জানালেন ভারতজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে কেননা, partly from our higher education being too much in the direction of law, public administration, and prose literature But we shall do more and more to direct their thoughts towards practical science, where they must inevitably feel their utter inferiority to us।
আমাদের ধারণা টেম্পল ভারতের বিপুল কারিগরদের কথা এখানে উল্লেখ করতে চেয়েছেন যাদের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ইওরোপে শিল্পায়নের জন্য ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছিল। তারা এই প্রস্তাবে কানই দিল না – স্রেফ উপেক্ষাই করল।
উল্টোদিকে বিপুল আলালের দল, যারা পলাশীর পরের লুঠের অংশিদার ছিল, যে অংশিদারিতে পরের দিকে ব্রাহ্মণেরাও ঢুকে গোটা ব্যবস্থাটা দখল করে নেবে, তারা শঙ্কিত হয়ে পড়ল, সাম্রাজ্যের ক্ষমতার অংশ আবার তাদের হয়ত ভাগ করে নিতে হবে।
রাজেশ কোছারের Science and domination: India before and after independence প্রবন্ধ থেকে

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা৩ - বিজ্ঞান ও খবরদারি - উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর ভারতে

রাজেশ কোছার
ইন্ডিয়ান এসসিয়েশন ফর কালটিভেশন অব সায়েন্সএর পক্ষে সঙ্গঠনের ইতিহাস চর্চায় বলা হয় যে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরের মধ্যেই চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন নোবেল পুরষ্কারের পরীক্ষা এখান থেকেই করেন। এখানে সঙ্গঠনের প্রতিষ্ঠার পিছনের দর্শনটি নিয়ে আলোচনা করলে বোঝা যাবে কোন উদ্দেশ্যে এই সঙ্গঠনটির প্রতিষ্ঠা।
মোক্ষমূলর এবং অন্যান্যদের তাত্ত্বিকতায় প্রতিষ্ঠিত আর্য তত্ত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে চর্চিত হতে থাকে সাম্রাজ্যের সঙ্গে ভারতীয়দের সম্পর্ক নিরুপণের উদ্দেশ্যে। ১৮৭৭ সালে ব্রাহ্ম নেতা ব্রহ্মানন্দ কেশব চন্দ্র সেন প্রকাশ্য সমাবেশ সরাসরি ভারতীয়দের প্রতি ডাক দিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার প্রতি অনুগত হতে আহ্বান জানালেন। তিনি শিক্ষিত ভারতীয়দের মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, যখন তোমার দেশ অজ্ঞানতা আর কুসংস্কারের আশাহীন ঊষর প্রান্তের অন্ধকারে ডুবেছিল, তখন তোমাদের সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করে বর্তমানের উচ্চঅবস্থায় নিয়ে গিয়ে ভগবানের দূত হিসেবে ব্রিটিশেরা ভারতকে ত্রাণ করেছে(British government that came to your rescue, as God’s ambassador, when your country was sunk in ignorance and superstition and hopeless jejuneness, and has since lifted you to your present high position)। তিনি বলেন, India in her present fallen condition seems destined to sit at the feet of England for many long years to learn Western art and science ... Thus while we learn modern science from England, England learns ancient wisdom from India। তিনি বললেন ব্রিটিশকে তোমরা বিদেশি কেন বলছ? আমি তো মনে করি এরা প্রাচীনকালে ভারত থেকে চলে যাওয়া আর্য জাতি, আমাদের ছেড়ে যাওয়া ভাই বোন - Gentlemen, in the advent of the English nation in India we see a re-union of parted cousins, the descendents of two different families of the ancient Aryan race।
অন্য দিকে ১৮৯৪ সালে মোহনদাস কর্মচাঁদ গান্ধী নতুন প্রতিষ্ঠিত ন্যাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের সম্পাদক হয়ে, দেশের সংসদ সদস্যদের খোলা চিঠি লিখে বললেন, whether you be a clergyman, editor, public man, merchant or lawyer,’ with a view to removing ‘the prevalent ignorance about the Indians in the Colony’, in the belief that ‘one half, or even threefourths, of the hardships entailed upon the Indians in South Africa result from want of information about India।
ইওরোপিয়দের চিঠি লিখে গান্ধীজী প্রশ্ন তুললেন What are they [the Indians]?। তিনি বললেন আজকের সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নটি নিয়ে আপনারা নিজেরা ভাবনাচিন্তা করুণ। তিনি ভারতীয় এবং ব্রিটিশদের একই জনু থেকে উতপত্তির ইন্দো-আর্য তত্ত্বের পক্ষে দাঁড়িয়ে লিখলেন, I venture to point out that both the English and the Indians spring from a common stock, called the Indo-Aryan। তিনি তাঁর তত্ত্বের সমর্থনে হান্তারকে উদ্ধৃত করলেন, the learned author of the Indian Empire’: ‘This nobler race (meaning the early Aryans) belonged to the Aryan or Indo-Germanic stock, from which the Brahman, the Rajput, and the Englishman alike descended ... when we first catch a sight of ancient England, we see an Aryan settlement, fishing in wattle canoes and working the mines of Cornwall।
গান্ধীজী তখন দিলেন, copious extracts, which will show at once that the Indians were, and are, in no way inferior to their Anglo-Saxon brethren। এই লেখাটির তথ্য তুলেছেন ম্যাক্ষমুলার সহ Max Muller, ‘the German philosopher Schopenhauer’, H. S. Maine, Andrew Carnegie, Pincott, Goethe, Bishop Heber, Thomas Munro, George Birdwood, C. Trevelyan, and Victor Hugo মত ইওরোপিয় লেখকদের লেখা থেকে। তিনি শেষ করছেন, স্বসন্তুষ্ট হয়ে; গান্ধী সব মতবাদ হনন করার দিকে গিয়ে বললেন, The Institutes of Manu have always been noted for their justice and precision এবং এইচ এস মাইনকে উদ্ধৃত করে বললেন, an ideal picture of that which, in the view of the Brahmins, ought to be the law। এই somewhat overdrawn or fanciful ... but nonetheless faithful দৃষ্টিভঙ্গীসহ গান্ধীর আশা, to induce you [the Europeans] to believe that India is not Africa, and that it is a civilized country in the truest sense of the term civilization।
এই চিঠিটি লেখেন তাঁকে প্রথম শ্রেণী থেকে লাথিয়ে নামিয়ে দেওয়ার এক বছর পরে। আদতে গান্ধী ছিলেন ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রতিভূ। তিনি মোহনদাস গান্ধী থেকে মহাত্মা গান্ধীতে রূপান্তরিত হলেন সেই দিন, যেদিন তিনি ইন্দো-ইওরোপিয় তত্ত্ব ঝেড়ে ফেলে মনে করলেন ভারতের সমস্যার সমাধান আধুনিক ইওরোপ আর ইওরোপিয়দের দেওয়া সমস্যার সমাধানে নেই বরং আত্মশক্তির উদ্বোধনে রয়েছে।
রাজেশ কোছারের Science and domination: India before and after independence প্রবন্ধ থেকে

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা২ - বিজ্ঞান ও খবরদারি - উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর ভারতে

রাজেশ কোছার
এই দমন কাজকে তাত্ত্বিকভাবে ন্যায্যতা প্রতিপাদনের নামই হল প্রাচ্যবাদ। এডওয়ার্ড সঈদের অসাধারণ তাত্ত্বিক অবস্থানকে আঞ্চলিকতায় টেনে এনে আমরা বলতে পারি orientalism as an ideological and operational paradigm consciously created by the west to define and describe the east in such a manner as to facilitate and justify its control by the west। বিশ্বকে পূর্ব ও পশ্চিম, এই দুইভাগে ভাগ করে মানে করাই হল প্রাচ্যবাদের প্রথম তাত্ত্বিক সফলতা। প্রাচ্যবাদ একদেহী নয়। পূর্ব দেশগুলির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় চরিত্র অনুসারে, এবং ইওরোপের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মেলার তারতম্যে সে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।
হিন্দি এবং অন্যান্য দেশিয় ভাষায় ইওরপিয়দের নাম হল ফিরঙ্গি যা ফ্রাঙ্ক শব্দ থেকে উদ্ভুত। কিন্তু ফ্রান্সই বা ইয়োরোপের প্রতিনিধি হল কেন? ফিরঙ্গি শব্দটা ভারতে এসেছে মুসলমানেদের সঙ্গে যারা আদতে ইওরোপকে চিনত ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে, এবং সেখানে যৌথভাবে ইওরোপকে ফ্রাঙ্ক বলা হত(আরেকটা তথ্য রাজেশ এখানে বলেন নি, সেটা হল ক্রুসেড কিন্তু শুরু করে ফ্রান্সই – এবং আমাদেরর ধারণা সেই জন্যেই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরা ইওরোপিয় বলতে ফ্রাঙ্কই বুঝতেন)। এই সূত্র থেকে আমরা দুটি বিন্দুতে পৌঁছই, প্রথমত ইওরপিয় আর মুসলমান সমাজের মধ্যে আদানপ্রদানের সূত্রই হল অতীতের সঙ্ঘর্ষর স্মৃতি। দ্বিতীয়টি হল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গে কিন্তু ইওরোপিয়দের তেমন কোন সঙ্ঘর্ষ ঘটে নি এবং ইওরোপিয়দের নিয়ে তাদের পুরোনো কোন ধারণাই ছিল না, এবং উপনিবেশের তাত্ত্বিকদের ইন্দো-ইওরোপিয়তার আবিষ্কারের সুবাদে হিন্দুরা নিজেদের ইওরপিয়দের সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে নেয়। প্রাচ্যবাদ মুসলমান বিশ্বের সাথে তত্ত্ব হিসেবে সাঙ্ঘর্ষিক ভূমিকা পালন করেছে। ভারতে আবার উল্টোটা - প্রাচ্যবাদ সম্মোহনী এবং প্ররোচক ভূমিকা গ্রহণ করে। ভারতীয় উচ্চবর্ণিক প্রাচ্যবাদকে ভারত এবং ইওরোপে স্থাপিত এশিয়াটিক সোসাইটি জাতীয় সঙ্গঠনের গবেষণাগারে উদ্ভুত ইঙ্গ-ইওরোপিয় মতবাদ হিসেবে আত্মিকভাবে লালনপালন করেছে আর মান্যতা দিয়েছে।
বিজ্ঞানের ব্রাহ্মনীকরণ
যতই কূতাভাষিক মনে হোক, এটা সত্য যে ভারতের (উচ্চবর্ণ) ব্রিটিশ শাসন আসতে আসতে মেনে নেওয়ার মধ্যে থেকেই কিন্তু ব্রিটিশদের থেকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত করেছে। ১৮২৩ সালের ডিসেম্বরে পলাশী-পরবর্তীকালএ উদ্ভুত মধ্যবিত্তদের প্রতিনিধি, রামমোহন রায় গভর্নর জেনারেলকে একটি স্মারকলিপি লিখে পড়ুয়াদের সংস্কৃত পদ্ধতিতে না পড়িয়ে ইংরেজি মাধ্যম এবং ব্যবস্থায় পড়াবার পদ্ধতি প্রবর্তন করতে অনুরোধ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল দেশিয় মানুষদের উন্নতির জন্যে তুলনামূলকভাবে মুক্তচিন্তার এবং নবজাগরনীয় পদ্ধতিতে অঙ্ক, প্রাকৃতিক দর্শন, রসায়ন এবং দেহতত্ত্বর সঙ্গে আরও হাজারো উপযোগীবিদ্যা শিক্ষিত, ভদ্রলোক, প্রতিভাধর, শিক্ষিত ইওরোপিয়দের মাধ্যমে শেখানো প্রয়োজন। তাঁর স্মারকলিপিটির কোন উত্তর আসে নি শাসকদের থেকে। বারো বছর পর এই সূত্র ধরে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে নামক এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক তার প্রস্তাবে সংস্কৃতকে স্থানচ্যুত করে(এটা সম্পূর্ণভাবে ঠিক বলেন নি রাজেশ, উইলিয়াম এডামের শিক্ষা সমীক্ষা দেখলেই বোঝা যাবে যে গ্রামে গঞ্জে যে বিকেন্দ্রিভূত বিপুল সংখ্যক পাঠশালা চলত সেগুলির মাধ্যম শুধুই সংস্কৃত ছিল না) দেশিয়দের জন্যে ইংরেজি মাধ্যম পড়াশোনার ব্যবস্থা শুরু করার নির্দেশ দেন।
১৮১৭ সালে বিদ্যালয় হিসেবে শুরু হওয়া হিন্দু কালেজের স্থাপন ঘটল সম্ভ্রান্ত বংশের শিশুদের পড়ানোর জন্যে। এই কাজের জন্যে ভদ্রলোকেরা বেছে নিলেন ঘড়ি আর রূপো মিস্ত্রি স্কট দেশিয় ডেভিড হেয়ারকে। সেই বিদ্যালয়, যেটি পরে হেয়ার স্কুল নাম হবে, সেখানে গরীব ঘরের ছাত্রদের বিনামূল্যে পড়িয়ে তিনি হিন্দু কলেজের উপযোগী করে তুলতেন ছাত্রদের। পরস্পরকে Boreahs ডাকত ছাত্ররা, these pupils invariably proved the most distinguished and ... carried almost all the honours’, turning the college into ‘a mighty instrument for improving and elevating the Hindoos।
এখানে একজন Boreahs হলেন মহেন্দ্রলাল সরকার হিন্দু কলেজ থেকে মেডিক্যাল কলেজে গেলেন। এলোপ্যাথি থেকে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারি করা মহেন্দ্রলাল ভারতীয় মধ্যবিত্তের যৌথ স্মৃতির মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানের বীজটি বপন করে দেওয়ার উদ্যম নিয়ে বহু চেষ্টায় ইন্ডিয়ান এসসিয়েশন ফর কালটিভেশন অব সায়েন্স কলকাতায় ১৮৭৬ সালে গঠন করেন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীওয়ালা ইন্ডিয়ান এসোসিয়েসনের সাথী সংগঠন হিসেবে, যা পরে জাতীয় কংগ্রসের উদ্গাতা হিসেবে কাজ করবে।
রাজেশ কোছারের Science and domination: India before and after independence প্রবন্ধ থেকে

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা১ - বিজ্ঞান ও খবরদারি - উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর ভারতে রাজেশ কোছার

[বিজ্ঞান, সাগরপারের ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছিল দুই ভাবে। প্রথমত বিজ্ঞানের(আদতে প্রযুক্তি) মাধ্যমে দেশজুড়ে সাম্রাজ্য বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ সফল হয়। দ্বিতীয়ত আধুনিক বিজ্ঞানের ক্ষমতাময় বৌদ্ধিক বিকাশ ইওরোপকে দিল জাতিবাদী এবং কৃষ্টিগতভাবে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা – যা পরে উপনিবেশের স্থায়িত্বের পক্ষে জোরদার বৈধতা দান করে। ১৮৬৯এর পরে ধরে নেওয়া যাক ১৯১৪ পর্যন্ত ভারতীয় উচ্চশ্রেণী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সচেতনভাবে মৌলিক বিজ্ঞান চর্চা করেছেন। ফলে সম্পদের বিকাশে বিজ্ঞানের অবদান আজ পর্যন্ত খুব বেশি চর্চিত হয় নি। স্বাধীন ভারতের বিজ্ঞান নীতি ঔপনিবেশিক বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতার গর্ভ থেকে জন্মানো। ফলে বৈদেশিক উদ্দেশ্য পূরণে ভারত প্রায়োগিক বিজ্ঞানেই আস্থা পেশ করল। ভারতীয়দের চেষ্টায় ঔপনিবেশিক সময়ে বিজ্ঞানের ব্রাহ্মণীকরণ ঘটল এবং ক্ষত্রিয়করণ ঘটল স্বাধীনতার পর। বিজ্ঞানের যে কারিগরিকরণ ইওরোপকে শক্তি জুগিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাটা ভারতে জন্মালই না।]
সব জ্ঞান ব্যবস্থাই কর্তৃত্বের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আধুনিক বিজ্ঞান সবার থেকে আলাদা একটা বিষয়েই যে এই জ্ঞান প্রকৃতির ওপর খবরদারি করে এবং কৃষ্টিগতভাবে জাতিগতভাবে নানান মানুষ আধুনিক বিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশের কাজে আভ্যন্তরীণভাবে জড়িয়ে থাকে। ১৫ শতকের প্রথম থেকেই ইওরোপের পক্ষে স্পেন এবং পর্তুগাল আফ্রিকার উপকূল ধরে ইসলামি এলাকা এড়িয়ে মশলাসমৃদ্ধ ভারতের দিকে রওনা হল, তাদের সে অর্থে কোন বৈজ্ঞানিক পরম্পরা ছিল না। তাদের সমুদ্র যাত্রার জ্ঞান এসেছিল ইহুদিদের সীমাবদ্ধ তাত্ত্বিকতায় বিকশিত পঞ্জিকা আর মুসলমানেদের সমুদ্র যাত্রার জ্ঞানে।
এই সমুদ্রযাত্রাগুলি থেকে চোখ কপালে তুলে দেওয়া লাভে আগামী দিনে ইওরোপিয় অর্থনীতির আমূল বদল ঘটবে। স্বচ্ছলতা আর সর্বশক্তিমান বা রাজার ইচ্ছের ওপরে নির্ভরশীল নয়, তা নির্ভর করল সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে দেশে জীবিতভাবে ফিরে আসার মাধ্যমে। ইওরোপিয় সামুদ্রিক যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে হাত ধরাধরি করে জন্ম নিল এবং বাড় বৃদ্ধি হল কর্পোরেট শিল্প এবং বিজ্ঞানেরে মাধ্যমে আর উপনিবেশ তৈরির ঘটনায় আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠনিকীকরণ বাড়বৃদ্ধি ঘটল, গুণগ্রাহী বাড়ল আর বৌদ্ধিকভাবে বিজ্ঞানের দেখনদারির ঘটনা ঘটে থাকল।
সমুদ্রযাত্রার প্রথম সময়ে দ্রাঘিমাংশ এবং স্কারভি নাবিকদের ওপর বিপুল প্রভাব ফেলত তখন প্রকৃতিকে দেখা হত শত্রু হিসেবে, যাকে পদানত করতে হয়। নতুনভাবে আবিষ্কৃত ভূমি থেকে দেশিয়দের ধরে এনে মেট্রোপলিটনে বিজয়স্মারকরূপে প্রদর্শন এবং তাদের পণ্য হিসেবে ব্যহারের যুগ শুরু হল। এই সময়ের চাহিদা ভদ্রলোক অভিজাত ফ্রান্সিস বেকনের(১৫৬১-১৬২১) লেখার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে এবং তিনি তাঁর সময়ে রাজনীতিক বা বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ তিনি আধুনিক বিজ্ঞানের দার্শনিক হিসেবে প্রখ্যাত। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক হিসেবে তার যুক্তি হল প্রকৃতি to serve the business and conveniences of man। তিনি বললেন, I am come in very truth leading to you Nature with all her children to bind her to your service and make her your slave। তার লেখার চিত্রকল্পগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি আর তার সন্তানদেরকে দাস হিসেবে বানাবার চিন্তা করে তিনি আদতে আধুনিক বিজ্ঞানকে প্রকৃতি আর মানুষ দমন করার তত্ত্বে নির্ভর হতে বলেন।
আধুনিক বিজ্ঞান ইওরোপকে সারাবিশ্ব আয়ত্তাধীন এবং উপনিবেশের তাঁবে আনার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং উপনিবেশ তৈরি করার উপযোগিতার তাত্ত্বিক অবস্থা বিকাশ করে – যে সমাজ ইওরোপিয় ক্ষমতাদম্ভী আধুনিক বিজ্ঞান জাতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা বিকাশ ঘটাতে পারবে, সেই সারা বিশ্বের ওপর সাম্রাজ্য বিস্তার করবে।
রাজেশ কোছারের Science and domination: India before and after independence প্রবন্ধ থেকে