Showing posts with label পুরনো কলকাতা. Show all posts
Showing posts with label পুরনো কলকাতা. Show all posts

Monday, September 2, 2013

১৮৫১ সালে কলকাতায় প্রগতিশীল উচ্চমধ্যবিত্তদের একটি সভার বর্ণনা, A description of a society of the then progressive upper-middle-classes of 1851Calcutta

১৮৫১র ১১ ডিসেম্বর বেথুন সভা তৈরি হল। ‘সেকালের লোক’ পুস্তকের ২২ পৃষ্ঠায়, মনীষী কৈলাসচন্দ্র বসু শীর্ষক রচনায় মন্মথ নাথ ঘোষ লিখছেন, ১৮৫১ খৃষ্টাব্দে ১১ই ডিসেম্বর দিবসে শিক্ষাপরিষদের সভাপতি ও ভারতবাসীর অকৃত্রিম বন্ধু ড্রিঙ্কওয়াটার বেথনের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ডাক্তার মৌইয়েট এতদ্দেশীয় ব্যক্তিবৃন্দের সহজগিতায় ‘বেথুন’ সোসাইটি নামক এক সাহিত্য-সভার প্রতিষ্ঠা করেন। ...যখন ডাক্তার মৌয়েট, ডাক্তার ডফ, আরচডিকন প্র্যাট, অধ্যাপক কাউয়েল, কর্নেল ম্যালিসন, কর্নেল গুডউইন, ডাক্তার রোয়ার, ডাক্তার চেভারস, রেভারেন্ড ডল প্রভৃতি য়ুরোপিয় পন্ডিতগণ এবং গুডিভ চক্রবর্তী, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, লালবিহারী দে, কৈলাসচন্দ্র বসু, গিরীশচন্দ্র ঘোষ, কিশোরীচাঁদ মিত্র, প্যারীচরন সরকার, প্রসন্নকুমার সরব্বাধিকারী, ঈশরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবীন চন্দ্র বসু, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, মহেন্দ্রলাল সরকার প্রভৃতি উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালীর বাগ্মীতায় বেথুন সভার গৃহ মুখরিত হইয়া উঠিত তখন সভার কি গৌরবের দিনই গিয়াছে।  
অর্থাৎ ক্রমশঃ গ্রামবাংলা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, তত কলকাতার নবজাগরনীয় সভাগুলিতে ব্রিটিশ সিভিলিয়ান এবং সেনানায়কদের অংশগ্রহণ এবং নজরদারি বাড়ছে, যাতে গ্রামীণদেরমত কলকাতার বাবুসমাজও সরকার বিরোধী কিছু না করে বসে। এর আগে নজরদারি করতেন রায়ান আর বার্ড। এখন যখন বাংলার গ্রামে গ্রামে স্বাধীনতা সংগ্রামের জ্যোতি আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন দেখছি, ক্রমশঃ সেনা বাহিনির উচ্চপদস্থ আমলাদের অংশগ্রহণ। আর আমরা যেন ভুলে না যাই এর মাত্র ৬ বছর পরেই ভারত ওলটানো স্বাধীনতা সংগ্রাম। তার আঁচ কি কোম্পানি আর সাম্রাজ্য পাচ্ছে?
আরও একটা ভাষার মারপ্যাঁচ লক্ষ করুন, ব্রিটিশরা সকলে পণ্ডিত আর এদেশীয়রা শুধুই কিন্তু উচ্চ শিক্ষিতমাত্র। অর্থাৎ সাম্রাজ্য স্বার্থরক্ষার স্বার্থে, চাকরির কেরিয়ার রক্ষার জন্য, যে কোনও সময়ে বিনা অজুহাতেই দাড়ি কাটা যেত। বইটির প্রবন্ধে তিনি আরও বলছেন, ...কৈলাসচন্দ্র(বসু) কেবল এই সভার প্রতিষ্ঠাকারী সভ্য ছিলেন না, তিনি এই সভায় বহু সারগরভ সন্দরভাদি পাঠ করিয়াছিলেন, এবং অন্যান্য বক্তাদের বক্তৃতার পরে যে তর্কবিতর্ক হইত তাহাতে তিনি প্রায়ই যোগদান করিতেন। ...১৮৫৪ খৃষ্টাব্দে এই সভায় তিনি The Women of Bengal(বঙ্গনারী) সম্বন্ধে একটী প্রস্তাব পাঠ করেন। ...বাংলা গভর্নমেন্টের তদানীন্তন সেক্রেটারী মিস্টার(পরে সার) সিসিল বীডন এই বক্তৃতা শ্রবণ করিয়া এতদুর প্রীত হন যে বাঙ্গালা গভর্নমেন্টের দপ্তরে একটী  উচ্চবেতনের পদ শূন্য হইলে কৈলাসচন্দ্রকে সেই পদে নিযুক্ত করেন।  অর্থাৎ মন্মথ নাথ ঘোষ ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরণের সভায় অংশগ্রহনের পুরস্কারস্বরূপ বাঙ্গালী ইংরেজি শিক্ষিতরা চাকরিযোগ্য হয়ে উঠছেন।

১৮২৩ সালে কলকাতায় রক্ষণশীল উচ্চমধ্যবিত্তদের একটি সভার বর্ণনা, A description of a society of the then conservative upper-middle-classes of 1823 Calcutta

এই সভার উপস্থিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করলে বোঝা যাবে জমিদার কাশীকান্ত বা শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদের চাকুরে রসময় শুরুতেই সভার আগামীদিনের কি আলোচনা হবে তাঁর কথা কেন বলেছিলেন। সেদিন উপস্থিত ছিলেন শ্রীযুত রামজয় তর্কালঙ্কার ও শ্রীযুত উমানন্দ ঠাকুর ও শ্রীযুত চন্দ্রকুমার ঠাকুর ও শ্রীযুত দ্বারিকানাথ ঠাকুর  ও শ্রীযুত রাধামাধব বন্দ্যোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত প্রসন্নকুমার ঠাকুর  ও শ্রীযুত কাশীকান্ত ঘোষাল  ও শ্রীযুত কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন  ও শ্রীযুত গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার  ও শ্রীযুত লক্ষ্মীনারায়ণ মুখোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত শিঞ্চরন ঠাকুর  ও শ্রীযুত বিশ্বনাথ মতিলাল  ও শ্রীযুত তারাচাঁদ চক্রবর্তী  ও শ্রীযুত ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত রামদুলাল দে,  ও শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব  ও শ্রীযুত কালাচাঁদ বসু  ও শ্রীযুত রামচন্দ্র ঘোষ  ও শ্রীযুত রামকমল সেন  ও শ্রীযুত কাশীনাথ মল্লিক  ও শ্রীযুত বীরেশ্বর মল্লিক  ও শ্রীযুত রসময় দত্ত।
সেই সময়কার কলকাতার বিশেষ গণ্য মানুষজনের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সমিতির তৈরি হওয়ার প্রস্তাবে, আলোচনার বিষয়বস্তুর এই পরিচয়। তবে ধর্ম বিষয়ে আলোচনা আর কয়েক দশকে পালটিয়ে হেঁটমুণ্ড ঊর্ধপদ হবে ডাউন উইথ হিন্দুইজম এই স্লোগানে; কিন্তু শহুরে চাকুরীজীবী, ধনী এবং ব্যবসায়ী সভ্যদের রসময়ী মানসিকতা অন্ততঃ রাজসংক্রান্ত বিষয়ে যে পাল্টায় নি তাঁর প্রমাণ গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামে সভ্য বাবুদের নিশ্চুপ থাকা। সতীদাহ নিয়ে রামমোহন রায় উচ্চবাচ্য করলে ভবানীচরণ রামমোহনের সংগ ত্যাগ করেন, কিন্তু তিনিও রামমোহনের মত গ্রাম্য স্বাধীনতা আন্দোলনের নিশ্চুপ থেকে যান। এই ধরণের গুড়ুম সভাতে না হলেও ইয়ং বেঙ্গলী আলালদের সভাগুলিতে সাম্রাজ্যের উচ্চপদস্থ সামরিক এবং সিভিলিয়ান কর্ণধারেরা উপস্থিত থাকতেন। রসময় তাঁর কেরিয়ার বাঁচাতে এবং তাঁর দলের রক্ষণশীল সভ্যদের চকিত করে দিতে, সরব হয়ে এ সব কথা বলে ফেলেছেন বটে, কিন্তু ইয়ং বেঙ্গলীসভ্যেরা নিজেদের সম্ভাব্য চাকরি, চালু চাকরি, দালালি, বেনিয়ানি বাঁচাতে নীরব থাকলেও, হয়ত কখনো কখনো রসময়ের বক্তব্যগুলি মনে মনে আবৃত্তি করতেন।

১৮২৩ সালে কলকাতায় রক্ষণশীল উচ্চমধ্যবিত্তদের একটি সভার বর্ণনা, A description of a society of the then conservative upper-middle-classes of 1823 Calcutta

সংবাদ পত্রে সেকালের কথা, প্রথম খণ্ড, ১৮১৮-১৮৩০, শিক্ষা শীর্ষক বিষয়ের ৩০ পাতায় সঙ্কলক ও সম্পাদক, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ৮ মার্চ, ১৮২৩, ২৬ ফাল্গুন, ১২২৯, সভা শীর্ষক এক প্রতিবেদনের ৯ পাতায় এক প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন, যেখানে তৎকালীন কলকাতার একটি সভা তৈরি করার প্রথম সভার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এই লেখাটি আমরা তিনটি ভাগে তুলব, প্রথম দুটিতে তখনকার সংবাদ প্রতিবেদন - এই পোস্টটি। তৃতীয়টিতে আমাদের বিশ্লেষণ। 
এই কাজটি অন্য একটি কাজের একটি ছোট্ট শৃঙ্খল, যেখানে আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, গ্রাম বাংলা যখন ব্রিটিশ অত্যাচার এবং লুঠের বিরুদ্ধে ফেটে পড়ছে, তখন কলকাতার বিভিন্ন ধরণের মানুষেরা - প্রগতিশীল এবন রক্ষণশীল উভয়পক্ষই কি ধরণের সাম্রাজ্য চাটুকারিতা করছেন।

...এঁহারদিগের আগমনান্তর প্রথম শ্রীযুত বাবু রাধাকান্ত দেব কহিলেন যে অদ্য এই সভার চারম্যান অর্থাৎ সভাপতি শ্রীযুত রামকমল সেন হউন। পরে শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর তাঁহার পুষ্টি করিলেন পরে শ্রীযুত রামকমল সেন চারম্যান অর্থাৎ প্রধানরূপে মনোনীত হইয়া ঐ সভাস্থ সকলকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন অদ্য এই সভাতে মহাশয়দিগের যদর্থে আহ্বান করা গিয়াছে তাঁহার কারণ এই যে সাধারণ আমারদিগের কোন সোসৌয়িটী অর্থাৎ সমাজ সম্বন্ধ নাই ইহাতে কি ২ ক্ষতি আর থাকিলে বা কি উপকার এতদ্বিষয়ে কিঞ্চিৎ লিখা গিয়াছে অনুমতি হইলে পাঠ করা যায়। পরে সকলেই অনুমতি করিলে শ্রীযুত গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার ভট্টাচার্য্য ঐ সভার অনুষ্ঠানপত্র পাঠ করিলেন তৎ শ্রবণ করিয়া ক্রমে সকলেই কহিলেন যে আমারদিগের দেশে এক সভা হইলে ভাল হয় এবং এ অতি উত্তম বিষয় বটে ইহাতে আমারদিগের সম্মতি আছে শ্রীযুত রাধামাধব মুখোপাধ্যায় কহিলেন আমারদিগের দেশে যে পুর্ব্বাপর সভা নাই ইহার মূল কি তাঁহার উত্তর অনেকে অনেকপ্রকার করিল শ্রীযুত রসময় দত্ত কহিলেন এই সভায় যদি কেবল বিদ্যাবিষয়ের উপায়ান্তর চেষ্টা করা যায় তবে আমি ইহার মধ্যে আছি আর যদি ইহাতে রাজসংক্রান্ত বিষয় থাকে ও আমারদিগের ধর্ম্মশাস্ত্রের নিন্দা কেহ করে তাঁহার উত্তর লেখ তবে আমি তাঁহার মধ্যে নাহি শ্রীযুত কাশীকান্ত ঘোষালেরও ঐ কথা শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর কহিলেন যে আমারদিগের ধর্ম্মশাস্ত্র নিন্দা করিয়া যদ্যপি কেহ কোন গ্রন্থ প্রকাশ করে তাঁহার উত্তর অবশ্যই লিখিতে হইবেক শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব তাঁহার পোষকতা করিলেন শ্রীযুত রামদুলাল দে কহিলেন অনুষ্ঠান পত্র ছাপা করিয়া সর্ব্বত্র প্রেরণ কর পরে বিবেচনাপুর্ব্বক উত্তর করা যাইবেক শ্রীযুত ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ সভা স্থাপন হইলে কি সুখ হইবেক বিবেচনা কর অদ্য সকলে একত্র হইয়া পরস্পর সাক্ষাৎ ও আলাপ করিয়া কি পর্য্যন্ত সুখী হইয়াছ শ্রীযুত রামজয় তর্কালঙ্কার কহিলেন যে যথার্থ এই সকল ব্যক্তির সহিত পরস্পর কাহারো এক বৎসর কাহারো ছয় মাস সাক্ষাৎ নাই শ্রীযুত কাশীনাথ মল্লিক তাঁহার পোষকতা করিলেন এই প্রকার নানা কথোপকথনান্তর শ্রীযুত রামকমল সেন প্রশ্ন করিলেন যে এ সভাস্থদিগের মধ্যে কোনহ ব্যক্তিকে সেকৃটারি অর্থাৎ কার্য্যসম্পাদক নিযুক্ত করা আবশক হয় শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব কহিলেন যে শ্রীযুত রামকমল সেনকে করা যাউক শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর ও শ্রীযুত দ্বারিকানাথ ঠাকুর তাঁহার পোষকতা করিলেন পরে সেনজী কহিলেন আমার বাঞ্ছা শ্রীযুত প্রসন্নকুমার ঠাকুর হইলে ভাল হয় পরে স্থির হইল উভয়ে সেকৃটারি হউন।

Sunday, September 1, 2013

সুতালুটির জন্ম এবং কলকাতায় ‘বসুক বা বসাকদের ইতিকথা৫, Basaks of Bengal are the Founder of Sutaluti or Sutanuti, the Old Calcutta5

ধরিতে গেলে এই শেঠ ও বসাকগণ কলিকাতার ‘জঙ্গল-কাটা’ বাসিন্দা। তাঁহারা যদি ষোড়শ শতাব্দীতে সপ্তগ্রাম হইতে – সুতালুটীতে আসিয়া বাস না করিতেন, তাহা হইলে এই কলিকাতাকে আজ আমরা প্রাসাদময়ী নগরী রূপে দেখতে পাইতাম না।
প্রাচীন কলিকাতায় যে হাট পত্তন হইয়াছিল, তাহা চণ্ডীকাব্যের বর্ণনা হইতে জানা যায় –

ধালিপাড়া, মহাস্থান,              কলিকাতা, কুচিনান,
                   দুই কূলে বসাইয়া বাট
পাষাণে রচিত ঘাট,               দুকূলে জাত্রির নাট
                   কিঙ্করে বসায় নানা হাট।।

প্রাচীন কলিকাতায় বসুকেরাই প্রথমে একটী হাট স্থাপনা করেন। চণ্ডীকাব্যের বর্ণনা হইতে দেখা যায়, কলিকাতার তখনকার হাটসমূহ হইতে হয়ত ভবিষ্যতে ‘সুতালূটী হাটখোলা’ বা ‘সুতালূটী হাটতলা’ দাঁড়াইয়াছে। তখনকার হাট সমূহ পাকা-পোক্তা ধরণের ছিল না। হয়ত উন্মুক্ত স্থানেই অনেক হাট বসিত। এই জন্য হয়ত ‘খলা-হাট’ এই আখ্যা হইতে ক্রমশঃ তাহা ‘হাটখোলায়’ দাঁড়াইয়াছে।
বেতাকীর খালের দূর্দ্দশার সহিত, বেতোড়ের হাট ক্রমশঃ শ্রীহীন হইতে থাকে। পর্টুগীজ বণিকেরাও তথায় যাতায়াত বন্ধ করিয়া দেন। বেতড়ার হাটের ধ্বংস হইলে কলিকাতার হাটের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন – সে সময়ে সুতালূটীর হাট বেশ জোরে চলিতেছিল। কারণ জব চারণক নিজেই লিখিয়াছেন – ‘চারিদল শেঠ ও বসাকেরা সপ্তগ্রামের অধঃপতনের সুচনা দেখিয়া গোবিন্দপুরে বসবাস করেন। তাঁহারা প্রথমে বেতড়ের বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন। বেতোড়ের অধঃপতনের পর সুতালূটীর হাট প্রতিষ্ঠিত হয়(The foreign market attracted native and merchant to the spot and in particular from families of Bysacks and one of Sets leaving the then rapidly declining city od Satgong came and founded the Settlement of Gobindpur and established Suttnutai market on the north side og Calcutta (Wilson, 128))।’
জব চার্ণক কর্ত্তৃক কলিকাতা প্রতিষ্ঠার প্রায় সাতাশ বৎসর পরে, এই প্রাচীন কলিকাতার যে সামান্য উন্নতি হইয়াছিল, তাহা সমসাময়িক হ্যামিল্টন সাহেবের বর্ণনা হইতে জানিতে পারা যায়।
বসুক নামক গ্রন্থ রচয়িতা বলেন, ‘সম্ভবতঃ খৃষ্টের ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্দ্ধে বসাকেরা কলিকাতায় আসিয়া প্রথম বসবাস করেন। সসাকেরা পর্টুগীজ ও অংরাজ উভয় জাতীয় বণিকদের সহিত ব্যবসায়সূত্রে লিপ্ত ছিলেন। বেতোড়ের হাটের অধঃপতনের সঙ্গে সঙ্গে, এপারে সুতালূটীর হাট জাঁকিয়া উঠে। বসুকেরা ধরিতে গেলে কলিকাতার ‘জঙ্গল কাটানো’ অধিবাসী। ১৭১৭ খৃঃঅব্দের মধ্যবর্ত্তী সময়ে – বংশবৃদ্ধির সহিত তাঁহারা প্রাচীন কলিকাতার বিস্তারিত হইয়া পড়েন।’ এ সম্বন্ধে সমসাময়িক হ্যামিল্টন সাহেব যাহা বলিয়াছেন, তাঁহার মর্ম্মারথ এই, - ‘১৭১৭ খৃঃঅব্দে কলিকাতার অবস্থা অন্যরূপ ছিল। বর্ত্তমান নগরী সেই সময়ে নদীয়া জেলার অন্তঃর্ভুক্ত কয়েকখানি ক্ষুদ্র গ্রাম ছিল। দশ বারখানি ঘর লইয়া, এক একটী ক্ষুদ্র গ্রাম। গ্রামের অধিবাসীরা অনেকেই কৃষকশ্রেণীভুক্ত। চাম্পাল ঘাটের(চাঁদপাল) দক্ষিণে এক বনভুমি। ক্ক্রমে এই বন পরিস্কৃত হয়। খিদিরপুর ও এই বনভুমির মধ্যে দুইখানি গ্রাম ছিল। এই সময়ে শেঠ ও বসাকেরা এখানকার প্রধান ব্যবসায়ী। তাঁহাদের যত্নেই এসব গ্রামে লোকের বসবাস হয় ও ইহা রকটী ক্ষুদ্র নগরীতে পরিণত হয়। বর্ত্তমান ফোর্ট উইলিয়াম(গড়ের মাঠের পার্শ্ববর্ত্তী স্থান) ও এসপ্ল্যানেডের(ধর্ম্মতলার নিকটবর্ত্তী স্থান) অধিকৃত ভূভাগেই উল্লিখিত বনভুমি ও দুইখানি ক্ষুদ্র গ্রাম ছিল। ১৭১৮খৃীঃঅব্দে চৌরঙ্গীর জঙ্গলের মধ্যে দুই একখানা গ্রামের অস্তিত্ব দেখা যায়। এই সকল ক্ষুদ্র গ্রামের চারিদিকে নালা নর্দ্দমা ও খাল। ধরিতে গেলে, এই সময় চিৎপুর হইতেই কলিকাতার একদিক ব্যাপিয়া খাল খনন করানো হয়। ইহা ‘মারহাট্টা-ডিচ’ বা ‘বর্গীর-খাত’ বলিয়া বিখ্যাত। সেরাজউদ্দৌলা যে সময়ে কলিকাতা আক্রমণ করেন, সেই সময় এসপ্ল্যানেড, চৌরঙ্গী ও ফোর্ট উইলিয়াম বলিয়া পরিচিত, ১৭৫৬খৃীঃ অব্দেও তাহা জঙ্গলময় ছিল। এই জঙ্গল সমূহের মধ্যে ক্ষুদ্রগ্রাম ও মধ্যে মধ্যে গোচারণ ভূমি।’(২৯৪ পৃ নাই)

...ইংরাজদিগের মত ওলান্দাজ, ফরাসী ও দিনেমারেরা সেথ ও বসাকদিগের সহিত বাণিজ্যকাজে লিপ্ত ছিলেন। ওলান্দাজ ও ডচদিগের আগমনে পর্টুগীজদের বাণিজ্য অনেকটা কম জোর জইয়া পড়ে। ওলান্দাজেরা খিদিরপুর হইতে শাঁকরালের খাল পর্য্যন্ত, ভাগিরথীর অংশকে গভীর করিয়া দেন। ঐ জন্য ঐ অংশকে ‘কাটি-গঙ্গা’ বলে। 

সুতালুটির জন্ম এবং কলকাতায় ‘বসুক বা বসাকদের ইতিকথা৪, Basaks of Bengal are the Founder of Sutaluti or Sutanuti, the Old Calcutta4

ভাগিরথীর একদিকে সুতালূটীর সূতার ব্যবসা ও অপরদিকে বেতোড়ের হাট। এই দুইটী হাটের বাণিজ্যের জন্যই, ভবিষ্যৎ কলিকাতার প্রাণ-প্রতিষ্ঠায় বিশেষ সহায়তা হইয়াছিল। ধরিতে গেলে, শেঠ-বসাকদিগের আগমনে বন জঙ্গলপূর্ণ গোবিন্দপুর – একখানি ক্ষুদ্র গ্রামে পরিণত হয়।
বৈষ্ণবশ্রেষ্ঠ বল্লভাচার্জই রাধাকৃষ্ণের জুগল মুর্ত্তির উপাসনা চারতে প্রচার করেন এরূপ একটী জনপ্রবাদ আছে। বলিতে পারি না, শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল-মুর্ত্তির বহুল প্রচার ইহার পুর্ব্বে হইয়াছিল কি না? বসাকেরা গোবিন্দউরে আসিবার পর, রাধাকৃষ্ণের যুগল-মুর্ত্তির প্রতিষ্ঠা করেন। সম্ভতঃ ইহা ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্দ্ধ কাল। শেঠ-বসাকদিগের গোবিন্দজী ঠাকুর, রাধাকৃষ্ণেরই যুগল মূর্ত্তি(এই মূর্ত্তি স্থাপনার প্রধান উদ্যোগী মুকুন্দরাম বসাক। মুকুন্দরামের উপাধি ‘শেঠ’ ও তিনি মৌদ্গল্য-গোত্রীয়। ১৭৫৭ খৃঃঅব্দে অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের আমলে, কোম্পানীবাহাদুর গোবিন্দপুর হইতে লোকের বসবাস উঠাইয়া দিলে, তদ্বংশজাত বৈষ্ণবচরণ তথা হইতে গোবিন্দজীকে উঠাইয়া আনিয়া, বড়বাজারে নিজ বসতবাটঈর উত্তরে স্থাপিত করেন। তদবধি গোবন্দজী এখনও তথায় বর্ত্তমান আছেন। টাঁকশালের দক্ষিণ পুর্ব্বে, বড়বাজারের জাইবার পুর্ব্বধারে, তাঁহার মন্দির আজও অবস্থিত। ...মুকুন্দরামের বংশধর বৈষ্ণবচরণ শেঠ, পরম বৈষ্ণব ছিলেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য দ্বারা প্রচুর ধন সঞ্চয় করেন। তাঁহার মত ধর্ম্মভীরু লোক সেকালে বড় কম ছিল। তেলিঙ্গানা প্রদেশের – রাম্রাজার পূজার জন্য গঙ্গাজল তিনি কলিকাতা হইতে শিলমোহর করিয়া পাঠাইতেন। বৈষ্ণবচরণের ধর্ম্মভীরুতার সম্বন্ধে একটী গল্প শুনিয়াছি। পাঠক বোধহয় শুনিয়াছেন – এদেশে একটি প্রবাদ বাক্য আছে ‘লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন।’ এই গৌরীসেন ব্যবসার সুত্রে বৈষ্ণবচরণের অংশীদার ছিলেন। বৈষ্ণবচরণ এক সমজয়ে কতকগুলি দস্তা খরিদ করেন। কিন্তু পরিক্ষসয় জানা যায় – এই দস্তারমধ্যে রূপার অংশ কিছু বেশী। বৈশণবচরণ ভাবিলেন গৌরিসেনের নামে  - দস্তা কেনায় তাহা ‘রাঙ্গের বদলে রূপায়’ দাঁড়াইয়াছে। ধররম্মভীরু, কর্ত্তব্যপরায়ণ বৈষ্ণবচরণ, ইহার বিক্রয়লব্ধ সমস্ত টাকাই গৌরীসেনকে প্রদান করেন। এই ব্যাপারে গৌরীসেন মহা ধনী হইয়া উঠেন। গৌরীসেন তাঁহার অর্জ্জিত বিপুল সম্পত্তি দান-খয়রাতে ব্যয় করিতেন। কন্যাদায়, মাতৃদায়, পিতৃদায়, দেনার দায়ে কায়েদী অধমর্ণ কিম্বা যাহারা ন্যায় পথে থাকিয়া সৎকার্য্যের জন্য ফৌজদারীতে জড়িত ও জরিমানার আসামী, তাঁহাদের জন্যই অকাতরে অর্থব্যয় করিতেন। ইহা হইতেই “লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন’ এই প্রবাদ-বাক্যের উতপত্তি। এক্ষণে এই বৈষ্ণবচরণ শেঠ সম্বন্ধে দুই একটী কিম্বদন্তী বলিব। বৈষ্ণবচরণ এক সময়ে বর্দ্ধমানের কোন মহাজনের নিকট দশাজার টাকার চিনি কিনিবার সংকল্প করেন। এই লোকটীর নাম গোবর্ধন রক্ষিত – জাতাংশে তাম্বুলী। সমস্ত মাল যখন বড়বাজারের কদমতলার ঘাটে পৌঁছিল, সেই সময়ে বৈষ্ণবচরণের কর্ম্মচারীরা মাল নামাইতে যান। তাঁহারা গোবর্দ্ধনের নিকট কিছু উপরি পাওনার লাভে হতাশ হইয়া, মনিব বৈষ্ণবচরণকে মিথ্যা করিয়া জানান, যে মাল তত সুবিধার নয় – ইহা কিনিলে লোকসান হইবে। বৈষ্ণবচরণ রক্ষিত মহাশয়কে অন্যলোক দ্বারা সেই কথা জানাইয়া বলেন – ‘আপনার মাল শুনিতেছি তত ভাল নয়, এ জন্য দাম কমাইতে হইবে।’ সেকালের লোক ধর্ম্মকে বড় ভয় করিতেন। কাজেই রক্ষিত মহাশয়, যখন এই মিথ্যাপবাদ শুনিলেন – তখন তিনি ব্যবসায়ে বদনামের ভয়ে তাঁহার চাকরদের আদেশ করিলে, - ‘চিনির নৌকা গঙ্গায় ডুবাইয়া দে। বদনাম কিনিয়া চিনি বেচিতে চাহিনা।’ তাঁহার চাকরেরা এই হুকুম পাইয়া যখন তাহা কতকটা কারয্যে পরিণত করিয়াছে, তখন এসমস্ত কথা ধার্ম্মিক প্রবর বৈষ্ণবচরণের কাঙে পৌঁছিল। তিনি তখনই আসিয়া মহাজন রক্ষিত মহাশয়কে বলিলেন – ‘আমার কর্ম্মচারীদের মুখে মিথ্যা সংবাদ শুনিয়া আমি আপনাকে সন্দেহ করিয়াছি। গঙ্গায় যে মাল ফেলিয়া দিয়াছেন, ??? আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিব না। এখন যে মাল মজুদ আছে, তাঁহার দাম পুর্ব্ব স্বত্ব মতই দিব। কিন্তু ধর্ম্মজ্ঞানে গোবর্দ্ধণও বৈষ্ণবচরণ অকেক্ষা কোন বিষয়ে ন্যুন ছিলেন না। তিনি – কোনমতেই পূরা দামে মাল বেচিতে চাহিলেন না। যে মাল নষ্ট হইয়াছিল – তাহা বাদে তন বৈষ্ণবচরণের নিকট মালের দাম চুকাইয়া লইলেন। হায় বাঙ্গালা! হায় বঙ্গবাসী!’ তোমরা দেড়শত বৎসর পুর্ব্বে সেরূপ মহত্বে ভূষিত ছিলে, আর কি সে দিন ফিরিয়া আসিবে!)। ক্রমশঃ গোষ্ঠী-বৃদ্ধি ও অবস্থার উন্নতির সহিত, এই শেঠ ও বসাকবংশীয়দের অনেকের গৃহে শ্যামরায়, মদনমোহন ইত্যাদি বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হয়।

সুতালুটির জন্ম এবং কলকাতায় ‘বসুক বা বসাকদের ইতিকথা৩, Basaks of Bengal are the Founder of Sutaluti or Sutanuti, the Old Calcutta3

সেকালে বাঙ্গলার সূক্ষ্ম-সূত্র-শিল্প, এক অপুর্ব্ব জিনিষ ছিল। ‘ঢাকাই মসলিন’ বঙ্গের অতীত গৌরবের সামগ্রী। ইউরোপের অনেক সাম্রাজ্ঞী, ভারতের মোগল বাদসাহদিগের পাটরানীগণ, বেগমগণ, এই ঢাকাই-মসলিন নির্ম্মিত পোষাক পরিবার জন্য উদগ্রীব হইয়া থাকিতেন। ঢাকার দশবার ক্রশ উত্তর পূর্ব্বে, ডুমরাও নামক একটী স্থান, অতীতকালের এইরূপ সূক্ষ্ম-সূত্র-শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখনও সেখানে অনেক তন্তুবায়ের বাস আছে। এখনও একটী প্রবাদ আছে – যে এই স্থানের সুপ্রসিদ্ধ কর্ত্তনীরা এক রতি ওজনের তুলায় একশত পঁচাত্তর হাত সূতা কাটিয়া দেন।
পাঠক! বঙ্গের এই প্রাচীন গৌরবের অস্তমিত অবস্থায়, হয়ত এ কথা বিশ্বাস না করিতে পারেন। কিন্তু তাঁহাদের বিশ্বাসের জন্য, আমরা প্রসিদ্ধ ফরাসীবণিক – টাভারনিয়ারের উক্তি, নিম্নস্থ পাদ-টীকায় উদ্ধৃত করিয়া দিতেছি(The broad BAFTAS are 1¾ cubit wide and the piece is 20 cubits long. They are commonly sold from 5 to 12 MAHAMUDIS, but the merchant on the spot is able to have them made much wider and finer and up to the value of 500 MUHAMUDIS the piece. In my time, I have seen 2 pieces of them sold for each of which 1000 MUHMUDIS were each 28 cubit. Mahamed Ali Beg while returning to Persia from his embassy to India presented CHASUFI(11) with a Cocoanut of a size of an ostrich’s egg. Enriched with precious stones and when it was opened a turban was drawn from it 60 cubits in length and of a MUSLIN so fine, that ypou would, scarcely know what it was that you had in your hand. The Queen Dowager with many of the Ladies of the Court was surprised at seeing a thread so delicate which almost escaped the view – Travels of Tavarnier(1679) vol ii p 7-8) তাঁর সারমর্ম্ম এই – ‘বাপতাগুলি পৌণে দুই হাত চওড়া ছিল। একটী থানে কুড়ি হাত কাপড় থাকিত। এই কাপড়্গুলি, ৫ হইতে ১২ মামুদিতে সাধারণতঃ বিক্রয় হইত। যদি কেহ ফরমাস করিতেন, তাহা হইলে তদ্দারা তাঁহারা আরও চওড়া ও সূক্ষ্ম বস্ত্র প্রস্তুত করিয়া দিত। তাঁহার দাম ৫০০ মামুদী পর্য্যন্ত হইত। আমাদের সময়ে আমি দেখিয়াছি, এক হাজার মামুদীতে দুই খন্ড কাপড় বিক্রয় হইয়াছে। ইংরাজ সউদাগরগণ অপরটী লয়েন। এ কাপড়্গুলি লম্বে ২৮ হাত। মহম্মদ আলিবেগ ভারতবর্ষ হইতে পারস্যে ফিরিয়া জাইবার সময়, অষ্ট্রীচ ডিমাবাকার, এক ক্ষুদ্র রত্নখচিত নারিকেল খোলের মধ্যে এক খণ্ড মসলিন লইয়া যান। পারস্য-সম্রাট’ দ্বিতীয় শাহ্‌ সুফিকে, এই অপুর্ব্ব জিনিস উপহার দেওয়াই তাঁহার উদ্দেশ্য। এই রত্নখচিত নারিকেলের খোলের মুখ খুলিবার তন্মধ্য হইতে ৬০ হাত লম্বা এক মসলিনের পাগড়ী বাহির হইল। এক মসলিন এত সুক্ষ্ম সুত্রে প্রস্তুত, যে আদৌ তাঁহার অস্ত্বিত্ব অনুভব করা যায় না, যত লম্বা মসলিন হউক না কেন – তাহার ভার অতি কম। ভরি ও রতি ইহার মাপ পরিমাণ। আমরা গল্প শুনিয়াছি, যে ঢাকাই মসলিনের একখণ্ড যদি রাত্রিকালে কোন তৃণক্ষেত্রে রাখিয়া দেওয়া যায়, তাহা হইলে সমস্ত রাত্রি শিশিরে ভিজিয়া, তাঁহার এরূপ অবস্থা হয়, যে পরদিন প্রভাতে – সূর্য্য উঠিলেও তাঁহার অস্ত্বিত্ব বোধ হয় না। বোধ হয়, যেন ঘাসের উপর একখানি মাকড়সার সুদীর্ঘ জাল বিছান আছে।’
বঙ্গের সেকালের সূক্ষ্ম-কার্পাসসূত্র – বাঙ্গালীর ভাগ্যলক্ষ্মী ছিল। অনেক টাকার সুক্ষ্মসূত্র, কার্পাসবস্ত্র ও মসলিন এ দেশ হইতে ইউরোপের হাটে উচ্চমুল্যে বিক্রয় হইত। কাটনা-কাটা এদেশে তখনকার একটা সাধারণ প্রথা। মোগলদিগের আমলে – এই কাটনা-কাটা প্রথার প্রচলন ছিল। কবিকঙ্কণের নিম্নলিখিত শ্লোকটী তাঁহার প্রমাণ – প্রভুর দোসর নাই, উপায় কে করে/ কাটনার কড়ি কত যোগাব ওঝারে।/ ‘দাদনি’ দেয় এবে মহাজন সবে/ টুটিল সূতার কড়ি উপায় কি হবে?/ দুপণ কড়ির সূতা একপণ বলে/ এক দুঃখ লিখেছিলা অভাগির কপালে!
তখন স্ত্রীলোকেরা দাদনী লইয়া কাটনা কাটিতেন। শেঠ-বসাকেরা পরবর্ত্তী কালে দাদন দিয়া কাজ করাইতেন, পরে ইংরাজ-বণিকেরাও ‘দাদনী’ প্রথা অবলম্বন করিয়াছিলেন।

সুতালুটির জন্ম এবং কলকাতায় ‘বসুক বা বসাকদের ইতিকথা২, Basaks of Bengal are the Founder of Sutaluti or Sutanuti, the Old Calcutta2

হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের, কলিকাতা সেকালের একালের থেকে

হ্যামিলটন বর্ণিত কোম্পানি কুঠী ও দুর্গ সুতালুটীর অন্তর্গত ছিল। খৃঃ ১৮২০ অব্দে ইহা ভাঙ্গিয়া ফেলা হয়। খৃষ্টীয় ১৭০০ অব্দের ২৭ মার্চ্চ পর্য্যন্ত যে সমস্ত পত্রাদি এদেশ হইতে কোম্পানী বাহাদুরের কর্ম্মচারীরা বিলাতে পাঠাইয়াছিলেন, তাহা সুতালুটী হইতে প্রেরিত বলিয়া ব্যক্ত আছে। ইহার পরের সমস্ত চিঠি পত্র যথাক্রমে কলিকাতা ও ফোর্ট উইলিয়াম হইতে প্রেরিত(Yule’s Glossery(See Chutanutty))।
এই প্রাচীন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের কিছু দক্ষিনে, একটী নদী বা খাল ছিল। ঐ খাল বর্ত্তমান ওয়েলিংটন স্কোয়ারের নিকট হইতে আরম্ভ হইয়া, চাঁদপাল ঘাটে গঙ্গার সহিত মিলিত হইয়াছিল। ১৭৯৩ খৃঃঅব্দে অপজনের ম্যাপেও ইহার উল্লেখ আছে। কিন্তু এখন ইহার কোন অস্ত্বিত্ব নাই(এই খালের বা Creek(ক্রীকের) কোন চিহ্ন না থাকিলেও, ওয়েলিংটন স্কোয়ারের পার্শ্ববর্ত্তী – ‘ক্রিক রো’ ইহার নাম রক্ষা করিতেছে। ‘ডিঙ্গাভাঙ্গা’ নামের সহিত এই খালের কোন সম্বন্ধ আছে কি না পাঠক তাহা অনুমান করিয়া লইবেন। হলওয়েল সাহেব – গোবিন্দপুরের দক্ষিণ সীমার খালের সম্বন্ধে লিখিয়াছেন – On my joining the Fleet at Fulia, I did hear he was sent to Gobindapur Creek to burn & destroy the great boats there, that they might not be employed by the enemy in the attack or persuit of the sheeps. Holwell’s Indian Tracts, 1764, p 238)। এই খাল গোবিন্দপুর ও কলিকাতা এবং সুতালুটী গ্রামের অন্তর্বর্তী সীমা ছিল। যখন গোবিন্দপুরের দক্ষিণ সীমার খাল – ‘গোবিন্দপুর খাত’ বলিয়া উল্লিখিত হইত, তখন উত্তরের এই খালটীর সম্ভবতঃ এরূপ কোন একটা নাম থাকিতে পারে। কিন্তু সে নাম যে কি ছিল, তাহা ঠিক করিয়া বলিতে পারা যায় না।
সুতালুটী, সম্ভবতঃ শেঠ ও বসাকদের আগমনের পর হইতে, খ্যাতিলাভ করিয়াছে। কিন্তু তাঁহার পুর্ব্বে কলিকাতা গ্রামের একটা নাম ঘোষণা হইয়াছিল। চণ্ডীকাব্য হইতে পাঠক দেখিলেন, অগ্রে ধনন্তগ্রাম পরে কলিকাতা, এই ভাবেই নির্দ্দেশ আছে। কলিকাতার অধস্তনকালের আখ্যা সুতালুটীর চণ্ডীকাব্যে নাই।
চণ্ডীকাব্য রচনার পর হইতে সুতালুটীর ঐরূপ আখ্যা হইয়াছে। গ্লাডউইনের ‘আইন-আকবরীতে’ ‘ওয়াশীল তুমারজামার’ মধ্যস্থ তালিকায় এই কলিকাতাই উল্লিখিত আছে। ১৫৮২ অব্দে রাজা টোডরমল্ল সমস্ত বঙ্গদেশ জরিপ করিয়া এই তালিকা প্রস্তুত করেন। আইন-আকবরীতে ১৫৯৬ অব্দে শেষ হইইয়াছে।
বসুকদিগের সুতালুটী-হাট পত্তনের ন্যুনতম শত বৎসরের পরে, অর্থাৎ খ্রীষ্টীয় ১৬৬০ অব্দে ভ্যান্ডেন ব্রুক (Vanden Broock) নামক জনৈক ওলান্দাজ, ততসাময়িক একখানি মানচিত্র প্রকাশ করিয়াছিলেন। তাহাতে (Soclanotti) বলিয়া একটী গ্রামের নামল্লেখ আছে(অনেকেই অনুমান করেন, বসাকেরাই তন্তুবায়ের কাজ করিতেন, বস্ত্র ও সূতা প্রস্তুত করিতেন। কিন্তু ‘বসুক’ নামক জাতিতে-বিচার গ্রন্থপ্রণেতা মদনমোহন বাবু বলেন – ‘বসুকেরা তন্তুবায়দিগের নিকট বস্ত্রবয়ন করাইয়া লইতেন। এই নিম্নশ্রেণীস্থ বয়নজীবিগণ’ বসুকদের নিকট কার্পাস গ্রহণ করিত এবং চরকায় সূতা কাটার জন্য তুলার পাঁজ প্রস্তুত করিত। এই সমস্ত তুলা বসুক বা বসাকদের নিকট গৃহীত হইত এবং চরকায় সূতা কাটিবার জন্য ব্যবহৃত হইত। পরে আবার সূত্র বা বস্ত্রাকারে তাহাদিগকেই প্রদত্ত হইত। এই আদান ক্রিয়ার অবান্তর সম্বন্ধ বশতঃ ঐ সকল তুলার পাঁজ ‘বসুক বা বোসকে’ নামে আখ্যাত। যে সকল স্ত্রীলোক কাটনা কাটিতেন, তাহাদিগকে ‘কর্ত্তনী’ বলিত। ‘কাটনা’ শব্দ কর্ত্তনীর অপভ্রংশ। এখনও পর্য্যন্ত কাটনা শব্দ বঙ্গদেশ হইতে লোপ পায়নাই – এবং অনেক সুদূর মফঃস্বলে কাটনা-কাটার প্রথা – বৃদ্ধা বিধবাদের মধ্যে এখনও প্রচলিত আছে। বঙ্গদেশে একটী প্রবাদই আছে – ‘কাটনা কাটনা ধন’।’)। এই সময় কলিকাতার মধ্যে সূতার ও সুতার-লুটীর বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাইতেছিল।

সুতালুটির জন্ম এবং কলকাতায় ‘বসুক বা বসাকদের ইতিকথা১, Basaks of Bengal are the Founder of Sutaluti or Sutanuti, the Old Calcutta1

হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের, কলিকাতা সেকালের একালের থেকে
বসাক বা বসুকদিগের আদি বাসস্থান আদিসপ্তগ্রাম। সপ্তগ্রামের একটী পুষ্করণী তাহাদের নামানুসারে ‘বসকা-দিঘী’ বলিয়া বিখ্যাত। সপ্তগ্রামের বাসকালে বসাকদিগের ‘বসক’ উপাধি ছিল। কলিকাতায় আসিবার পর তাহা ‘বসাকে’ পরিবর্ত্তিত হয়।(‘বসুক’ গ্রন্থ প্রণেতা মদনমোহন হালদার মহাশয় বলেন – ‘বসুক’ শব্দই বসাকদের প্রকৃত উপাধি এবং বসুকেরা বৈশ্য শ্রেণীভুক্ত। একখানি সারগর্ভ গ্রন্থ লিখিয়া তিনি ইহা প্রতিপন্ন করিয়াছেন। বসুক হইতে বসাক শব্দে দাঁড়াইয়াছে। বসুক শব্দের অর্থ ধনসম্পত্তি – ভাবার্থ – কর ও রাজস্ব। উহা বৈশ্যের বর্নগত উপাধি। আমরা এই গ্রন্থে চিরপ্রচলিত বসাক শব্দই ব্যবহার করিব। ইহা না হইলে পাঠকেরা গোলে পড়িতে পারেন।)
এই বসাকদের আবার শ্রেষ্ঠী বা শেঠ বলিয়া এক সম্প্রদায় আছেন। শেঠেরাও এই সময়ে সপ্তগ্রাম হইতে আসিয়া কলিকাতায় বাস আরম্ভ করেন।
সেকালের কলিকাতা দুইখানি গ্রামে বিভক্ত ছিল বলিয়া অনুমান করা যাইতে পারে।
কবিকঙ্কণ চণ্ডীতে আছে-
ত্বরায় চলিল তরী তিলেক না রয়/ চিৎপুর শালিখা সে এড়াইয়া যায়।/কলিকাতা এড়াইল বেণিয়ার বালা/বেতোড়েতে উত্তরিল অবসান বেলা।/ বেতাই-চন্ডিকা পূজা কৈল সাবধানে/ধনন্তগ্রাম খানা সাধু এড়াইল বামে।/ ডাইনে এড়াইয়া জ্যায় হিজলির পথ/ রাজহংস কিনিয়া লইল পারাবত।/ কালীঘাট এড়াইল বেনিয়ার বালা/ কালীঘাটে গেল ডিঙ্গা অবসান বেলা।/ মহাকালীর চরণ পূজেন সওদাগর/ তাহার মেলান বেয়ে জ্যায় মাই নগর।
শ্রীমন্ত সওদাগর কলিকাতা, উত্তীর্ণ হইয়া ধনন্তগ্রাম প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, কবির বর্ণনানুসারে, এই ধনন্তগ্রাম সেকালের গোবিন্দপুর বলিয়া বোধ হয়। শ্রীমন্ত, পরপারস্থ বেতাই-চণ্ডীকার(বেতড়া বা বেতোড় আধুনিক ব্যাঁটরা। উহা হাবড়া ষ্টেশন হইতে এক মাইল পশ্চিমে। বেতোড়া খালকে বেতাড়ির খাল বলে। উহার মোহানা আদিগঙ্গার মোহানার ঠিক সম্মুখে। পুর্ব্বে পর্টুগীজ বণিকেরা ঐ খাল দিয়া সপ্তগ্রামে যাতায়াত করিতেন। বেতাই-চণ্ডীর পূজা উপলক্ষে, সেই স্থানে অতীতকালে এক মহামেলা অনুষ্ঠিত হইত। ফ্রেডরিক সিজার নামক পুর্ব্বোক্ত সমসাময়িক ভ্রমণকারী ১৫৭০ খৃঃ অব্দে বাঙ্গালায় আসেন। তিনি বেতকীর খালে চড়া পড়িতে দেখিয়া গিয়াছিলেন। তৎপরে মুকুন্দরামের সময়ে ঐ খাল একেবারেই বন্ধ হইয়া যায়। বেতকীর খাল বন্ধ হইলে, ইংরাজ ও পর্টুগীজ বণিকেরা হুগলী যাতায়াতকালে ভাগীরথী দিয়া যাইতেন। তখন সপ্তগ্রাম হইতে আসিবার সময় গরিফা, গোন্দলপাড়া, ইছাপুর, মাহেশ, খড়দা, কোন্নগর, চিৎপুর, শালিখা, প্রভৃতি গ্রামগুলি অতিক্রম করিয়া কলিকাতা ও গোবিন্দপুরের সম্মুখ দিয়া আদিগঙ্গায় প্রবেশ করিতে হইত। ফ্রেডরিক লিখিয়াছেন – Buttor a good tides rowing before you come to Satgaw from thence upwards the ships do not go because the river is very shaloiw. The small ships go to Satgaw and there they trade.) পূজা করিয়া আদ্যগঙ্গায় প্রবেশ কালে, ধনন্তগ্রাম খানি বামদিকে দেখিয়াছিলেন। ‘ধনন্ত’ শব্দ ‘ধনস্থের’ অপভ্রংশ। ধনস্থ শব্দের সঙ্গত অর্থ – যে গ্রামে ধন আছে বা ধনীগণ বাস করেন। বসাকেরা চন্ডীকাব্য রচনার পুর্ব্বে, সপ্তগ্রাম হইতে আসিয়া গোবিন্দপুরে বাস করেন। তাঁহারা যে এই গ্রামের আদিম অধিবাসী তাঁহার আর কোনও সন্দেহ নাই। তাহাদের পরই, কালীঘাটের হালদার মহাশয়গণের পুর্ব্বপুরুষগণ ও কলিকাতা ঠাকুরগোষ্ঠীর পূর্ব্বপুরুষ, বহু পরে গোবন্দপুরে আসিয়া বাস করেন। কাপ্তেন আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন ১৭০৬ খৃঃ অব্দে অর্থাৎ জব চার্ণক কর্ত্তৃক কলিকাতা স্থাপনের ষোল বৎসর পরে গোবিন্দপুরে আসেন। তাঁহার লিখিত বিবরণে প্রকাশ, যে গোবিন্দপুর ফোর্ট উইলিয়াম-দুর্গের দক্ষিনে(হ্যামিল্টন, কলিকাতার পুরাতন কেল্লা,(অর্থাৎ বর্ত্তমান জেনেরেল পোষ্টাফিস, কষ্টম হাউস ও ই, আই, রেলওয়ে এজেন্ট আফিসের অধিকৃত স্থানে যে কেল্লা ছিল, যাহার অবস্থান ছিল লর্ড কার্জ্জন বাহাদুর – পিত্তলের লাইন দিয়া চিহ্নিত করিয়া দিয়াছেন, যাহা নবাব সিজাউদ্দৌলা আক্রমণ করেন) তাঁহার কথাই বলিয়াছেন। পুরাতন দুর্গের অস্ত্বিত্বমাত্র এখন নাই। পাঠক যেন এই পুরাতন ফোর্ট উইলিয়ামকে গড়ের মাঠের বর্ত্তমান কেল্লা বলিয়া না ভাবেন) এবং গোবিন্দপুরের দক্ষিন সীমা হইতে ঐ দুর্গ তিন মাইল উত্তরে। ১৬৯৬ খৃঃ এই ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্ম্মান সুচনা হয়।

Sunday, July 21, 2013

গ্রাম বাংলার ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প লুঠ আর ধ্বংসের ভিতের ওপর গড়ে উঠছে কলকাতা, A New Opulent Calcutta is Growing on the Loot and the Destruction of Bengal's Education, Industry & Intercontinental Trade

বাংলার শিল্প, আন্তর্জাতিক ব্যবসা আর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে, তার ওপরে গড়ে উঠছে কলকাতার কোম্পানি এবং নবজাগরিত বাঙ্গালীদের বিশাল বিশাল হর্ম্য। শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চালকশক্তি ছিল বাংলা লুঠের অর্থ আর সম্পদ। 
বাংলা লুঠের অর্থে ভারতের নানান শহরের ব্রিটিশ সরকার চলেছে, জগত জোড়া যুদ্ধ চলেছে, ব্রিটেন জোড়া শিল্প তৈরি হয়েছে এবং চলেছে, ভারত চালানোর বিশাল আমলাতন্ত্র চলেছে। 
লন্ডনের বাইরে যে শহর থেকে প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত এবং তার পরে বিশ্ব লুঠের পরিকল্পনা ছক হবে, ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত  তৈরি হবে (আজও) ব্রিটিশদের(এখন আমেরিকা আর ইয়োরোপে) স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশি শিক্ষা, শিল্প ব্যবসা ব্যবস্থা সবলে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে সে শহরটি হল কলকাতা এবং এই বিশাল বিশাল হর্ম্যগুলি। 
যে গ্রামীণদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করে এই কলকাতা গড়ে উঠেছে, সেই সব অদম্য গ্রামীণদের আভূমি প্রনাম জানালাম এইখনে।
জয় গুরু! জয় বাংলা!














সে সময়ের কলকাতার আশেপাশের নানান স্থানের ছবি, Some Photographs of Surroundings of Calcutta










পুরনো কলকাতার কিছু ছবি বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডএর তোলা, A Bunch of Old Photo of Kolkata by Bourne & Shepherd

এই ছবিগুলোর অধিকাংশই কলম্বিয়া ডট এডুর সাইট থেকে পাওয়া। এই সৌজন্য স্বীকার করে সবার জন্য এই ছবিগুলো এই প্রথমবার লোকফোকে তুলে দেওয়া গেল। এইগুলো কলকাতার বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ১৯০০ সালের আগে তোলা। এই ছবিগুলো থেকে কলকাতা শহরের বিকাশের একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। যারা এখনকার কলকাতার সঙ্গে পরিচিত আবার কয়েক দশক আগের কলকাতার সঙ্গে পরিচিত, যাদের ছোটবেলা কেটেছে ৫এর দশকেরও আগে, তাঁরা নিশ্চয়ই এই ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা কিছুটা হাল্কা হলেও মেলাতে পারবেন। হয়ত। যদিও লোকফোকএর কাজের মাত্র কয়েক অংশ কলকাতার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এবং কলকাতার উচ্ছেদমন্ডিত বিকাশকে সে কোনোভাবেই সমর্থন করেনা, তবুও কি ভাবে গ্রাম বাংলার সম্পদ আহরণ করে তার বিকাশ ঘটেছে সেটি বোঝার জন্য এই ছবিগুলো দেখা ও বোঝা দরকার। 
গ্রাম শোষণ করে শহর গড়ে ওঠে। এবং সহরিকরন এবং শিল্পায়ন এই দুটি শব্দ পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলে দেশের অযুত সম্পদ আহরণ করে কয়েকজনের কুক্ষিগত করানোর চেষ্টা করে। গ্রামীণ ভারত আজও সেই প্রচেষ্টায় আড় হয়ে রয়েছে। সেই দখলদারি পশ্চিমী দর্শনের বিরুদ্ধে আমরা, আমাদের কাজ আজও সরব। 
এইটুকুই আমাদের কথা। 












পুরনো কলকাতার/বাংলার কিছু ছবি/ফটো১

কয়েক বছর আগে সলভিনের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছিলাম। কিছু ছিল যান বাহন, কিছু ছিল বাদ্যযন্ত্র, কিছু ছিল সাধারণ পুরুষ স্ত্রীর। কিন্তু পুরনো কলকাতা বা কলকাতার বাইরের বাংলা কেমন ছিল, তার খুব একটা ধারণা নেই আমাদের। এই ছবি আর আঁকা কাজগুলো সে সময় কেমন ছিল তার জন জীবন বা পরিবেশ।
প্রথম ছবিটি ড্যানিয়েলের আঁকা, গৌড়ের দৃশ্য, ১৭৯৫ সালের,
দ্বিতীয়টি গারডেনরিচ ফ্রেড্রিক ফিবিগের আঁকা, সাল পাইনি,
তৃতীয়টি পান্ডুয়ার ছবি ১৮১৭ সালের সীতারামের আঁকা।