Showing posts with label জাকির হোসেন. Show all posts
Showing posts with label জাকির হোসেন. Show all posts

Wednesday, February 5, 2014

Mahasweta Devi and Zakir Hossain of Bangladesh, জাকিরদাদা আর মহাশ্বেতাদিদি



কলকাতায় এসে জাকিরদাদা ফোন করলেন বিশ্বেন্দুকে।তিনি বইমেলা দেখতে এসেছেন। দুর্ভাগ্য বশতঃ ঠিক এক মাস আগে তিনি ব্যক্তিগত কাজে কলকাতায় এলেও আমার সঙ্গে দেখা হয় নি। কিন্তু আমরা পরমের উপদেষ্টা মন্ডলীতে তাঁর নাম রাখতে পেরেছি।
কিন্তু পরেরদিন আমাদের মহাশ্বেতাদিদির বাড়ি যাওয়ার কথা। জয়াদি আমাদের নিয়ে যাবেন এমন কথা রয়েছে। এই কথা বলতে জাকিরদাও বললেন তিনিও যেতে চান। পরেরদিন আমি জাকিরদাকে তুলে নিয়ে গেলাম মহাশ্বেতাদির বাড়ি আর জয়াদিও এলেন ভবানীপুর থেকে। বাড়িতে ঢোকার আগেই দেখা। একসঙ্গে ঢোকা গেল। 
তারপর জাকিরদার সঙ্গে দিদি অনেক্ষন কথা বললেন। অন্য নানান কথায় জাকিরদা সঙ্গীও হলেন।
সেই সাক্ষাতকারের একমুঠো ছবি তুলে দেওয়া গেল।

পরম নিয়ে মহাশ্বেতাদিদির বাড়ি, Mahasweta Devi receives Param


সেদিন পরমের প্রথম সংখ্যা নিয়ে গিয়েছিলাম মহাশ্বেতাদির বাড়ি। একটা সংখ্যা তাঁকে দিলাম। তিনি দেখে আশীর্বাদ করলেন। বললেন এদের মাথায় করে রাখতে হবে।
সেদিন আমরা ছিলাম জয়াদি আর ঢাকা থেকে আসা নাগরিক উদ্যোগের অন্যতম সংগঠক জাকির হোসেনের সঙ্গে।
ছবিতে মহাশ্বেতাদির পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন জাকিরদা। তাঁর সামনে পরম। 

Genesis of Param4, পরমের গড়ে ওঠার ইতিহাস৪

এত সব মানুষ হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পর এখন আমরা পায়ে পায়ে দ্বিতীয় সংখ্যায় পৌঁছেছি। সব থেকে বড় আশ্রয় পেয়েছি বাংলার পাঠকদের - শহরে আর বিশেষ করে গ্রামের।

পরমের গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে - আস্তে আস্তে। বছরে ১০০ টাঁকা। বাড়িতে প্রত্যেক সংখ্যা পৌঁছে যাবে।

ইতিমধ্যে আমাদের বেশ পুরনো বন্ধু আশিসের সঙ্গে দেখা হল। ও একক মাত্রা নামে এক পত্রিকার সঙ্গে রয়েছে। এই পত্রিকাটি প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। তাকে প্রস্তাব দিলাম তাদের পত্রিকা বিতরণের সঙ্গে পরমকে জড়ানো যায় কি না। আশিস রাজি। ও তাদের বিতরকদের নাম ঠিকানা পাঠিয়ে দিল। আমরাও উত্তরবঙ্গে আমাদের কিছু যোগাযোগ যোগ করলাম। ঢাকাও যোগ হল। এই সব ঠিকানা দ্বিতীয় সংখ্যায় যাচ্ছে। পরের সংখ্যায় যাচ্ছে বাংলার বাইরের নানান ঠিকানা, যেখানে পরম যাবে।

ছোট ছোট পদক্ষেপে পরমের ব্যপ্তি ঘটে চলেছে।

আমরা বাংলার প্রাচীনতার সঙ্গে বর্তমানকেও জুড়তে চাইছি।

পরম তাই সকলের আশীর্বাদ দোয়া প্রার্থী।

Genesis of Param3, পরমের গড়ে ওঠার ইতিহাস৩

তো জেলা ঘুরে, জেলার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে মনে হল পরম  বাস্তবে রূপায়িত হলেও হতে পারে।

এই সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরোক্ষে কখনও প্রত্যক্ষে জড়িয়েছিলেন জয়াদি। তাঁকে নানানভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের পরিকল্পনা ভাবনার কথা জানিয়ে গিয়েছি। এবং বলা দরকার এরকম উতসাহ আমরা অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছ থেকে পাই নি। শুধু উতসাহ নয়, তিনি প্রথম সংখ্যায় পরমের পথরেখা ঠিক করে দিলেন। প্রথম পাতায় অসম্ভব বাঙালি লেখায় তিনি বলে দিলেন পরমের তত্ত্ব। এবং প্রত্যেক সংখ্যায় পুকুর নিয়ে একটা করে লেখা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিলেন। যে ভাবে তিনি নানান জনকে পরমের বিষয়ে বিবৃত করেছেন তা আমাদের সক্কলের কাছে শিক্ষার বিষয়। তাত্ত্বিকভাবে আমাদের দুই সংগঠন জয়াদির কাছে আসম্ভব ঋণী কেননা তাঁর সঙ্গে নানান আলোচনায় বহু সময় খুলে যেত নানান তত্ত্ব এবং প্রয়োগের দরজা। আমাদের সামনেই যে ভাবে নানান মানুষকে পরমের তাত্ত্বিক অবস্থান বলতেন তাতে আমরা অনেক পথের দিশা পেয়েছি।

পরমের পরিকল্পনা মোটামুটি পাকা হল ১৪২০র দুর্গা পুজোর সময়। মানসিকভাবে ঠিক হল কার্তিক মাসে প্রকাশ পাবে পরম। ইতিমধ্যে আলাপ হয়েছে মান্যবর  হিমাংশু হালদারের সঙ্গে। তিনি সে সময় সপ্তাহ ছেড়ে নতুন পত্রিকা জনস্বার্থ বার্তা প্রকাশের উদ্যম নিচ্ছেন। ঠিক করেছেন নতুন ইংরেজি বছরে এটি উদ্বোধন হবে। তিনি পরম স্নেহে জানালেন আমরা তাঁর পত্রিকার সঙ্গে আমাদের পরম উদ্বোধন করতে পারি। ২০ নভেম্বর এক সমারোহেও তিনি এই ঘোষণা করলেন। এছাড়াও বললেন ওদের সঙ্গে আপিসও ভাগ করে নিতে পারি।

আমরা ঠিক করলাম এই দুটি পত্রিকা একই সঙ্গে প্রকাশিত হবে। ৩ তারিখ বাংলা একাডেমি প্রেক্ষাগৃহে এই দুটি পত্রিকা উদ্বোধন হল।

এই হল পত্রিকা জন্মানো, তার নাম, বিষয় ঠিক করার ইতিহাস।

ইতিমধ্যে কলকতায় এসেছিলেন সংগঠনের আর এক পরম বন্ধু, নাগরিক উদ্যগের ঢাকার জনাব জাকির হোসেন। ঢাকায় গিয়েছিলাম ১৪২০র প্রথম দিকে। তিনি অসামান্য আতিথ্য জানিয়েছিলেন। আত্তি করেছিলেন অসম্ভব যত্নে। তাঁর সংগঠনের প্রকাশিত বই আমরা এই বাংলায় বিক্রি করছি। তিনি আমাদের তাদের ঢাকার দপ্তর ব্যবহার করার প্রস্তাব দিলেন। আমরা তাঁর প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করলাম। ঠিক হল এর পর থেকে দুই বাংলার নানান বিষয় পরমে প্রকাশিত হবে। তিনি তাঁর সংগঠনের একজনকে পরম আর দুই সংগঠনের কাজে জুতে দেবেন, যাতে প্রকাশনা এবং সংগঠন দুটিই সমান তালে একসঙ্গে চলতে পারে।