Wednesday, August 7, 2013

Indigo Cultivation2, নীলের চাষ ও ব্যবসা২

ছোট জমিদারদের কিন্তু নীল চাষের বিরধিতা ছিল।  কিশোরীচাঁদ মিত্রের লেখা থেকে এটি অনেক পরিষ্কার। জমিদারদের সংগঠন নীল চাষের বিরোধিতা করেছিল। প্যারীসুন্দরী, গোলোকনাথেরমত জমিদার স্থানিয়দের নিয়ে নীলকরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলেন, এবং এই লড়াইতে সরকার নীলকরদের পক্ষ নিয়ে জমিদারদের সায়েস্তা করে, কোথাও গম হয়ে যাওয়া জমিদারদের ছাড়াতে এলাকায় ব্যাপক অত্যাচারও নামিয়ে আনে। 
তাহলে দ্বারকানাথ-রামমোহন জুটি নীলকরদের পক্ষে দাঁড়ালেন কেন? 
১) তাঁর জীবনীকার ব্লেয়ার বি ক্লিং বলছেন  দ্বারকানাথ ছিলেন সে সময়ের দক্ষিনবঙ্গের সব থেকে বড় জমিদার-ব্যবসায়ী। সাম্রাজ্যের আর্থিক বিকাশের সঙ্গে তাঁর সংগঠনের উন্নয়নের প্রশ্ন জড়িয়ে ছিল। 
২) রামমোহন ডিগবিসহ নানান জমিদারের দেওয়ানি করে(আদতে প্রজালুণ্ঠন) প্রভুত অর্থ উপার্জন করেন। তাঁরও আর্থিক এবং বৌদ্ধিক বিকাশ নির্ভর করত সাম্রাজ্যের বদান্যতার ওপর। 
৩) সে সময় কলোনাইজেসন খুব বড় আন্দোলন। অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতে ইওরোপিয়দের জমি কিনতে দেওয়ার অধিকার অর্জনের আন্দোলন। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতটি হল, ব্রিটিশ বিশ্বে দাস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। আফ্রিকা, আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুলতঃ বাগিচা চাষী দাস ব্যবসায়ীরা ভারতে নীল চাষে পুনর্বাসিত হয়ে আসতে ইচ্ছুক। তারা জানে নীল চাষে দাস চাষের নানান নীতি কাজে লাগিয়ে নীল উৎপাদনের হার আকাশ ছোঁয়া হতে পারে।  কিন্তু ভারতে জমি কেনার অধিকার নেই। ফলে যে লাভ তারা শুধু দাদন দিয়ে করতে পারবেন, সেই লাভ অনেকগুণ বেশি হতে পারে জমির মালক হলে। তাতে সরকারি আইনি অনেক সুবিধেও পাওয়া যায়। ১৮৩৩এর সনদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাস ব্যবসা বেআইনি ঘোষিত হয়ে গেলে, এই দাস ব্যবসায়ীরা তাদের দাস খাতানর সমস্ত প্রযুক্তি নিয়ে পুনর্বাসিত হলেন বাংলা-বিহারের নীল চাষের জমিতে, নতুনভাবে নীলকর হয়ে।
এই দুই মহাতেজের(পরে এদের অনেক অনুগামীর, এবং এদের সঙ্গে সম্পর্করহিত নবজাগরণের নেতাদের) বিকাশের লেখ চিত্রটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রয়েছে, সাম্রাজ্যের অভয়হস্ত কতটা এরা নিজের মাথায় রাখতে পারছেন তার ওপর।

নিচে কয়েকটি একটি নীল ফ্যাক্টরির ছবি তুলে দেওয়া গেল





Post a Comment