Sunday, July 2, 2017

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৯ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{লুঠের কি মহিমা।
এই অংশটা পড়ুন আর দেখুন কিভাবে বাংলাকে দুয়েছে সাধারণ একজন ব্রিটিশ। এক সময় বাংলায় গভর্নর কাউন্সিলের সদস্য রিচার্ড বিচার ১৮৮০ সালে যখন লন্ডনে ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ড ধারে ডুবে যান, তখন তাকে সেই ধার শোধ করতে আবার বাংলায় পাড়ি দিতে হয়।
সাম্রাজ্য এইভাবে সাম্রাজ্য বাংলাকে দেখেছে, লুঠের সামগ্রী হিসেবে, যেখানে গেলে যথেচ্ছভাবে লুঠ করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়ে আনা যায়।
আজ নতুন করে ঔপনিবেশিক সব পাঠ পড়তে হবে, নতুন করে পাঠগুলিকে লুঠের তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
আমার সোনার বাংলাকে ছারখার করে দেওয়া বাংলার অভিজাতদের দ্বিতীয় বাড়ি এবং তাত্ত্বিক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে লুঠের সমস্ত ঘোমটা দিয়ে ঢেকে রাখা তথ্য বার করতে হবে।
এটা ছোটলোকেদেরই কাজ - তাদেরই করতে হবে - মাত্র আড়াইশ বছর দেরি হয়েছে। আর নয়।
জয় বাংলা!}

উদাহরণ দেওয়া যায় এমন নবোবরা হলেন ১৭৭০-১৭৭২ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর থাকা কেন্টের বেজব্যারির জন কর্টিয়ের, বাথের জেনারেল জোসেফ স্মিথ, এস্টন রাউনট অক্সফোর্ডশায়ারের জেনারেল জন কাইলাউড। প্রাইসএর বই দ্য স্যাডল পুট অন দ্য রাইট হর্সঃ অর আন এনকোয়ারিইন্টু দ্য রিজন হয়াই সার্টেন পার্সনস হ্যাভ বিন ডিনোমিনেটেড নবোবস থেকে জানছি, বিখ্যাত নবোবদের মধ্যে কার্টিয়ের আর জেনারেল জো স্মিথ, মোটামুটি ভারতীয়দের মতই দিন কাটাচ্ছেন, তাদের প্রখ্যাত নবোবদের সারিতে রাখা যায় না। হেস্টিংসকে স্কট বলছেন কার্টিয়ের এ বাবদে একটা উদাহরন হতেই পারে কারণ তিনি আদতে কেন্টের চাষীর বেশি কিস্যুই নন। কার্টিয়েরকে চাষী বলা একটু বাড়াবাড়িই বটে, হয়ত সেই এলাকাটায় কিছুটা গাঁইয়া পরিবেশ ছিল তাই। কিন্তু সেই সময়ের কেন্টের এক ভূগোলবিদের মতে বেজবারি ছিল পার্লামেন্টের একটি অভিজাত আসন। ক্যাপ্টেন এডোয়ার্ড স্টিফেনসন ভারতে মারা যান। তিনি তার সম্পত্তি জনৈক মিস পিচের হাতে দিয়ে যান, হয়ত মিস পিচ কোনভাবে ডিরেক্টর স্যামুয়েল পিচের আত্মীয় হবেন। তার থেকে কার্টিয়ের জায়গাটি কেনেন। তিনি বাড়িটা এবং এলাকাটার প্রচুর উন্নতি ঘটান এবং কাছেরই টুসডেন বা বার্স ফার্ম কেনেন। ১৭৯০ সালে তাঁকে বলা হচ্ছে যে তিনি সম্মানিত সাধারণ ব্রিটিশ অভিজাত যার বছরে রোজগার ২০০০ পাউন্ড... এবং তাঁর প্রতিবেশীরা তাঁকে ম্যান অব কেন্ট বলে ডাকতেন।

জনগণ তাদের যতই অবিজ্ঞ, বুদ্ধিহীন হিসেবে দেখুক না কেন কোম্পানি বা তার কর্মীরা জনগনএর এই মানিসিকতাকে বুঝেও উপেক্ষা করত। কাইলাউড এক সময় খুব গরীব অবস্থায় পড়েন। তার ৬৫০০ পাউন্ডের ইন্ডিয়া স্টক ছিল। কোম্পানি এক সময় অংশিদারদের লাভ দেওয়া কমিয়ে দেওয়ায় তার বাড়িটা ভাড়া দিয়ে, তিনি এস্টনে এসে থাকতে শুরু করলেন। ১৭৭৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টর ইন সিভিল ল উপাধি দেয়। এই উৎসবে হেনরি এবং জর্জ ভ্যান্সিস্টার্টের ভাই, অল সোলস কলেজের ড ভ্যান্সিস্টার্ট অভিনন্দন বক্তৃতা দেন।

ঔপন্যাসিক থ্যাকারের ঠাকুদ্দা উইলিয়াম ম্যাগপি থ্যাকারে মিডলসেক্সের হ্যাডলি গার্ডেনে বাস করা শুরু করেন। তার পূর্বে কাজ করা গভর্নর জন কার্টিয়ের মত তিনিও অন্যান্য নবোবদের মত উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন না করে হ্যাডলি গার্ডেনে নিশ্চিন্তে বসবাস করতেন। তিনি সপ্তাহান্তে নিজের বাগান পরিচর্যা করতেন, রবিবারগুলিতে চার্চে যেতেন এবং সাধারণ কাপড়চোপড় পরে বাচ্চাদের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় জীবন কাটিয়ে দেন। তিনি সিলেটের কালেক্টর ছিলেন এবং কোম্পানিকে হাতি সরবরাহ করে প্রচুর অর্থ রোজগার করেন।

ঔপনাসিক মা এন বিচার ছিলেন বেচারা রিচার্ড বিচারের আত্মীয়। বিচারের প্রথম চাকরির সময়কাল ১৭৪৩ থেকে ১৭৬১ পর্যন্ত ভারতে। ১৭৬৭ সালে গভর্নর কাউন্সিলের পঞ্চম সদস্য তিনি আবার বাংলায় যান। কাজে কাজে দ্বিতীয়তে উন্নীত হন এবং আবার লন্ডনে ফিরে যান ১৭৭১ সালে। স্যর উইলিয়াম হান্টারের দ্য থ্যাকারেজ ইন ইন্ডিয়া এন্ড সাম ক্যালকাটা গ্রেভস বইতে তিনি রিচার্ড বিচারের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেছেন - তিনি হয়ত একমাত্র ইংলিশম্যান যাকে ১৭৭০এর মন্বন্তরে ভুল এবং কলঙ্কিতভাবে দেখা হয়েছে। এক শতক পরে তার চিঠিপত্র এবং নানা লেখাপত্রের পাণ্ডুলিপিতে আমি একজন যুবা ব্রিটিশ এসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেটের ছবি দেখতে পাচ্ছি। সেগুলি অবলম্বন করে আমি এনালস অব রুরাল বেঙ্গলএ ভারতীয়(নয় অবশ্যই বাংলার) মন্বন্তরের আসল ছবি তুলে ধরে মন্তব্য করার সুযোগ পাই।

১৭৭৫সালে বিচার সারের ট্যান্ড্রিজের রুকসনেট কেনেন সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া জন কুকের থেকে। এই জমিদারি ছিল ৩৪০ একরের। অসাধারণ বারান্দা তৈরি করে বিপুল খরচে ধ্রুপদীভাবে প্রাসাদটি নতুন করে সাজিয়ে তোলেন বিচার। ১৬ ডিসেম্বর ১৭৮০ সালের দ্য পাবলিক এডভার্টাইজার থেকে জানতে পারছি বিচার আর তার ভাই প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার পাউন্ডের ধারের সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন। এর একমাত্র সমাধান ছিল আবার ভারতে ফিরে যাওয়া। এবার আমরা বিচারকে দেখি ঢাকা টাঁকসালের চুফ সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে ১৭৮১ সালের অক্টোবরে। ১৭৮২র নভেম্বরে তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি রুকসনেটকে একটি অছির দেখাশোনায় দিয়ে যান, তারা এটিকে কর্নেল ক্লার্ককে বিক্রি করে দেয়। ১৭৮৮তে ক্লার্কের মৃত্যু হলে এটি ক্লাইভের প্রাক্তন সচিব হেনরি স্ট্রেচির হাতে পড়ে।

স্যর হান্টারের ধারনা ছিল থ্যাকারে তার উপন্যাসে কর্নেল নিউকম্ব চরিত্রটি ভেবেছেন বিচার বা পিটার মুরের ছায়ায়। পিটার মুর ছিলেন সিলেটি থ্যাকারের হ্যাডলির প্রতিবেশি। মুর ভারত ছাড়েন প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে কিন্তু প্রায় প্রত্যেক নবোবের মতই তার ধনভাগ্য তাকে প্রতারিত করে। গোলমেলে চরিত্রের মুর বহুকাল পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। ১৮২৫ সালে তিনি প্রায় তার সব কিছু হারান, তিন বছর পরে ফ্রান্সে ৭৫ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন।

অষ্টাদশ শতকের নবাব বিরোধী মনোভাবের লেখকদের বিরুদ্ধে প্রাণমন দিয়ে স্যর উইলিয়ম কলম ধরেছেন। তাঁর ছোট্ট বইটার চরিত্রগুলি লেখকের চাপিয়ে দেওয়া দুর্গতির বিরুদ্ধে প্রাণপন লড়াই করে উঠে দাঁড়ায়। আমাদের মন খারাপ হয়ে যায় না যখন শুনি বিচার তার বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে ভাগ্য হত হন, কিন্তু তবুও তার সম্পত্তি এতটাই ছিল যে তিনি তাঁর ছোট্ট রুকসনেস্টে নবোবের চরিত্রে অভনয় করে যেতে অসুবিধে হয় নি, আর যদি পিটার মুর যদি কর্নেল নিউকোম্বের নৈতিকতাটুকু পেত তাহলে সে উল্লেখযোগ্য চরিত্র হয়ে উঠতে পারত।



হ্যালডনে রবার্ট পল্ক ডেভনের বিখ্যাতদের মধ্যে বিখ্যাততম ছিলেন। তিনি তার ভারতীয় সরকারের মতই প্রজা বৎসল ছিলেন। তিনি গাঁইয়াদের মত অভ্যর্থনামুখী, এবং শহুরেদের মত সুশীল। তিনি অভিজাতদের মত তার বরো রক্ষা করতেন। তার পুত্র সেখানেই বিবাহ করেন। একজন নবোব কিভাবে ঔজ্জ্বল্যতার সঙ্গে বন্ধুত্বকে মেশাতে পারছে সেটা পল্ককে দেখে শেখা যায়। তিনি এসবার্টন চার্চকে সুন্দরতম তিন থাকের টিক কাঠের তৈরি হেলানো গান গাইবার ডেস্ক উপহার দেন, এবং শেষে তিনি এসবার্টন চার্চকে সম্মান দিতে গোল্ডেন লায়ন ইনে একটি অভিজাত বলের আয়োজন করেন যা সেই এলাকায় মানুষের মনে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে... রাত আটতার মধ্যে বল-রুমে ৪০০ মানুষের সমাবেশ ঘটল(এর আগে এই এলাকায় এত মানুষের সমাগম ঘটে নি)। বাদ্য বাদন শুরু হলে অভিজাত মহিলাদের সঙ্গে ডিন হান্টের সদস্যরা নৃত্য শুরু করলেন... ঘরটি অসম্ভবভাবে আলোকোজ্জ্বল ছিল... চা লেমোনেড, নাগেট এবং অন্যান্য টুকরোটাকরা খাবার দাবার প্রচুর ভাবে পরিবেশিত হল... সব কিছুই অনন্যসাধারণ, প্রাচুর্য আর বৈচিত্র্যে এটি অসাধারণ ছিল...।

No comments: