Sunday, June 5, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

সপ্তম অধ্যায়
সম্রাটের বিশেষ ক্ষমতা

অন্যান্য সূত্র থেকে আরও চারটির উল্লেখ পাচ্ছি।
ত্রয়োদশ, বার্নিয়ে বলছেন, সিংহ শিকার ছিল অন্যতম বিনোদন, ‘কয়েকটি বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া, সম্রাট আর শাহজাদারা একমাত্র সিংহ শিকার করতে পারতেন’। তিনি এর একটি উল্লেখ করছেন, একটি গাধাকে টোপ দিয়ে একটি সিংহকে প্রলুব্ধ করে এনে জাল দিয়ে ঘিরে ধরে, হাতির ওপর থেকে সম্রাট তাকে গুলি করে মারছেন।
চতুর্দশ, কোন আধিকারিক, দপ্তরে বা দর্শকের দরবারে গালিচার বেশি উঁচুতে বসতে পারবে না(বাহারিস্তান অনুসারে একটি মানুষের আর্ধেক উচ্চতা পর্যন্ত)।
১৬৯৫ সালে আওরঙ্গজেব গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানতে পারলেন বাংলার সুবাদার, ইব্রাহিম খাঁ, অহঙ্কারে আর ধনগর্বে একটি চারপাইএর ওপর বসে দরবার করছেন, অন্যদিকে কাজি আর ধর্মতত্ত্বের আধিকারিকরা মেঝেতে বসছেন। সঙ্গে সঙ্গে সম্রাট সুবাদারকে একটা কড়া চিঠি লিখে নিদান দিলেন, যদি কোন রোগের প্রভাবে সুবাদার মাটিতে বসতে অসুবিধে বোধ করছেন, তাহলে তিনি যেন যত শীঘ্র সম্ভব কোন হাকিমকে দেখয়ে সেই রোগের নিদান নিয়ে নেন(হামিদুদ্দিন, আকম)।
এই আইনের কোন ব্যতিক্রম ছিলেন না শাহজাদারা। ওপরের ঘটিনার কয়েক বছর পরে, শাহ আলম, সম্রাটের শেষ বেঁচে থাকা পুত্র, ঠিক এই অভিযোগে বাবার কাছে কড়া শাস্তি পেয়েছিলেন, আমি এখানে হামিদুদ্দিন খাঁয়ের ভাষায় লিখছিঃ
কাবুল থেকে গোয়েন্দা সূত্রে সম্রাট জানতে পারলেন, মহম্মদ মুয়াজ্জম বাহাদুর শাহ, দরবার করার সময় মেঝে থেকে এক গজ ওপরে বসতে শুরু করেছেন। তাকে পাঠানো চিঠিতে সম্রাট লিখলেন,
এটা আমাদের ইচ্ছেয় শুধু আমাদের
কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে না,
সর্বশক্তিমানের ইচ্ছে প্রয়োজন সর্বক্ষেত্রেই।
তুমি কোন দিন সব থেকে উচুঁ আসন হাসিল করতে পারবে না
এই ধরণের হঠকারী কাজে...
দুটি কঠোর দন্ডধারীকে পাঠাও, যাতে তারা তাকে খোলা দরবারে তার সিংহাসন থেকে নামিয়ে দিতে সাহায্য করে আর সেই সিংহাসনকে ভেঙে দেয়।
সম্রাটের দরবারের পদ্ধতি ছিল যে, উঁচু অলিন্দকে পিছনে রেখে, হারেমের দরজার মধ্য দিয়ে তিনি দেওয়ানিআমে প্রবেশ করে, তার উঁচু ঠেসানয়ালা সিংহাসনে বসতেন, আর যখন দরবার তাঁবুতে হত, তখন তিনি ঘরের মাঝেতে সিংহাসনে বসতেন। ‘মহামহিমের সন্তান, তার নাতি, সভার ঐশ্বর্য, এবং যারা প্রবেশ করতে পেরেছিলেন কুর্নিশ করার জন্য, তারা নিজ নিজের পদ অনুযায়ী নিজেদের উদ্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে রইলেন হাত দুটি জড়ো করে’।
সম্রাট অবশ্য বিশেষ বিশেষ আদেশে তার সন্তানদের বসার অনুমতি দিতেন।
পঞ্চদশ, সম্রাট একমাত্র একাই পালকি করে জামা মসজিদে যেতে পারতেন, তার শুক্রবারের নামাজের জন্য। আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালের শেষের দিকে,শোনা গেল গুজরাটের শাসক ইব্রাহিম খাঁ, জামা মসজিদে পালকি করে গিয়েছেন, যে কাজ শাহজাদারাও বিশেষ অনুমতি ছাড়া করতে পারতেন না। তিনি সুবাদারকে লিখলেন, ‘কেন তুমি এমন কাজ কর যে গোয়েন্দারা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পায়!’
ষষ্ঠদশ, সোনায় ওজন করা(তুলা) একমাত্র সম্রাটের নিজস্ব অধিকার ছিল। কয়েকজন সন্তানকে তিনি বিশেষ অনুমতি দিতেন(আবদুল হামিদের পাদসাহনামা, তুজুকইজাহাঙ্গিরি)।
(চলবে)
Post a Comment