Tuesday, June 21, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন যদুনাথ সরকার

একাদশ অধ্যায়

ষষ্ঠ – কোন এলাকার কোন জমিতে দেখা যায়, যদি এক দশমাংশ রাজস্বও বরাদ্দ হয় নি, তাহলে, এই জমির রাজস্ব পবিত্র আইন অনুযায়ী স্থির করতে হবে। যদি রাজস্ব ঠিক করতে হয়, তা হলে, তার পরিমান এমন কিছু স্থির কর, যাতে চাষী নিঃস্ব না হয়ে যায়; এবং কোনভাবেই উতপাদিত ফসলের অর্ধেক হবে না, যদি ধরে নেওয়া যায় জমিটি এর থেকে বেশি দিতে পারে, তবুও। যেখানে জমির রাজস্ব স্থির হয়ে রয়েছে, তাকে স্বীকার করে নাও, আর যদি এটা খেরাজ হয়, তাহলে নিশ্চিত করবে, কোনভাবেই সরকারের অংশীদারি মোট উৎপাদনের অর্ধেক হবে না, তাহলে রায়ত বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে। না হলে খেরাজের পরিমান কমিয়ে দাও, আর রায়ত যতটুকু দিতে পারে তার সাধ্যমত সেই পরিমানটাই স্থির কর। বেশি নিও না।

(মন্তব্য – ষষ্ঠ দফায় যা বলা হয়েছে, সম্রাটের ইচ্ছে, রাজস্ব এমনভাবে ঠিক হবে যাতে চাষী তা শোধ করতে গিয়ে নিঃস্ব না হয়ে পড়ে। জমি সম্রাটের, কিন্তু চাষ নির্ভর করে রায়তদের দক্ষতার ওপর; আর যখন রায়ত জমি ছেড়ে চলে যায় তারা নিঃস্ব হয়, অর্থাৎ অতরিক্ত রাজস্বের দাবিতে যখন তাদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়, তখন চাষের অবস্থা কি ঘটে তা যথেষ্ট অনুমেয়। ফলে জরুরি অবস্থা অনুভব করে এই ধরণের ফরমান জারি করতে হয়েছে)

সপ্তম – তুমি স্থির রাজস্ব বললাতে পার(মুয়াজাফ) উতপন্নের অংশিদারিতে (মুকাসিমা) বা উল্টোটাও হতে পারে, যদি রায়ত এই ব্যবস্থায় স্বীকৃত হয়; নইলে তা করা যাবে না।

(মন্তব্য এক ধরণের রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে অন্য ধরণের রাজস্ব ব্যবস্থায় যাওয়ার অধিকার একমাত্র রায়তেরই আছে)

অষ্টম – নির্দিষ্ট রাজস্ব চাওয়া যেতে পারে যে কোন ফসল গোলাজাত করার সময়েই। যখন সেটি করা হচ্ছে, তখন তার কাছে রাজস্বের অংশ দাবি কর।

(ব্যাখ্যা – ফসল গোলাজাত করার সময় রাজস্ব চাইলে, রায়ত, তার ফসলের অংশ বিক্রয় করে তার দায় মেটাতে পারে। কিন্তু তার আগে যদি রাজস্ব চাওয়া হয়, তখন তাকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়, এবং সে কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে পড়ে। ফলে সম্রাটের নির্দেশ হল, চাষীর সুবিধে মত সময়ে তার রাজস্ব দাবি কর)।
নবম – নির্দিষ্ট রাজস্বের কোন জমিতে যদি চাষে কোন দুর্দশা ঘটে, তাহলে তোমাকে সেই দুর্ঘটনার অবস্থা তদন্ত করে দেখতে হবে, সত্যি অনুভব করে তার অবস্থা অনুযায়ী তুমি সিদ্ধান্ত নেবে কতটা তাকে ছাড় দেওয়া যায়। রাজস্ব আদায় করার সময় দেখবে উতপন্ন ফসলের অর্ধেকটা যেন রায়তের ঘরে থাকে।
দশম – যে সব জমিতে নির্দিষ্ট নগদি অর্থ রাজস্ব বরাদ্দ – যদি কেউ এই ধরণের জমি অকর্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখে, তার চাষ করার সুযোগ এবং কোন বাধা না থাকা সত্ত্বেও, এই জমি থেকে রাজস্ব নেবে এবং তার অন্যান্য বাজে জমি(উইলসন গ্লসারি বলছে, বাজে জমি অর্থ, নানান ধরণের কাজের উদ্দেশ্যে রাখা জমি) থেকে রাজস্ব উদ্ধার করবে। যদি জমি বন্যায় ভেসে যায়, বা অনাবৃষ্টি হয়, বা এমন কোন দুর্ঘটনা যা কৃষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে গিয়ে ফসলে প্রভাব ফেলে, এবং রায়তের হাতে কোন উদ্বৃত্তই না থাকে, যাতে সে পরের বছর আবার নতুন করে চাষ করতে পারে, তাহলে ধরে নাও যে তার রাজস্ব দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু চাষের পরে যদি কোন জমিতে দুর্ঘটনা ঘটে, যেমন জমিতে পশু ফসল খেয়ে যাওয়ার মত, যা চাষী রোধ করতে পারত, বা দুর্ঘটনার পরে যদি যথেষ্ট সময় চলে গিয়ে পরের চাষের সময় চলে আসে, তাহলে রাজস্ব সংগ্রহ করবে।
(চলবে)
Post a Comment