Friday, June 24, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

দ্বাদশ অধ্যায়

৪। চিঠির শ্রেণীবিভাগ, নাম
মুঘল সাম্রাজ্যের চিঠিগুলি নানান শ্রেণীতে পড়ত, প্রত্যেকটির আলাদ আলাদা নাম ছিল –
১। ফারমান, শুক্কা, আহকম(বহুত্ববোধক বিশেষ্য ভুল ভাবে একবচনে লেখা হয়, না এটা বহুবচনীয় মহিমাবাচক?) এবং আওরঙ্গজেবের চিঠিপত্রের একটিইমাত্র সংগ্রহ রয়েছে তার নাম রামজওয়াইশারা। এটির মানে হল, সম্রাট নিজে লিখেছেন সরাসরি, নিজের রক্তের সম্পর্কের কেউ বা প্রজা বা বিদেশি সম্রাটকে লেখা(রুকা আধুনিক বহুত্ববাদী শব্দ, তখন ব্যবহার হত না)
২। নিশান শাহজাদার চিঠি সম্রাট ছাড়া রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়কে
৩। আর্জদাস্ত (আর্জি থেকে), প্রজাদের থেকে সম্রাটকে দেওয়া আবেদনপত্র বা শাহজাদার সম্রাটকে দেওয়া চিঠি। যুদ্ধ জেতার ডেসপ্যাচের নাম ফাতনামা
৪। হাসবউলহুকুম(নির্দেশক্রমে) কোন মন্ত্রী সম্রাটের নির্দেশক্রমে নিজের হাতে চিঠি লেখা, বা তার নির্দেশ প্রচার করতে চিঠি লেখা
৫। আহকম এবং রামজ(বহুবচনে রুমুজ) – এগুলি সম্রাট পারমার্থিকভাবের কবিতার আকারে কিছু লিখিত ভাবনা চিঠিতে পরিবর্তিত করার জন্য তার সচিবকে দিতেন। আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্যের শেষের দিকে সেই লিখত ভাবনাগুলি সংরক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ চিঠিগুলি নয়
৬। সনদ, কর্ম নিয়োগ পত্র। ফরমান ব্যবহৃত হত একমাত্র দেওয়ান নিয়োগের জন্য
৭। পরওয়ানা, বিভিন্ন নিম্নপদস্থ আধিকারিকদের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনামা, মূলত আদালতের মামলা বিষয়ে
৮। দস্তক, কোথাও কিছু নিয়ে যেতে গেলে যে সরকারি ছাড়পত্র(পাস/পারমিট) প্রয়োজন হয়
৯। রুকা, ব্যক্তিগত চিঠি – বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর
(মজহরনামা এখানে যুক্ত করলাম না। এটা একটা আইন সমীক্ষা, কোন স্থানীয় জমি বিষয়ক তদন্ত বা ফৌজদারি তদন্ত সমীক্ষা, সঙ্গে জুড়ে দেওয়া থাকে বিচারক এবং সাক্ষীর উপস্থাপনার সাক্ষ্য এবং প্রমানের সংক্ষিপ্তসার। রাজওয়াদেতে মহারাষ্টের এইটির বহু নিদর্শন দেওয়া আছে।)
(চলবে)
Post a Comment