Sunday, June 26, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

প্রথম খণ্ড

৩। যুবা আউরঙ্গজেবের অভিজাতদের সম্মান

শাহ জাহানের খুব কাছের অভিজাত, পাঁচহাজারি মনসবদার আলি মর্দান খাঁ, শাদুল্লা খাঁ, বারহার সৈয়দ মীরণ, এঁদের কারোর সঙ্গে দারা খুব বিনীত ব্যবহার করতেন আবার কারোর সঙ্গে হয়ে উঠতেন খুব দুর্বিনীতও। কিন্তু এঁদের সক্কলের সঙ্গে আওরঙ্গজেবের সম্পর্ক ছিল খুব মধুর। শাহ জাহান যাকে বলতেন বিশ্বস্ত বন্ধু, সেই আলি মর্দান খাঁকে আকবর চিঠিতে সম্বোধন করছেন, সৎ কাজের মানুষ, শাদুল্লা খাঁকে সম্বোধন করছেন, প্রচুর পরিকল্পনার মন্ত্রী এবং বিনীত ছাত্রদের মাথা, বারহার সৈয়দ মীরণকে বলছেন সৈয়দদের সৈয়দ বা নবীর উত্তরপুরুষের বিশ্বের সৈয়দ বা মুহম্মদ। এই তিনজনের প্রত্যেকে এবং অন্যান্যরা যেমন আফজল খাঁ মুল্লা আলাউলমুলক, যিনি খানইসামান থেকে উন্নীত হয়েছিলেন উজির পদে, সক্কলে আওরঙ্গজেবকে অতি পছন্দ করতেন এবং তাঁর অবর্তমানে সাম্রাজ্যে শাহজাদার স্বার্থ যাতে বজায় থাকে তা লক্ষ্য রাখতেন। শাহইবুলন্দইকবাল বা দারা শুকোর কপালে দুর্দিনের চিহ্ন আর আওরঙ্গজেবের কপালে সুদিনের চিহ্ন দেখে শাহ জাহানের হৃদয় ভেঙে পড়েছিল। তিনি দারাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ভুল কাজ না করতে। কিন্তু যখন দেখলেন যে দারা শুকো তার শুভ বার্তায় কান দিচ্ছে না, তখন তিনি বললেন (কবিতা) ...যদি কোন মানুষের ভাগ্য কালো রঙে বোনা হয়, তাহলে জিমজম(মক্কার পুণ্য কুঁয়ো) বা কওসরের(স্বর্গের ঝরণা) জল দিয়ে তা ধুলেও কালো রং সাদা করা যায় না ...তিনি মনেমনে আশা করতেন আওরঙ্গজেব আভিজাতদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করুক যাতে অভিজাতরা আওরঙ্গজেবের অবর্তমানে আওরঙ্গজেবের স্বার্থ না দেখে।

একটি রাজকীয় চিঠিতে আওরঙ্গজেবকে শাহ জাহান নিজের হাতে লিখলেন, ‘বেটা, সম্রাট আর তাদের বাচ্চাদের আত্মা হওয়া উচিত সুউচ্চ এবং মনের বিকাশ হওয়া উচিত আকাশের মত। আমি শুনেছি, আমার দপ্তরের প্রত্যেকের সঙ্গে, তোমার দিক থেকে অন্তত তুমি খুবই বিনীত ব্যবহার কর। তুমি যদি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এই কাজটি করে থাক, তাহলে জানবে সব ঘটনাই সর্বশক্তিমান সাজিয়ে রেখেছেন, তোমার আত্মার নম্রভাব তোমায় কোথাও পৌঁছে দেবে না, এর বদলে তুমি শুধুই অবজ্ঞা পাবে’। এর উত্তরে আওরঙ্গজেব লিখলেন, ‘দয়া, আনুকূল্য দেখিয়ে আপনার সুমিষ্ট কলমে আপনি এই বিনীত দাসকে যা আজ্ঞা দিয়েছেন, তা আমার কাছে যেন স্বর্গ থেকে নেমে আসা দৈববানী। আপনি সত্যি সন্ত এবং আত্মার পথ নির্দেশক। এই লেখা লিখে আপনি যে সম্মান আমাকে প্রদান করলেন, সেটা প্রমান করে আপনার নিরহঙ্কারতা। কিন্তু সম্মান নির্ভর করে মালিক দাস এবং শহর আর বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা তাদের ভাগ্যে কি লিখে রেখেছেন তার ওপর। আপনি যা লিখেছেন, তার বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষমতা আমার নেই, কিন্তু আমি বলতে চাই, আমি জানি যে, শয়তানের কাজ হল মানুষের মনে সন্দেহর বীজ উপ্ত করা, সে ভূত একজন আমাদের মধ্যেই রয়েছে’।
(কবিতা)আমার পাপ খণ্ডন কর, ছাড়া আমি কিছুই বলি না/আমার পাপ ক্ষমা কর, সাদামুখে এবং কালো স্মারকে নরাধম আমি।

মন্তব্য – মুল্লা আলাউলমুলক তুনি ফাজিল(আফজল নয়) খাঁকে তৈরি করেন এবং শাহজাহান তাঁকে খানইসামান পদে বসান। আওরঙ্গজেব তাকে উজিরের পদ দেন ৭ জুন ১৬৬৩তে কিন্তু মারা যান ২৩ তারিখে। আবু হামজা আনাস ইবন মালিক ছিলেন মহম্মদের শেষ রক্ষক।
(চলবে)
Post a Comment