Monday, June 20, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

দশম অধ্যায়

রাষ্ট্রীয় কারখানা

১। উৎপাদক রাষ্ট্র

নিজের প্রয়োজনে যা কিছু পণ্য, তার সব কিছু উৎপাদন করত মুঘল রাষ্ট্র। কেননা ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দতে ভারত অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত অবস্থায় ছিল, আধুনিক পণ্য উতপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বিতরণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রাষ্ট্রের নিজের কর্মচারীদের আর প্রজাদের কথা ভেবে সরকারকে বাস্তবিকভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করার দিকে নজর দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রের উদ্যোগে কারখানা তৈরি ভারতে নতুন কোন ব্যবস্থা নয়, সমগ্র মধ্যযুগে, বাস্তব প্রয়োজনে কারখানা পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল। চতুর্দশ শতের শেষের দিকে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক যে ৩৬টি রাষ্ট্রীয় কারখানা চালাতেন, সেগুলির পিছনে বছরে মোটামুটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় হত, এবং আজকের তুলনায় টাকার কেনার ক্ষমতা ছিল অন্তত ২৫ গুণ বেশি। আফিফের তারিখইফিরোজশাহীতে এই ধরণের কারখানাগুলির ব্যবস্থাপনার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়; এছাড়া আরব ভৌগোলিক শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমেদ অল দিমিস্কি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর বয়ানে সেগুলি নিয়ে বিশদ বিররণ প্রদান করেছেন। আর ফাতিমি মিশরে প্রাসাদি কর্মশালা সম্বন্ধে বিশদে জানতে এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম পড়তে হবে।

আকবরের রাজত্বে, ষোড়শ শতের শেষে, প্রাসাদের চাহিদা ভিত্তিক কর্মশালাগুলির কাজকর্মের বিস্তৃতি ঘটে, এবং ২৫০ বছরের এই সভ্যতায় সেই পরিকাঠামোটাই প্রয়োজনীয় ছিল। সম্রাটের চামচা/তোষামুদে/পারিষদ(ইউলজিস্ট) আবুল ফজল আইনিআকবরিতে লিখছেন, সেই স্বগীয় যুগের ৩৯তম বছরে(১৫৯৫খ্রি) রাষ্ট্রীয় প্রাসাদী কারখানাগুলির পরিকাঠামো ‘শুধু যে বিপুল এক শহরের আকার ধারণ করেছে তাই নয়, একে একটি ছোটখাট রাজ্যও বলা যেতে পারে।’ এর ষাট বছর পরে বার্নিয়ে এগুলোর অবস্থা দেখে বিশদ বর্ণনা দিয়ে গিয়েছেন। দস্তুরউলআমল নামক একটি সরকারি নীতিমালা পুস্তক(ম্যানুয়্যাল) এবং সপ্তদশ শতের শেষের দিকের কিছু ঐতিহাসিক সাহিত্যেও এ বিষয়ে বিশদ বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়।
কিন্তু রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাজকর্ম সম্বন্ধে বিশদে জানতে আমাদের দুটি বিষয়কে আলাদা করে জানতে হবে যাকে আমাদের পারসিক আধিকারিকরা নাম দিচ্ছেন কারখানা, এবং এই তালিকায় রেখেছেন, ক) প্রাণীদের জন্য ভাণ্ডার, বিভিন্ন খাদ্য এবং পানীয়, রাষ্ট্র যেসব পণ্য তার ব্যবহারের জন্য কিনে প্রাসাদে রাখছে তার ভাণ্ডার, যে পণ্যগুলির ওপরে আর নতুন করে কাজ করার প্রয়োজন নেই, এবং খ) সত্যিকারের কারখানা, যেখানে রাষ্ট্রের মাইনে করা কর্মীরা পণ্য তোইরি করার জন্য নিযুক্ত হতেন।
(চলবে)
Post a Comment