Thursday, June 23, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

একাদশ অধ্যায়

সপ্তমত – প্রশাসনের প্রবর্তিত নানকির এবং ইনামএর মত রাজস্বমুক্ত অবস্থাগুলিকে সম্মান জানাও। জান আমিলেরা কি কি বাড়িয়েছে, জায়গির দেওয়ার সময়ের শুরু থেকে কি কি বাকি পড়ে আছে, দুর্দশার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবেদনে কত পরিমান রাজস্ব বাদ গিয়েছে তা দেখবে। এইসবগুলি বিচার করে, বেআইনিভাবে অতীতে এবং ভবিষ্যতে রাজস্বমুক্ত জমির পরিমান বাড়াবার বিষয়টি দেখবে যাতে পরগণার অবস্থা সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেওয়া যায়। সম্রাটের সামনে সত্য বিবৃত করবে, তাদের ভক্তি অনুযায়ী তাদের প্রতি দয়া দেখানো হবে।

অষ্টমত – খাজাঞ্চিখানায়(ফোতাখানা), ফোতাদারকে নির্দেশ দাও তারা যাতে আলমগিরি মুদ্রাই স্বীকার করে। তা যদি পাওয়া না যায় তাহলে এই বছরে বাজারে চলা শাহজাহানি মুদ্রা নেয়, এবং শুধু সিক্কা-আবওয়াব(বাটা) নেয়। ফোতাখানায় যেন হাল্কা মুদ্রা গ্রহন না করা হয়, যাবাজারে চলে না। আর যখন দেখবে অচল মুদ্রা না নিলে রাজস্ব আদায়ে দেরি হয়ে যাচ্ছে, তখন, তাদের হাতে থাকা মুদ্রা নিয়ে সত্যিকারের বাটা দিয়ে বর্তমান চালু মুদ্রা দেবে।

নবম – সর্বশক্তিমান না করুক, যদি পৃথিবী বা আকাশ থেকে কোন মহলে দুর্যোগ নেমে আসে, তাহলে আমিন এবং আমিলদের বলবে তারা যেন মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা শস্য যেন গভীর নজর দিয়ে দেখে, এবং জমিতে সমীক্ষা করে, এবছর এবং বিগত বছরের উৎপাদনের পরিমান তুলনা করে(হস্তবুদ জমা = আগের বছরের সঙ্গে এবছরের রাজস্বের তুলনা করে জমির মূল্য কত বেড়েছে তা দেখানো, এবং দুর্যোগে কি ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা), তারা কৃষকদের কত ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করবে। তুমি শুধুই চৌধুরী, কানুনগো, পাটোয়ারি বা মুকাদ্দমদের সমীক্ষার ওপর নির্ভর করে কখোনোই সরবস্তা(রাজস্ব দেওয়া থেকে ছাড়), তফরিক(বাছবিচার)এর সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে প্রত্যেক রায়ত তার অধুকার বুঝে নিতে পারে এবং কোনভাবেই যেন কুচক্রীরা লাভবান না হয়।

দশম – আমিল, আমিন, চৌধুরী, কানুনগো এবং মুতাসাদ্দিদের চাপদেবে তারা যাতে বালিয়া, আখরাজাত(অতিরিক্ত রাজস্ব দোহন), বিভিন্ন বেআইনি আবওয়াব – যেগুলি রায়তদের ভালর জন্যে করা হয়েছে, আদায় না করে। তাদের থেকে জামানত রাখবে, যাতে তারা বালিয়া বা সম্রাটের দ্বারা নিষিদ্ধ বেআইনি আবওয়াব আদায় না করতে পারে। নিজে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নেবে, এবং যদি দেখ, তোমার আদেশ এবং হুমকি উল্লঙ্ঘন করে বেআইনি কাজ হয়ে চলেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য দিয়ে সম্রাটকে জানাও, তিনি পদচ্যুত করে অন্য যোগ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত পদে বসাবেন।

একাদশ – হিন্দিকে পার্সিতে অনুবাদ করাও, বিভিন্ন রাজস্বের হার এবং ভাগ (বাচ্চওবিহরি) জান, চাষীদের কি কি ভাবে দোহন(আখরাজাত) করা হচ্ছে জান, নাম ধরে ধরে গতানুগতিক পূর্বশর্তগুলি(কাস্টমারি প্রিরিকুইসিট = রাসুমত) জান। যে কোন অজুহাতে, যে কোন কারণে যা যা কৃষকদের থেকে নেওয়া হয়েছে কোন কোন খাতে তা জান, ফোতাখানা থেকে রাজস্ব ওয়াসিলত করে যা বাকি পড়ে থাকে তা আমিন, আমিল, জমিদার এবং অন্যান্যদের দিয়ে সঙ্গতপূর্ণ করে নাও। এবং যতদূর সম্ভব পরগণার গ্রামগুলির মোটামুটি তথ্যগুলি একজোট কর। আর যদি পাটোয়ারিদের থেকে কিছু কিছু মৌজার তথ্য না পাও, তাহলে গ্রামের মোট উৎপাদন জেনে নিয়ে তা তুমারএ যোগ কর। তুমার তৈরি হলে, এবং যদি চালু পদ্ধতিতে সেটি লিখে দেওয়ান সেটি তার কাছে রাখবে। আমিল, চৌধুরি, কানুনগো, মুকাদ্দম এবং পাটোয়ারিরা যে অতিরিক্ত নিয়েছে(রসুমইমুকারার), সেগুলি ফেরত চাইবে।

দ্বাদশ – যে সব আমিন, ক্রোড়ি আর জায়গিরদার মাথা উঁচু করে আর মন দিয়ে, প্রচলিত আইন, প্রথা মান্য করে কাজ করেছে তাদের নাম দেবে – যাতে তাদের সততার পুরষ্কার তারা পেয়ে যায়। কিন্তু তারা যদি বিপরীতক্রমে কাজ করে, সম্রাটকে তা জানাও তাদের কাজ থেকেবরখাস্ত করা হবে, তাদের কাজের কৈফিয়ত চাওয়া হবে, এবং তাদের বেআইনি কাজের জন্য জরিমানা করা হবে।

ত্রয়োদশ – সব কাগজপত্র এক জায়গায় রাখার জন্য মনোযোগী হও। যে গ্রামে তুমি থাকবে, দপ্তর থেকে প্রত্যেকদিন রাজস্ব, বর্তমান দামে ধার্য করা শুল্ক আদায় কি হচ্ছে দেখ, এবং অন্যান্য পরগণায় রাজস্ব এবং নগদ আদায়ের(মজুদাত) দৈনিক হিসেবপত্র প্রত্যেক পক্ষকালের হিসেবে, এবং প্রত্যেক মাসের ফোতেদারদের খাজাঞ্চির প্রত্যেক মাসের জমা ওয়াসিল বাকি এবং মোট রাজস্বের তুমার এবং জমাবন্দি(বার্ষিক রাজস্ব বিন্দোবস্ত) এবং প্রত্যেক মরশুমে ফোতেদারদের খাজাঞ্চিখানার আর-ব্যয়ের হিসেব রাখবে। এই নথিগুলি দেখে যে সব খরচ হসেব ছাড়া করা হয়েছে সেগুলি (ফেরতের)দাবি করবে, এবং নথিগুলি কেন্দ্রিয় হিসেবাগারে পাঠাবে। বাসন্তিক আদায়ের নথিপত্র হেমন্তের আদায় করা পর্যন্ত ফেলে রেখো না।

চতুর্দশ – যখন কোন আমিল বা আমিন বা ফোতাদার কর্মচ্যুত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে থাকা কাগজপত্র চেয়ে নাও এনং তার যা পাওনাগণ্ডা বাকি আছে তা মিটিয়ে দাও। দেওয়ানের দপ্তরের আইন অনুসারে, যে যত আবওয়াব আদায় করেছে তা যেন তার থেকে আদায় করার ব্যবস্থা হয়, সে আদায় যেন হিসেবপত্র পরীক্ষায় প্রকাশ পায়। পদচ্যুত আমিলের থেকে উদ্ধার হওয়া আবওয়াবের হিসেবের কাগজ কেন্দ্রিয় কাছারিতে পাঠাবে, যাতে মানুষটির পাওনাগণ্ডার হিসেবপত্র সহজের পরীক্ষা করা যায়।

পঞ্চদশ – প্রত্যেক মৌসুমের দেওয়ানি কাগজপত্র তৈরি কর, তাতে তোমার সিলমোহর লাগাও, এবং তোমার মন্তব্য লেখ এবং কেন্দ্রিয় নথি বিভাগে তা পাঠাও।

(চলবে)
Post a Comment