Saturday, June 4, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

ষষ্ঠ অধ্যায়
আইন ও বিচার ব্যবস্থা

৬। অপরাধের শ্রেণীবিভাগ
মুসলমান বিচারব্যবস্থায় অপরাধের তিনিটি শ্রেণী
১। সর্বশক্তিমানের অবমাননা;
২। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ;
৩। ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ।
প্রথম শ্রেণীর ক্ষেত্রে নিশ্চিত শাস্তি দেওয়া হয় ‘হক আল্লা’ ভাবনায়, কিন্তু অন্য দুই ক্ষেত্রে অপরাধী ছাড়ও পেতে পারে। উল্লেখ্য, নরহত্যা সর্বশক্তিমানের তৈরি আইন লঙ্ঘন নয় বা সম্রাটের শান্তির বিরোধীও নয়, শুধু মৃত ব্যক্তির পরিবারে যে ক্ষতি হল, তা পূরণ করা যেতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছের মানুষটিকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে(বলা হল, রক্তের দাম)। এতে রাষ্ট্র প্রধান বা শরয়তি আইনের প্রধান বিচারপতি এবিষয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামান না। কিন্তু যদি মৃতের আত্মীয়স্বজন এই ক্ষতিপূরণ না নিয়ে যদি বদলার দাবি করে, তখন কাজি উদ্যোগী হয়ে মৃত্যু দন্ড দেন এবং প্রশাসন তা কার্যকর করে।

ডেভির দ্য ইন্সটিটিউট অব তৈমুরএ এই বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে, আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছেঃ-
‘ডাকাত এবং চোরেরা, যেখানেই পাওয়া যাক না কেন, আমার নির্দেশে তাদের মৃত্যুদণ্ডই পাওনা।(উল্লেখ্যঃ এই আদেশ কোরাণের বাণীর অনুযায়ী করা হয় নি)।

‘এবং আমি নির্দেশ দিচ্ছি, কেউ যদি কারোর সম্পত্তি বলপূর্বক দখল করে, তাহলে দুর্বিনীতর হাত থেকে সেই সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে দুর্বলকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

‘অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে – দাঁত ভাঙা, চোখ উপড়ে নেওয়া, নাক বা কান কাটা, মদ সেবন করা বা অগম্যাগমন – যে কেউই করুক না কেন, তাকে ধর্মীয় বিচারকের(সঠিক শব্দ কাজিইইসলাম এবং কাজিইআহদাস – আহদাস মানে, ‘অনুষ্ঠানের পবিত্রতা’ এবং হয়ত আহজাব – পীড়ন শব্দটি ব্যবহার হতে পারত) আদালতে নিয়ে আসতে হবে; এই ধর্মীয় বিচারকেরা ঠিককরবেন, কোন শারার ধারায় এই মামলাটি জোতা যায়, আর কোন ধারায় তিনি বিচার করতে পারেন না(উরফি বাসাদ মানে অধর্মীয় বা সার্বজনীন আইন) তা তদন্ত করতে হবে এবং সেটি বিচারক আমার সামনে আনবেন।’

(ইসলামি আইন আলোচনায় একটি কথা বলা দরকার, রাজপথে তস্করির সাজা কাজি দিতে পারেন, তার জন্য সম্রাট বা প্রশাসনের অন্যান্যদের কাছে আসার প্রয়োজন হত না। সিংহাসনে ওঠার পরে পরেই, আওরঙ্গজেব দুর্বৃত্তদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার জন্য ৫০০ ডাকাতের গর্দান নেন(স্তোরিয়া)। তবে তার সাম্রাজ্যের শেষের দিকে তাঁর ক্ষমতার আওতা বিষয়ে তিনি মত পাল্টে সঠিক শরিয়তি আইনএর অনুগামী হয়ে ছিলেন। তাঁর অন্যতম প্রধান সেনাপতি রাজপথের ডাকাতের মুণ্ডচ্ছেদ করায়, তিনি তাকে সেন্সর(ভর্তসনা?) করেছিলেন, এবং আগামী দিনে এধরণের মামলা কাজির আদালতে বিচারের জন্য নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(চলবে)

Post a Comment