Saturday, June 25, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

দ্বাদশ অধ্যায়

৫। সরকারিভাবে ফরমান লেখা আর স্বাক্ষরের আঙ্গিক

শাহজাহানের সময়ের সরকারি বিশ্লেষক, আব্দুল হামিদ লাহোরি এ বিষয়ে লিখছেন, ‘দেওয়ানি খাসে সম্রাট তাঁর নিজের হাতে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন, সভায় থাকা অভিজাতদের বিভিন্ন আধিকারিক, উকিল যে সব চিঠি তাঁর সামনে জমা দেন সেসবের জবাবও তিনি নিজের হাতে লেখেন; বা বহু সময় সুবাদারদের সম্রাটকে লেখা ডেসপ্যাচ(আরিজা-খোয়াঁ) পড়ার জন্য নির্দিষ্ট আধিকারিকেরা সেই সমস্ত চিঠি পড়লে মৌখিকভাবে সম্রাট তাঁর আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সচিব ফরমানটি লেখেন। তাঁর খসড়া তাঁকে দেখানো হয়, তিনি কিছু কিছু যায়গা ঠিক করে দেন বা ভাব, ভাষা বদলে দেন।
‘যে সব শাহজাদাকে রিসালার(মধ্যস্থতার) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারা তাঁর বক্তব্য বা রাসালাতুন, ফরমানের পিছনের পিঠে লিখতেন, এবং নিজের সিলমোহর লাগাতেন। তাঁর তলায় দেয়ান ফরমানটি তাঁর হাতে এসে পড়েছে, লিখে সিলমোহর করতেন(এই মন্তব্য ছাড়া যে কোন ফরমানের কোন ব্যবহারিক মূল্য থাকত না, আওরঙ্গজেবের রাজত্বের শেষের দিকে এটা সুরাটে ব্যবসা করা ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলেন)। এর পরে ফারমান হারেমে পাঠানো হত যাতে সাম্রাজ্ঞী তাঁর আউজাক সিলমোহর লাগাতে পারেন’।

আওরঙ্গজেবের পদ্ধতিটিও প্রায় একই ছিল, এটা আমরা পাচ্ছি তার সময়ে লেখা ইত্যহাস আলমগিরনামায়, ‘বিখ্যাত অভিজাতদের জন্য লেখা কিছু চিঠির মুখড়ায় সম্রাট, তাঁরপ্রতি সম্রাটের দয়া আর আশির্বাদ আছে বোঝাতে, অথবা সেই ফরমানে লিখিত বিষয়টির সমধিক গুরুত্ব বোঝাতে নিজের সিলমোহর সহ প্রাপকের নাম ও ঠিকানা নিজের হাতে লিখতেন, ...আর এটা তিনি করতেন চিঠি মৌলিকত্ব সম্বন্ধীয় যে কোন সন্দেহ নিরসনের জন্যও’।

খসড়ার পরে মূল বয়ানটি, সোনার ধুলো ছড়ানো কাগজে বড় এবং সুন্দর ছাঁদের অক্ষরে লেখা হত, সিলমোহর করা হত, তাকে গোটানো হত, সোনার সুতোর বয়ন করা সরু কাপড়ে তা মোড়া হত, সেই থলেটার মুখটি রঙ্গিন সুতো দিয়ে তাঁর ওপর গলানো মোমের ওপর উজিরের সিলমোহর মেরে সেটি বাঁধা হত। এই থলেটির নাম হত খারিতাস। এ ধরণের বহু ফরমান জয়পুরের প্রাসাদে সংরক্ষিত আছে।

এবারে সিলমোহর। সম্রাটের নামাঙ্কিত গোল ছোট সিলমোহরের নাম আউজাক, শুধু ব্যবহৃত হত সরমানইসিবতি অর্থাৎ উচ্চশ্রেণীর আমলাদের নিয়োগের, বা জায়গিরের দৈনন্দিন হাত খরচের পরিমান লিখতে। মাঝে গোল করা সম্রাটের নাম লেখা বড় সিলের কাজ ছিল বিভিন্ন বৈদেশিক সম্রাটকে চিঠি লেখার জন্য, পরে তা ব্যবহৃত হত যে কোন ফরমানে। গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় নির্দেশ লিখতে ব্যবহার করা হত ফরমানইবায়জি নামক একটি সিল। অন্য সব পরওয়ানা, ফরমান এবং বারাতএ প্রথমে উজির এবং পরে বিভিন্ন নিম্নস্তরের আধিকারিকদের বহু সিলমোহর লাগানো হত।
(চলবে)

Post a Comment