Tuesday, June 21, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

একাদশ অধ্যায়

ঔরঙ্গজেবের রাজস্ব নীতি

১০৭৯ হিজরা(১৬৬৯খ্রি)য় গুজরাটের শাসক, মহম্মদ হাসিমকে দেওয়া আওরঙ্গজেবের ফরমান

অনুবাদ

বর্তমান এবং আগামীর আধিকারিকেরা এবং হিন্দোস্তানের প্রত্যেক কোনার রাজস্ব আদায়কারী কর্মচারীরা (আমিল), ধর্মতাত্বিক আইন এবং পরম্পরা অনুসারে বরাদ্দ রাজস্ব এবং অন্যান্য(বকেয়া) আদায় করবে-

তারা যেন প্রত্যেক বছর নতুন ফারমানের দাবি না করে, এবং মনে রাখে, এই কাজে যদি কোন বিলম্ব এবং নীতি উল্লঙ্ঘন হয় তবে তা বিশ্বে তাদের বেইজ্জিতির সমান হবে।

প্রথমত – তারা চাষীদের প্রতি দয়াশীল থাকবে, তাদের অবস্থা জানবে, এবং পরিস্থিতি বিচার করে এবং সুকৌশলে তাদের সঙ্গে কথা বলবে যাতে তারা হাতের কাছে পড়ে থাকা উর্বর চাষের জমি চাষ করে(চিঠির পাড়ে যে মন্তব্য রয়েছে, তা হল, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখানো এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় চাষের জমির আধিক্য বাড়ে। এবং এই বন্ধুত্বের সুবাদে তুমি কখোনোই কোন প্রথাতেই বরাদ্দ হারের বেশি দাম বা দিরহাম চাইবে না। কোনভাবেই যেন একজন সাধারণ রায়ত নিগৃহীত এবং উতপীড়িত না হয়। এই বিষয়ে যিনি ব্যবস্থাপনা করছেন, তার উচিত রায়তের অধিকার রক্ষা করা এবং এই আদেশ সুবিচার মত প্রয়োগ করা’।

দ্বিতীয় – বছরের শুরুতেই প্রত্যেক রায়তের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নাও, দেখা তারা চাষ করছে না হাত গুটিয়ে বসে আছে। যদি তারা চাষ করে তাহলে তাদের সঙ্গে সুমধুর ব্যবহার করবে এবং দয়া দেখাবে; এবং যদি তারা কোনভাবে কোন উপকার চায় তাহলে সেটা করার চেষ্টা করবে। এবং খোঁজখবর করে যদি দেখ ভাল বৃষ্টি হওয়া এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা চাষ না করে বসে রয়েছে, তাহলে তাদের প্রথমে বকাঝকা করবে, এবং প্রয়োজনে শক্তিপ্রয়োগ করবে। যেখানে রাজস্ব অপরিবর্তির হারে ধার্য করা হয়েছে (খরাজইমুয়াজ্জাফ), সে এলাকার কৃষকে জানাও যে তারা চাষ না করলেও তাদের থেকে রাজস্ব আদায় করা হবে। তুমি যদি মনে কর যে সে চাষের নানান উপকরণ কেনার অবস্থায় নেই, তাহলে তাকে সেটা করার জন্য, তার থেকে বন্দকী চেয়ে রাষ্ট্রর তাকাভি ঋণ দেবে।

(মন্তব্য – দ্বিতীয় মন্তব্যে এটা পরিষ্কার রাষ্ট্র মনে করত চাষীর একমাত্র কর্তব্য হল চাষ করা এবং তাদের চাষের উৎপাদন থেকে রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট পরিমান রাজস্ব দিয়ে তারা নিজের ভাগ রেখে দেবে। যদি তাদের চাষের উপকরণের অভাব থাকত তাহলে তারা তার জন্য সরকার থেকে তাকাভি পেতেন, কেননা দেশের (জমির) মালিক সম্রাট, তাই চাষী যদি সহায় সম্বলহীন হয়ে চাষ না করতে পারে, তার প্রতিকার করার দায়িত্ব সম্রাটের। সম্রাটের ইচ্ছেই চূড়ান্ত। আর প্রথমেই হুমকি দেওয়া, মারধোর করা বা আরও বলপ্রয়োগ করার বিরুদ্ধে যুক্তি হল, জমির মালিক রাজা দয়া আর সঠিক বিচার দেন – এবং তাই দেশের নিয়ম আর প্রথা অনুযায়ী চাষী যতটা পারা যায় জমিকে কর্ষণ করে উৎপাদন করবে। এটা রাষ্ট্র এবং রায়ত, উভয়ের পক্ষেই উপযোগী।)

তৃতীয় –মুদ্রায় নির্দিষ্ট পরিমানে খাজনা বিষয়ক – যদি কৃষক সত্যিই জমি চাষ করতে উদ্যোগী না হয়, এবং প্রমান হয় যে সে এতই গরীব যে চাষ জমি ফেলে পালিয়ে গিয়েছে, সেই জমি চাষের জন্য অন্য কাউকে পাট্টায় দাও, আর সে যদি পাট্টাদার হয় তার থেকে রাজস্ব নাও আর জমির মালক হলে তার উৎপাদনের অংশ নাও। আর যদি কোন উদ্বৃত্ত বাঁচে তা তার মালিককে ফিরিয়ে দাও। না হলে অন্য একজন মালিক খুঁজে বার কর, যে রাজস্বও দেবে একই সঙ্গে নিজের জন্য উদ্বৃত্ত তৈরি করতে পারবে। আর যদি আগের চাষী চাষ করার উপযুক্ত হয়ে ওঠে, তাহলে তাকে তার জমি ফিরিয়ে দেবে। আর যদি কোন চাষী তার জমি ফেলে পালিয়ে যায়, তাহলে এই বছর বাদ দিয়ে আগামী বছরের জন্য সেটি পাট্টা দাও।
(মন্তব্য – পাট্টা দেওয়া, সরাসরি চাষের জন্য চাষীর প্রতি আস্থা, পাট্টাদারের থেকে পাট্টার ফসল নেওয়া, রা সরাসরি চাষ থেকে অর্ধেক উৎপাদন নেওয়া আর অর্ধেক মালিককে দেওয়া; মালিক অর্থে জমির নয়, চাষের উৎপাদনের মালিক, সে যদি জমির মালক হত, তাহলে সে জমি ছেড়ে পালিয়ে যেত না, সে জমিকে বিক্রি করে দুভাবে অর্থ রোজগারের চেষ্টা করত, ১) সরকারি রাজস্বের দায় ক্রেতার ওপর চাপাতে, ২) devoting the sale-proceeds of his owner’s right to the removal of his own needs। আর পুরোনো মালিকের বদলে নতুন মালিক প্রতিস্থাপন করার অর্থ, মালিকের উত্তরাধিকারীই সেই জমির অধিকারী, এটাই মালিকানার প্রাথমিক স্বত্ত্ব। এখানে প্রতিস্থাপনকারী মানে হল উৎপাদনের মালিকানার দাবিদারের প্রতিস্থাপনকারী। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি পতিত জমি হাসিল করে, সরকারি অনুমতিতে এবং সরকারের নির্দেশিত রাজস্ব দানে অঙ্গীকৃত হয়ে সেই জমিতে চাষ করে, সে কিন্তু সেই জমির সত্যিকারের ভাড়াটে(টেনেন্ট), কেননা সে পতিত জমিটি উদ্ধার করেছে। সত্যিকারের মালক হল এমন ব্যক্তি যিনি মালিকানা প্রতিস্থাপন করতে পারেন, অর্থাৎ সম্রাট। একটা প্রবাদবাক্য আছে লাঠি যার জমি তার(হুজএভার ওয়েল্ড দ্য সোর্ড, কয়েন আর স্টাম্পড ইন হিজ নেম)। উতপাদনের অর্ধেক মালিককে দাও, এক বছর পরে জমিটি অন্য কাউকে পাট্টা দিও না, এর মানে, খরাজইমুয়াজ্জফ বা সেই বছরের নির্দিষ্ট পরিমান রাজস্ব সেই জমির উতপাদনশীলতা বা বন্ধ্যাত্বর ওপর যখন নির্ভরশীল নয়, তখন সেই চাষী নগদে রাজস্ব মেটায়। সম্রাট যেহেতু প্রশ্রয়দাতা এবং একই সঙ্গে বিচারদাতাও, তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন আধিকারিকরা আরও এক বছর অপেক্ষা করতে পারে(যদি সেই পালিয়ে যাওয়া চাষী আবার ফেরত আসে, আর যারা জমি সরাসরি বা পাট্টদার হিসেবে চাষ করছে, তাদের থেকে রাজস্ব আদায়ের পর যা পড়ে থাকে, তা তাদের দিয়ে দিতে।)
(চলবে)
Post a Comment