Sunday, June 5, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

ষষ্ঠ অধ্যায়
আইন ও বিচার ব্যবস্থা

১৪। মুদ্রা যারা জাল করে তাদের প্রথমবার তাজির এবং তহদিদ দিয়ে ছেড়ে দিতে হিবে। কিন্তু এটি যদি তার পেশা হয়, তাজির করে তাকে গ্রেপ্তার করবে যতদিন না সে অনুশোচনা না করে। সে যদি এই পেশা ছেড়ে না দেয় তাহলে দীর্ঘদিনধরে কারাগারে রাখবে।
১৫। কেউ যদি তাদের থেকে ঝুটো মুদ্রা কিনে তা সোনার মুদ্রা বলে চালাতে চায়, তাহলে তাকে ১৪ অনুযায়ী শাস্তি দেবে।
১৬। না জেনে কেউ যদি ঝুটো মুদ্রা ব্যবহার করে, তার থেকে সেটি নিয়ে নষ্ট করতে হবে।
১৭। কেউ যদি কিমিয়াবিদ্যায় পারদর্শী হয়, এবং অন্যান্যদের সম্পত্তি লুঠ করে, তাজির করে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ কর যতদিননা সে অনুশোচনা করে
১৮। কেউ যদি গোপনে কাউকে বিষ পান করিয়ে মৃত্যু ঘটায়, তাজির করে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ কর যতদিননা সে অনুশোচনা করে
১৯। কেউ যদি চালাকি করে অন্যের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ছিনিয়ে নেয়, যতক্ষণতা সে স্ত্রীকে স্বামীর কাছে, পুত্র-কন্যাকে তাদের পিতার কাছে পৌছে দিচ্ছে, বা তার মৃত্যু পর্যন্ত এই কাজটি না করতে পারছে, তাকে প্রমান সহ কারাগারে নিক্ষেপ করবে। এর মাঝে যদি স্ত্রী বা সন্তানের মৃত্যু হয়, তাহলে দুষ্কৃতিকে কঠোর তাজির করবে এবং তাকে মুক্তি দেবে বা তাশ-হির করবে এবং নির্বাসন দেবে। কুটনীদের কড়া শাস্তি দিতে হবে এবং তাদের কারারুদ্ধ করতে হবে।
২০। ছক্কা হাতে জুয়াড়িদের তাজির আর গ্রেপ্তারিই শাস্তি। সেটি যদি পেশা হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের জন্য কারারুদ্ধ করে রাখতে হবে। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে বা অছির কাছে রাখতে হবে।
২১। ইসলামি শহরে বা গ্রামে মদ্য বিক্রেতাকে পেটাতে হবে। যদি তাতে কাজ না হয় তাহলে দীর্ঘদিনের জন্য কারারুদ্ধ করে রাখতে হবে।
২২। কেউ যদি মদের ভাটির মালিকের থেকে মদ কিনে বাজারে বিক্রি করে, সে যদি রাজসভায় আসার যোগ্যতা না রাখে(রু-সিনা), তাকে পিটিয়ে এবং জেলে ঢুকিয়ে শাস্তি দাও। কিন্তু সেটা যদি তার পেশা হয় তাহলে সম্রাটকে জানিয়ে তাকে উদোম পেটাও এবং মদের ভাটিটা ভেঙে দাও আর ভাটির মালিককে গ্রেপ্তার কর।
২৩। বুজা, ভাং এবং এধরণের মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি দিতে হবে, আর যদি সে এই কাজ নিয়মিত করে যায় তাহলে যতদিননা তার অনুশোচনা জাগে তাকে কারাগারে বন্দী করবে।
২৪। যদি কেউ, কাউকে জলে ডুবিয়ে, কুঁয়োয় ফেলে, পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে বা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে, তাহলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করবে এবং মামলা চালাবে যতদন না মৃতের আত্মীয়রা তার কারণ জানতে না পারছে, তার পর তাকে দিয়া বা ধর্মীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানার শাস্তি দিতে হবে। আর যদি সেই কাজ দুবার করে তাহলে তাকে সিয়াসত করবে।
২৫। যদি কোন দুষ্কৃতি কারোর বাড়ি প্রবেশ করে অপরাধের জন্য, তাকে শাস্তি দেবে এবং অনুতাপের সুযোগ করে দেবে।
২৬। কেউ যদি সুবাদারের সামনে কারোকে মিথ্যে অভিযুক্ত করে তার সম্পত্তি ধ্বংস করে, তাহলে প্রমান সহ তাকে সিয়াসত করতে হবে, যদি এটা তার পেশা হয়। না হলে তাকে শাস্তি দেবে এবং জেলে ভরে অনুতাপের সুযোগ করে দেবে, আর যে সব সম্পত্তি সে নষ্ট করেছে, সেগুলি ভর্তুকি দিতে হিবে।
২৭। যদি কোন জিম্মি(পুরুষ বা স্ত্রী) কোন মুসলমান(পুরুষ বা স্ত্রী)কে তার দাস করছে, বা ইহুদি বা খ্রিস্টান ছাড়া কোন জিম্মি মুসলমান মহিলা বা মুসলমান জিম্মি মহিলাকে দাস করছে তাহলে সেই অপরাধীকে কাজির সামনে আনিতে হবে এবং ধর্মীয় আইন অনুযায়ী তার বিচার করতে হবে।
২৮। যখন বারবণিতা, দুষ্কৃতি, পায়ুকামী, মাতাল, প্রলোভনকারী, ধর্মত্যাগী, বিদ্রোহী কাজির রায়ের বিপক্ষে যায়, মহিলা চাকর বা দাস তাদের মালিকের আশ্রয় থেকে পালিয়ে মহাজনের কাছে আশ্রয় নেয়, এবং দেওয়ানি অধিকারিকের সামনে পবিত্র আইনে বিচার চায়, তুমি কাজির নির্দেশ মেনে কাজ কোর।
২৯। যখন কোন হত্যাকারীর হত্যাকর্ম পবিত্র আইনের বিচার সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়, তাকে কারারুদ্ধ করবে এবং সমস্ত বিষয় সম্রাটের সামনে পেশ করবে।
৩০। কারোর পুত্রকে খোজা করার অভিযোগে অভিযুক্ত মানুষটিকে কারাদন্ড দেবে যতদিননা সে অনুশোচনা করে।
৩১। যদি কোন সাম্প্রদায়িক নেতা(রইস) নতুন ধর্মে(বিদাত) অন্যদের নিয়ে আসার চেষ্টা করে, এবং যদি দেখা যায় সেই বিধর্ম ধর্মর অনুগামীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, তাকে গ্রেপ্তার করে সিয়াসত করবে।
৩২। ফৌদদার এবং অন্যান্যরা যেসব গ্রেপ্তার হওয়াকে সুবাদারের কাছে পাঠাচ্ছে, কোন সময় না নিয়েই তাদের বিষয়ে তদন্ত করবে, আর যেসব মামলা রাজস্বসংক্রান্ত, সেগুলিকে সেই দপ্তরে পাঠাবে, এবং তাদের সেই শুল্ক তাড়াতাড়ি প্রদান করতে বলবে। আর অন্যদের তাদের মামলার যুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাবে। প্রত্যেক মাসে একবার অন্তত কাছারি এবং পুলিশ চবুতরার মামলাগুলি দেখাশোনা করবে। যারা নির্দোষ, তাদের মুক্তি দেবে, অন্যদের তাড়াতাড়ি মামলা মেটানোর চেষ্টা করবে।
যখন কাউকে পুলিশ, রাজস্ব দপ্তর বা ব্যক্তিগত অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালের চবুতরায় আনা হয়, কোতোয়াল ব্যক্তিগতভাবে সবক’টি মামলা নিজে তদন্ত করবে, কোন অভিযোগে তাদের আনা হয়েছে। যাদের নির্দোষ পাওয়া যাবে তাদের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। কারোর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তকে সেই মামলা নিয়ে আদালতে এগোতে নির্দেশ দেবে। যদি কারোর বিরুদ্ধে রাজস্ব দপ্তরের মামলা চলে, তাহলে বিষয়টা সুবাদারের নজরে আনবে, সুবাদারের নির্দেশে সনদ তৈরি করবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবে। কাজি কাউকে কারাবন্দীর আদেশ দিলে কাজির স্বাক্ষরিত নির্দেশনামাটি তোমার সঙ্গে রাখবে, এবং ব্যক্তিটিকে কারারুদ্ধ করবে। কাজি যদি মামলার দিন ঠিক করেন, সেই তারিখে বন্দীকে আদালতে পেশ করবে, অন্যথায় বন্দীকে রোজ আদালতে পাঠাবে যাতে তার মামলাটি তাড়াতাড়ি বিচারের জন্য ওঠে’। (মিরাটিআহমেদি বলছে, ফরমানের বহু অংশ কীটদষ্ট হয়েছে, বোঝা যাচ্ছেও না’। আমি এটি যেমন দেখেছি, তেমনই অনুবাদ করেছি। এতে সে সময়ের সামাজিক রীতিনীতিগুলি এবং ইসলামের বিচারের ধারণাটি অনেকটা ফুটে উঠেছে।)
(চলবে)
Post a Comment