Friday, June 3, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার




পঞ্চম অধ্যায়

করব্যবস্থা



৩৪। শস্য বিক্রেতা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িকদের থেকে নতুন পৌঁছনো আধিকারিকদের উপঢৌকন (পেশকাশ), কোথাও বানজারাদের থেকেও(মিরাট জুড়ছে, ফৌজদার এবং ক্রোরিরা এবং পরগণার কর্মচারীরা, সবরমতি এবং ওয়াতার্ক নদির তীরে বসবাস করাদের থেকে জোর করে ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে কাছারি তুলত’। আবার বলা হচ্ছে, ‘আমেদাবাদের কোন গৃহস্থ বাড়ির কোন গাছ কাটিতে গেলে শুধু গাছ নয়, তার ডালও কাটতে বাধা দিত যতক্ষণনা তিনি তাদের কিছু দিচ্ছেন।’
৩৫। ছুটির কর(রুখসাতানা) – রাজ সভা থেকে কারোর বাড়ি কোন চিঠি নিয়ে গেলে তার জন্য বার্তাবাহক কিছু দাবি করত,
৩৬। দুর্গের দরজার পাহারাদার কারোর থকে কিছু গ্রহন করতে পারবে না। মিরাট লিখছে, ‘আহমেদাবাদ এবং তার শহরতলীর(পুরা) পাহারাদারেরা দুর্গের মধ্যে ঢোকা বা বেরোবার সময় গরুর গাড়ি, বলদের ঝাঁক, আর মাথায় ভার নিয়ে প্রবেশ করাদের থেকে কিছু না কিছু পারিতোষিক পেত।
৩৭। গরীবেরা বা চাষীরা যখন আহমেদাবাদ বা তার পুরায় গরু নিয়ে আসত বিক্রির জন্য, তাদের থেকে দুবার আদায় করা হত – প্রথম আমদানি শুল্ক(আমদানি) আর দ্বিতীয়বার বিক্রির ওপর রাষ্ট্রের বরাদ্দ কর। আর তারা যদি সেটিকে বিক্রি করতে না পারত, ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইত, তা হলে আধিকারিকরা তাদের থেকে রপ্তানি শুল্ক চাইত।
৩৮। শস্য ভর্তি বা অন্য কিছুতে ভরা গাড়ি যখন শহর ছাড়ত, প্রতি গাড়ির জন্য, ছাটির করের নাম করে চবুতরার(পুলিস দপ্তর) আধিকারিকরা ২ টাকা দাবি করত।
৩৯। পাটনে প্রত্যেক আখ বা কলা ভর্তি গাড়ির জন্য ৫ টাকা দাবি করত, এবং আম, কলা বা আখের জন্য চার শতাংশ দাবি করত(তালিকা পাঠ বলছে চহর সাদ, আমি পড়লাম সাদ চহর)।
৪০। বজরার ডান্ডির জন্য তারা প্রত্যেক গাড়ি থেকে এক আঁটি আর জ্বালানি কাঠের জন্য পাঁচ সের। আর যদি এগুলি মাথায় বয়ে নিয়ে যাওয়া হত, তাহলে তারা চার বাদাম দাবি করত(মিরাট বলছে – বাদাম ব্যবহার হত কড়ির মত করে – বিনিময় মাধ্যম ছিল – ১০০ বাদাম = ১ আনা)
৪১। চুঙ্গি ঘোস্ত(না চাউকি ঘোস্ত?) মাংসে পুলিসের ভাগ(মিরাট বলছে কোতোয়ালি চবুতরায়)
৪২। প্রধান প্রশাসক মালিকের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তির বাড়ি, মসজিদ, দোকানে যাবে না(আকবর ও জাহাঙ্গিরের দ্বারা নিষিদ্ধ করা - এলিয়ট)
এবং ৪৪। শিশু সহ কোন নিম্নবর্ণের হিন্দু যখন নিম্নবর্ণের কোন বিধবা(ধারিচা)কে বিয়ে করে তখন কর দিতে হয়(আমার মনে হয় শিশু জন্মের ওপর নিশ্চই কোন কর ছিল না, কিন্তু কিছু কিছু জমিদার তাও লুটে নিত)
৪৫। সম্রাটের বরাত দেওয়া পণ্য বা ফল যদি রাস্তায় নষ্ট বা হারিয়ে যায়, তাহলেও সেটির ওপরে কর চাপানো হত!
ঘ। ব্যবসায়ীদের পেশাগত ও পঞ্জীকরণ কর
মুহাতরফা নামক একটি মাথট(পোল ট্যাক্স) ধার্য করে প্রত্যেক কারিগরদের জন্য। এটি বহুবার আওরঙ্গজেব নিন্দা করেছেন
৪৬। কসাই-কর। গরু, ছাগল ইত্যাদি বধ করে তার মাংস বিক্রির জন্য কর ধার্য হত। মিরাট লিখছে – ‘প্রথমে গরু কেনার জন্য কর চাপানো হত, তার পর কসাইখানায় তাদের হত্যার পরও অতিরিক্ত মাথাপিছু দেড় টাকা কর আদায় করা হত – ফলে গুজরাটে মাংসের দাম খুব বেড়ে যায়- ১৬৬৫ সালে আওরঙ্গজেব করা নির্দেস দেন, ‘মাউলাদ বা অন্য কোন উতসবের জন্য কোন গরু বা মোষ বিক্রি হয়, তখন হিন্দু ব্যবসায়ীদের থেকে ৫ শতাংশ এবং মুসলমানেদের থেকে আড়াই শতাংশ কতয়ালি চবুতরায় আদায় করা হচ্ছে; এছাড়া এদের থেকে বিপদে ফেলা যাবে না’।
৪৭। পেয়াদা বা যারা ডান্ডা বহন করে(না ধান্ধা?)
৪৮ এবং ৪৯। কতন-ড্রেসার আর আখমাড়াইকরেয়া নতুন এলাকায় এসে যখন ব্যবসা সুরু করে তখন তাদের থেকে আড়াই টাকা আদায় করে আধিকারিকরা।
৫০। কারিগরি শেখার জন্য। ‘কেউ যদি তাঁত বা অন্য কোন কারিগরি শিল্প শেখার উদ্যোগ নেয় তাহলে তাকে স্থানীয় প্রশাসনকে ‘কারিগরি শিক্ষা কর’ দিতে হত।
৫১। ছাদ দেওয়া এবং পাহারাদারদের থেকে
৫২। কাপড় রাঙ্গানোর জন্য কর(মিরাট বলছে মদ তৈরি করার কাজে কলসদের থেকেও০
৫৩। মড়োলি কর, উত ভাড়ায় নেবার জন্য
৫৪। গ্রামের সবজি বাজারে বসার জন্য মোড়োলকে দস্তুরি
৫৫। ছদ্মবেশীরা, যারা বিভিন্ন বিয়ের মত উতসবে মনোহরণ করে, তাদের প্রাপ্য সব কিছু কেড়ে নাও(আওরঙ্গজেব কাশ্মীরে এ ধরণের সমস্ত উৎসব নিষিদ্ধ করেন)
৫৬। দালালদের/সরকারি দালালদের থেকে কর আদায় করা
৫৭। আগ্নেয়াস্র তৈরি করেন যারা তাদের থেকে কর
ঙ। বাধ্যতামূলক চাঁদা, উপহার এবং সেবাঃ-
৫৮। বেগার, ‘গুজরাটের শহরে ও গ্রামে শ্রমজীবীরা আর কারুশিল্পীরা খুব দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন
৫৯। জোর করে কাটিয়ে নেওয়া বা ঈদ উতসবেপ্রদীপ জ্বালানো
৬০। শবেবরাত, দেওয়ালি এবং আশুরার আলো জেয়ালানোর জন্য
৬১। ভেট বকরা। জমিদার, প্রশাসককে তাদের বেড়াতে আসার জন্য ভেড়া বা অন্যান্য কিছু উপহার দেওয়া, এই খরচ তুলে নেওয়া হয় চাষীদের থেকে, জমিদারদের দালাল মার্ফত।
এই আবওয়াব বাংলায় উনবিংশ শতের শেষের দিক পর্যন্ত চলে ছিল।
মিরাট সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে ১৬৮২তে আওরঙ্গজেব আরও একটা ফারমান জারি করতে বাধ্য হন যেখানে তিনি মালবা, ভেট, বালাদাস্তি, তহশিলদারি, সাদির এবং অয়ারিদ খতম করতে নির্দেশ দেন – এগুলি নিচে বর্ণনা করা হল –
মালবা – বিভিন্ন উতসবে জনগনের থেকে আদায়। উত্তর পশ্চিম প্রদেশগুলোতে বিভিন্ন সার্বজনীন উতসবে খাওয়াবার জন্য, ফকিরএর সম্মানে ভোজের জন্য, নিচু শ্রেণীর পুলিশ বা রাজস্ব কর্মচারীকে অর্থ দেওয়ার জন্য, সার্বজনীন কাজে পশু বা গাড়ি দিয়ে ক্ষতি হলে তা পূরণ করার জন্য, গ্রামের আশেপাশে দৌরাত্ম্য চালানোর জন্য ভর্তুকির খরচ, উতসবে আসা নাচনি, গায়ক এবং বাজিগরদের জন্য খরচ, ধর্মীয় উৎসব বা পার্বনে খরচ, মোড়োলের বা গ্রামের প্রখ্যাত ব্যক্তির শেষকৃত্যের খরচ – মোটামুটি ভয়মিরাজস্বের ১২ শতাংশের কাছাকাছি
বালাদাস্তি - ??।
তহশিলদারি – রাজস্ব আদায়কারীর গ্রামীনদের থেকে আদায় করা বেতন,
সাদির ওয়া ওয়াদির ০ গ্রাম থেকে বা রাস্তায় যাওয়া মানুষদের ওপর চাপানো অতিরিক্ত কর।
চ। হিন্দুদের ওপর কর
৬২। গঙ্গা বা অন্যান্য পুন্যস্থানে স্নান করার কর। এলাহাবাদে প্রত্যেক পুণ্যার্থীর থেকে ৬টাকা চার পয়সা নিত(সূত্র স্তোরিয়া...)।
৬৩। মৃত হিন্দুর পোড়ানো দেহাংশ গঙ্গায় ফেলতে আসার জন্য কর। জিজিয়া মা মাথট পরে চালু হয়েছে।
মিশরে রাজস্ব আদায় হত বিভিন্ন বেআইনি ছোট ছোট একচেটিয়া করে(লেন-পুলের হিস্ট্রি অব ইজিপ্ট)
Post a Comment