Friday, June 17, 2016

দেশিয় চাষ উদ্যোগ - রঙ্গীন তুলো চাষ
















রোবরারে সরকারি কর্মচারীরা কোন নতুন উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের প্রাণিত করে বৈঠক করছেন, এমন উদ্যোগ এই কয়েক দশকে সংগঠন করার সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন সময়ে অন্তত দেখি নি।
বাঁকুড়ার ড্রাইল্যাণ্ড রিসার্চ স্টেশনএর প্রধান, ড সঙ্গীত শেখর দেব এবং ফুলিয়ার ধান্য গিবেষণাগারের ড অনুপম পাল ঠিক এ রকম দুজন মানুষ যারা নিজেদের ছু্টির কথা না ভেবেই ডেকে নিয়েছিলেন উইভার্স আর্টিজান এন্ড ট্রাডিশনাল আর্টিস্টস গিল্ডকে বাঁকুড়া কৃষি ভবনে গত রোববার, ২৯ বৈশাখ, ১২ জুন, দশহরার গঙ্গা পুজার তিন দিন আগে।
কয়েক বছর ধরে গিল্ডের অন্যতম সদস্য বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ ফুলিয়ায় অগ্রণী তাঁতি, হরিপদ বসাকের নেতৃত্বে চরকায় সুতো কেটে, প্রাকৃতিক রঙে ছুপিয়ে ঠকঠকি তাতে বুনে কাপড় সফলভাবে বিক্রি করছে নীলাম্বরী, শ্বেতাম্বরী, রক্তাম্বরী আর পীতাম্বরী শাড়ি আর থান।
কিন্তু সাম্প্রতিক কালে কৃষিবিদ অনুপম পাল জানালেন, আমরা সুতো তৈরিতে যে তুলো ব্যবহার করছি, তা সব বিটি তুলো, মানে জিন প্রযুক্তির উদ্ভাবিত তুলো। তো তিনি বলছিলেন, যদি আমরা চাই তা হলে তিনি দেশি তুলো আমাদের জন্য জোগাড় করে দেবেন।
বিনা বাক্যক্যয়ে তার প্রস্তাবে সম্মত হই। তার পরে তিনি আমাদের জন্যই ড দেবের নেতৃত্বে বাঁকুড়া শহরে এই কর্মশালাটি আয়োজন করান।
আরও আশ্চর্যের সেই বৈঠকে তিনি উপস্থিত করান ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার সুন্দরপাহাড়ির আরও এক আশ্চর্যের মানুষ সৌমিক চৌধুরীকে, যিনি অনুপমদার মত বহু আশ্চর্য ধান এবং শষ্য বীজ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করেছেন - যার মধ্যে রয়েছে দেশি তুলো বীজ - আরও আশ্চর্যের সেগুলি রঙ্গীন - একটি গেরুয়া অন্যটি খাকি। এ ছাড়াও আগামী বছর বলিভিয়া থেকে তিনি আরও তিনিটি রঙের বীজ এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
সেই সঙ্গে জানা গেল আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - ভারতে এখন দেশি তুলো বীজের চাষ প্রায়ই বন্ধ হয়ে গিয়েছে - যে ভারত বিশ্বের একচতুর্থাংশ তুলো উৎপাদন আজও করে, সে তুলোর মধ্যে ৯৯.৯৯ শতাংশই বিটি তুলো - অর্থাৎ কোম্পানি থেকে চাষীকে প্রত্যেক বছর বীজ কিনতে হয় এবং আমরা যে তুলোর জামাকাপড় পরি তা সব বিটি তুলোর তৈরি - এবং প্রত্যেক বছর চাষীরা কোম্পানিকে রয়্যালটি দেয় কয়েক শত কোটি টাকা - সব থেকে বেশি বা ভাল তুলো আর বাংলায় হয় না, হয় মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক আর গুজরাট রাজ্যে।
তো বাংলার  বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু চাষী এসেছিলেন বাঁকুড়ায় - তাঁদের মধ্যে ঠিক হল আপাতত বাঁকুড়ার ছাতনায় এবং সোনামুখীতে সাদা তুলো হবে, বর্ধমানের আউসগ্রামে আর নদিয়ার চাতরায় হবে রঙ্গিন তুলো চাষ। গিল্ডের পক্ষ থেকে তাঁদের জানালাম তাঁরা যে তুলো চাষ করবেন, সেই তুলো কিনে নেব আমরা।
আমরা পরমএর ষষ্ঠ সংখ্যায় তুলেছিলাম বাংলায় কত ধরণের তুলো চাষ হত ব্রিটিশ আমলেও, পলাশীর কিছু পরের সময়ে। এবং ইংলন্ডের তুলো কাটা যন্ত্রের সুবিধের জন্য বাংলার ছোট আঁশের তুলো ধ্বংস করে আমেরিকায় এবং মিশরের লম্বা আঁশের তুলো চাষ শুরু হয়।
ধন্যবাদ সেই চাষীদের যারা কোন সরকারি অনুদান ছাড়াই এবং গিল্ডের মুখের কথায় রাজি হয়ে গিয়েছেন দেশি তুলো চাষ করতে। কোন শা... বলে চাষীদের মধ্যে উদ্যমের অভাব, গবেষণার অভাব রয়েছে? সেই দিনের বৈঠকটা না করলে আমাদেরও কত কিছুই অজানা থেকে যেত।
তো সেই বৈঠকের কিছু ছবি।
সঙ্গে গেরুয়া রঙের তুলোর ছবি সৌমিকবাবুর হাতে।
বাকি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা সেদিন জানা গেল, সিদ্ধান্ত হল, সেগুলো পরে হবে...
Post a Comment