Thursday, June 2, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

পঞ্চম অধ্যায়
করব্যবস্থা
৭। আমিন আর কানুনগো
আমিনের শাব্দিক মানে হল মধ্যস্থতাকারী, সালিশি করার পদাধিকারী বা অছি ইত্যাদি। তার দপ্তরের কাজ হল, রাষ্ট্রের রাজস্বের দাবি আর রায়তের দেওয়া রাজস্বের মধ্যে বিবাদের সালিশি করা।
ম্যানুয়্যাল অব দ্য ডিউটিজ অব অফিসার্স(৬৩-৬৫পাতা) আমিনের কাজ সম্পর্কে লিখছেঃ-
‘আমিনকে বিধিনিয়ম(যাবিতা) গুলে খেতে হবে, তাঁকে সৎ এবং কুশলী ব্যক্তি হতে হবে এবং প্রত্যেক বিষয়ের গুণমান(ভাল অথবা মন্দ) সম্বন্ধে জানতে হবে। আইন আনুযায়ি সে মূল্যায়ন(মুশাক্কখস) করবে, যাতে রাষ্ট্রের অর্থ কেউ যাতে চুরি না করতে পারে।
‘আমিনের কাজ হল রাজ্যে কৃষি জমির পরিমান বৃদ্ধি করা। চাষের মরশুম শুরু হওয়ার আগে কানুনগোর থেক একটি নির্দিষ্ট এলাকার আগের দশ বছরের রাজস্বের বিশদ বিবরণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, ক্রোরি, চৌধুরী, কানুনগো এবং জমিদারদের সঙ্গে গ্রামগুলিতে ঘুরে বেড়াতে হবে, গ্রামের হালহকিকত জানতে হবে, গ্রামের চাষের জমির মোট পরিমান, হালের সংখ্যা, এবং কানুনগোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তার পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে নিতে হবে, আর যদি কানুনগোর হিসেব বেশি হয়, তাহলে তার কৈফিয়ত দাবি করতে হবে, এবং যদি কম হয় তাহলে গ্রামের মোড়লকে ডেকে বলতে হবে, ‘কানুনগো কেন মিথ্যে হিসেব দিল বা মোড়ল কেন মিথ্যে বলছে’।
‘তদন্ত করে দেখ, গ্রামে যত হাল রয়েছে সেগুলি গ্রামের মোট জমি চাষ করতে পারবে কি না। যদি মনে হয় অভাব রয়েছে তাহলে চাষযোগ্য জমির পরিমান বুঝে তাকাভি, বা কৃষি ঋণ বরাদ্দ কর, যাতে তারা বলদ বা মোষ কিনতে পারে, এবং মোড়লকে এই বিষয়ে তমসুক(একধরণের বণ্ড যেখানে চৌধুরীর প্রতিস্বাক্ষর থাকবে, কাজির পাঞ্জার ছাপ এবং প্রত্যায়িত করতে হবে আমিন আর জমিদারকে) লিখিয়ে নিতে হবে যে পরের বছরের কৃষি উৎপাদনের অংশ থেকে যেন ঋণের প্রথম কিস্তি শোধ করে, এবং ক্রোরির থেকে এই রকম ঋণ উদ্ধারের আরেকটা মুচলেকা লিখিয়ে নিতে হবে।
আমিনের নিয়োগ পত্রের সনদে বলা হয়েছেঃ-
‘তোমার কাজ সম্পূর্ণ করবে সততা এবং সত্যবাদিতার মাধ্যমে। কৃষি এলাকা আর বসতি বাড়াবার কাজ করবে তুমি। তোমার এলাকায় যে রাজস্ব আদায় হল তা ফোতেদারের ঘরে পৌঁছে যাবে(খাজাঞ্চিখানায় তখনও জমা না হওয়া)। ক্রোরিকে নিজের হিসেব অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করে তা ফোতেদারের দপ্তরে জমা করতে বলবে।
‘রায়ত যে অর্থ ফতেদারকে দেবে তার জন্য একটা অস্থায়ী কাগজ, চিঠা, তোমার পাঞ্জায়, ফোতেদারের স্বাক্ষরে তাঁকে দিতে হবে। এই চিঠায় থাকবে কত দিনের রাজস্বে সেই ঋণটি শোধ হবে(বেবাকি) এবং এই চিঠা অনুযায়ী আদায়ের হিসেব সম্পূর্ণ করবে। বালাদাস্তি বা তহশিলদারির মত আবওয়াব আদায় করবে না, কেননা এগুলি সম্রাট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। চৌধুরী আর কানুনগোকে এই ধরণের কোন আদায় করতে নিরুতসাহ করবে।
‘যে সব কাগজ আমিন আর ক্রোরি দেওয়ানের দপ্তিরে জমা দেবে, তার বিশদ বিবরব দেওয়া হয়েছে ম্যানুয়েলে।’
কানুনগো হলেন সেই সময়ের আইনে(কানুন)র চলন্ত অভিধান বিশেষ, যিনি অতীতের নানান কার্যপ্রণালী, নানান নজির, জমির ইতিহাসের মহাফেজখানা বিশেষ। আইনিআকবরি তার সম্বন্ধে বলছে, কৃষকের শেষ খুঁটি।
তারা গ্রামস্তরের রাজস্ব আধিকারিক, তারা গ্রামের সমস্ত তথ্য, যেমন কার কত জমি এবং তার রাজস্ব কত, তারা একটি তথ্যগ্রন্থ রাখবে, যেখানে মূল্য, ভোগদখল, পরিসর/ব্যপ্তি(এক্সটেন্ট), এবং জমির হস্তান্তরের সমস্ত তথ্য থাকবে, সে জমির মাপ এবং জরিপের কাজে সাহায্য করবে, রাজস্ব প্রদানকারীর জন্মমৃত্যু এবং উত্তরাধিকারীর সমীক্ষা পেশ করবে, এবং প্রয়োজনে স্থানীয়দের বিভিন্ন আইন-কানুন, স্থানীয় প্রথা ইত্যাদি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দেবে; তাদের ভরণপোষণের জন্য রাজস্বমুক্ত জমি প্রদান করা হবে এবং বিভিন্ন বৃত্তি আর ভাতা আর আবশ্যপূরণীয় কিছু শর্ত দেওয়া হবে।
ম্যানুয়েলে নতুন কানুনগোকে বলা হচ্ছেঃ
তোমার নথিপত্রের ওপর নির্ভর করার সুবাদে সরকার এগিয়ে চলবে। তোমার দপ্তর কাগজের বিভাগ(তাকসিম) এবং তারতম্যের(মুয়াজানা) ইত্যাদির...। প্রত্যেকটার নকল রাখবে – একটি তোমার বাড়িতে অন্যটি দপ্তরে(তোমার গোমস্তার অধীনে), যাতে বন্যা বা আগুণ লাগলে অন্যটি পাওয়া যায়।
(চলবে)
Post a Comment