Tuesday, March 6, 2018

ইওরোপিয়রা জানত শণির ৫টি চাঁদের কথা - ভারতীয়-আরব-পারসিক জ্ঞানচর্চা জানত ৭টা

ইওরোপিয়রা জানত শণির পাঁচটি চাঁদের কথা
শণির সাতটি চাঁদের অস্তিত্ব জানত ভারত-আরব-পারস্য জ্ঞানচর্চা
তবু ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চা আনার দাবিতে আলালেরা হাহাকার করে মরেছি
সঙ্গের ছবিটি ১৭৮৩ সালে মাদ্রাজ থেকে টমাস ডিয়ানে পার্সির রয়্যাল সোসাইটিকে পাঠানো শনির চিত্র - তাঁর হাতে নকল। সূত্র ত্রয়োদশ শতকে বাগদাদের জাকারিয়া ইবন মহম্মদ অলকাজভিনির পুঁথি। 
এতে শনির সাত হাত দেখানো আছে, এক হাতে রাজমুকুট ধরা।
পার্সির বক্তব্য ছিল যে এই পুঁথি অনুযায়ী শণির ছটি চন্দ্র একটি বলয় আছে। সে আরও বলে পাঠায় যে সে যুগে নিশ্চই টেলিস্কোপ ছিল, নাহলে তারা জানল কি করে; যেখানে সে সময় ইয়োরোপীয়রা মাত্র পাঁচটা চাঁদের অস্তিত্ব অবগত।
১৭৮৯এ উইলিয়াম হার্শেল প্রতিফলিত বিপুলাকার দূরবীনের সাহায্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম চাঁদটি আবিষ্কার করেন।
Simon Schaffer, Lissa Roberts, Kapil Raj, James Delbourgo-The Brokered World থেকে
মন্তব্যগুলি
Irpic Teeten সমস্যা হচ্ছে ১৭০০ সালে ইউরোপিয়রা শনিকে গ্রহ হিসাবেই জানত (পৃথিবী যেমন), আর আমরা মনে করতাম শনি একটি দেবতা যা বিভিন্ন হাতে বিভিন্ন জিনিস ধরে আছে (ইদুর, ত্রিশুল, বাকিগুলো চিনতে পারছি না)। জানি না হাতের সংখা কিভাবে উপগ্রতের সাথে মিলে গেছে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ্ই জানায় আমাদের কি লাভ হয়েছে? আপনার স্ট্যাটাস মতে এটি ১৩ শতকের। এর পর কেটে গেছে ৫০০ বছর ব্রিটিশরা এই অঞ্চল দখল করার আগে। আমাদের বিজ্ঞান কতটুকু আগিয়েছে। আর ইউরোপিয়রা এর মধ্যে টেলিস্কোপ আবিস্কার করেছে এবং একে একে সমস্ত উপগ্রহ,গ্রহ আরো তারা নক্ষত্র এর নিখুত হিসাব বের করেছে। এতকিছু বলার একটিই উদ্দেশে, যে জ্ঞানের কোন ধারাবাহিকতা বা আপডেট নেই, তা বদ্ধ জলাশয়ের পচা পানির মতোই মানুষের কোন কাজে লাগে না। ভারত একসময় ইউরোপ থেকে উন্নত সভ্যতার অধিকারী ছিল, অনেক মহান আবিস্কার এ অঞ্চলে হয়েছে, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। অন্যদিকে ওরা এগিয়ে গেছে। বাস্তবতা স্বীকার করে নেয়া ভাল তাতে ভবিষ্যতের দিশা পাওয়া যায়।
পরিচালনা করুন
বিক্রম আশ কেন হারিয়ে গেল তা জানার জন্যই তো এত সন্ধান!!
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের হাতে সহস্র বছরের বহুধাবিস্তৃত জ্ঞান ধ্বংসের কারণেই আমদের মনে হয় আমাদের জ্ঞান ছিল বদ্ধ জলাশয়। কারণ এত দিনে নির্মাণ হয়ে গেয়েছে ঔপনিবেশিক জ্ঞানচর্চার ডিসকোর্স!!
কীভাবে ভাবতে হবে
 কীভাবে তত্ত্বায়ন করতে হবে তা ঠিক করে দেবে ঔপনিবেশিক প্রভুরা।
এই ব্যবস্থার বিনির্মাণ না হলে আমারা কোনদিন আমাদের সমৃদ্ধ অতীতের সঙ্গে সংযোগ স্হাপন করতে পারব না।
বিশ্বেন্দু বাবু সেই কাজটাই করে চলেছেন পরম অধ্যবসায় আর যত্ন নিয়ে। এইজন্য তাঁকে শতকোটি প্রণাম!!
পরিচালনা করুন
Biswendu Nanda বিক্রম আশ ওপরের পশ্চিমি ধরণের কুৎসার উত্তর দিই না। জ্ঞান হারিয়ে যায় নি, আমরা আমাদের জ্ঞান থেকে হারিয়ে গিয়েছি। আমরা পশ্চিমের প্রকাশভঙ্গীতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি, নিজের জ্ঞানচর্চার শেকড় থেকে উপড়ে গিয়ে।
প্রত্যেক জ্ঞানচর্চার নিজস্ব ধারা, প্রকাশভঙ্গী আছে নানা
ন ঐতিহাসিক কারণে যেটা বোঝা দরকার। ভাষা, শব্দ ইত্যাদি কিভাবে কোন কৃষ্টিতে ব্যবহৃত হত তা বোঝা দরকার। 
আর এটা তথাকথিত হিন্দু জ্ঞানচর্চা নয় - এটা বিপুল বিশাল ভারত-আরব-পারসিক জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য, যাকে ইওরোপ হিন্দু জ্ঞানচর্চা হিসেবে দাগিয়ে দিয়েছে। 
গোটা ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চা দাঁড়িয়ে আছে লুঠ হয়ে যাওয়া, স্বীকার না করা বিপুল এশিয়, লাতিন আমেরিকিয় এবং আফ্রিকিয় জ্ঞানের ওপর। আধুনিক ইওরোপ এই জ্ঞানকে কেন্দ্রিভূত করে পুঁজির লাভ বিকাশে আর মানুষ নিয়ন্ত্রণ আর সম্পদ লুঠে কাজে লাগিয়েছে - যেটা অতীতে এরা করে নি। এটাই ইওরোপের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার জ্ঞানচর্চার পার্থক্য।
পরিচালনা করুন
Arindom Duttaroy একদম ঠিক ধরেছেন irpic এই সময়ের পরেই মুশলমানরা প্রবেশ শুরু কর এতদ্ অঞ্চলে....জ্ঞান চর্চাকে ধ্বংশ করার কাজ শুরু করে তারা....এরপর পুরোটাই হাতে নেয় ইওরোপিয়রা.....
পরিচালনা করুন
Möhaiminul Islam আরবরা তো মুসলমান-ই ছিলো। আর আমি তো জানতাম মুঘল বা তার আগে-পরের মুসলমান শাসকরা জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ দিতেন 😶😶
পরিচালনা করুন

No comments: