Sunday, January 7, 2018

কাঁথার দর্শন



কাঁথা অবশ্যই অন্তঃপুরের অসাধারণ বাঙ্গালি মহিলাদের অসাধারণ দক্ষতা প্রকাশ করে। কিন্তু সেটাই সব নয়,কাঁথা সে সময়ে অন্তঃপুরের মহিলাদের বাপের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ির আঞ্চলিক, স্থানিক পরিচয়, অন্তর্নিহিত জীবনদর্শন, অসাধারণ বিশ্ববীক্ষণ, বিকেন্দ্রিত দর্শনের প্রকাশ। কাঁথা পরিবার, সমাজ, সংসার সব্বাইকে নিয়ে অদম্যভাবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার দর্শন। কাঁথা আক্ষরিক অর্থে মহিলাদের দীর্ঘ কালের অপৌরুষেয় জ্ঞানচর্চার গল্প, তাদের দীর্ঘকালের অধীত গান, ছড়ার দর্পন। যখন বিশ্ব সাসটেনেবল জীবনধারার কথা ভাবতেওপারত না, যখন গ্রামে অর্থই সব কিছু কিনতে পারত না, যখন বাধ্য হয়ে নিজের লুঠেরা অপচয়ী জীবনযাত্রার ভাবনা অক্ষুণ্ণ রেখে সারা বিশ্বকে রিসাইক্লিং দর্শন গ্রহণের দিকে ইওরোপ-আমেরিকা ঠেলে দেয় নি - তখনও সারা বিশ্বের আর্থিক পারমার্থিক সম্পদ লুঠে ইওরোপ নিজেকে সাজিয়ে গুজিয়ে নিয়ে চলেছে, সে সময় একটি চুল্লিতে তিন চারটে মুখ বার করে একটি জ্বালানি দিয়ে একই সঙ্গে তিনচারটে রান্না সেরে নেওয়া, মরা উনুনে নানান রকম খাদ্যদ্রব্য সেঁকে, পুড়িয়ে রাখা, সূর্যালোককে কাজে লাগিয়ে সদ্য কিনে আনা মশলা ধুয়ে তাকে শোকানো অথবা বীজ, ফলকে নানাভাবে প্রক্রিয়াজাত করে সূর্যালোকে সেঁকে রাখার মত প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দৈনন্দিনের দর্শনই প্রকাশ পেয়েছে পুরনো শাড়ি আর শাড়ির পাড়ের সুতো ব্যবহার করে দৈনন্দিনের ব্যবহার্য কাঁথা তৈরির কাজে। কাঁথা প্রমান বহু রমণী লিখতে ও পড়তে পারতেন, কিন্তু শুধু অক্ষর জ্ঞানের ভিত্তি দিয়েই কাঁথা তৈরি কারিনীদের চিহ্নিত করলে ভুল হবে, কাঁথা আদতে মহিলাদের জ্ঞানচর্চার অন্যতম চারণ ক্ষেত্র যেটা নিয়ে খুইব সীমিতভাবে বাংলাদেশে কিছু আলোচনা হয়েছে, সেটা অনুসরণ করে এদেশে শীলা বসাক কিছু কাজ করেছেন কিন্তু ব্যপ্তভাবে এই বিষয়গুলি নিয়ে ভাবনা হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে।

No comments: