Friday, September 29, 2017

রামমোহন আর বিদ্যাসাগরের পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চার ওকালতি - বিদ্যাসাগরের বাল্যকালে দক্ষিণভারতে অঙ্কচর্চা

বিষ শুধু বিষ দাও অমৃত চাইনা!
Debabrataদা, বিদ্যাসাগরের জাতিবাদিতা বিযয়ে প্রশ্ন তুলতে যে গরল উঠছে, তাতে বহু প্রগতিশীলের বিদ্যার বহর উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। জনৈক 'প্রগতিশীল বিদ্বানের' 'রামমোহন রায় অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ভাবেই পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান শিক্ষা চালু করার সপক্ষে আমহার্স্টকে চিঠি লিখেছিলেন। উনি না জন্মালে আপনি আজ এক হিন্দু রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতেন' এরকম একটা উক্তি দেখলাম।
ইওরোপবাসী এই উক্তির প্রেক্ষিতে আমাদের ছোটলোকেদের বক্তব্য।
---
সে সময়ের ভারতীয় পড়াশোনায় কি ধরণের অঙ্ক শিক্ষা হত তার উদাহরণ পাই চন্দ্রকান্ত রাজুর ভারতীয় অঙ্কের ইতিহাসে। যেহেতু তিনি মনে করতেন ভারতীয় ছোটলোকেরা জ্ঞানচর্চার কুড়টা ধরে রেখেছিলেন, সেটা অনেকের অপছন্দ। আর্যভট(আর্যভট্ট নয়) নিজে শূদ্র ছিলেন। ফলে তথ্য যখন উন্মুক্ত হয় ভদ্রদের আঁতে ঘা লাগে।
যে যাককে যাক - শুধু উদাহরণ দেব ১৯৯১ সালের ইন্ডিয়ান জার্নাল অব হিস্ট্রি অব সায়েন্সে লিখত কে ভি শর্মা আর এস হরিহরণের লেখা জৈষ্ঠদেবের যুক্তিভাষা নামক প্রবন্ধটি, যেখানে ২নম্বর পাতায় বলা হয়েছে , দ্য ওয়ার্ক ফাইন্ডস ইটস ফার্স্ট রেফারেন্স ইন মডার্ন রাইটিং ইন এন আর্টিকল বাই সি এম উইশ ইন ১৮৩৫ হওয়ার ইট ইস রেফার্ড টু টুওয়ার্ডস দ্য ভেরিফায়িং দ্য অথার অব তন্ত্রসংগ্রহ। উইশ হ্যাড কন্টেমপ্লেটেড 'আ ফারদার একাউন্ট অব যুক্তিভাষা, ইত উইল বি গিভন ইন আ সেপারেট পেপার' (সূত্র https://web.archive.org/.../insa/INSA_1/20005ac0_185.pdf)। অর্থাৎ রামমোহন আর বিদ্যাসাগর যখন পশ্চিমি বিদ্যাচর্চার ওকালতি করছেন তখন সে সময়েই এদেশেই যুক্তিভাষার মত কলন বিদ্যা পড়ানো হচ্ছে।
আজ এই কলনবিদ্যার শিক্ষা দিচ্ছেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে চন্দ্রকান্ত রাজু ক্যালকুলাস উইদাউট লিমিটস নামে - যার দুটি মানে - ১) কেরল থেকে যখন জ্ঞানটা জেসুইটসরা ইওরোপে নিয়ে গেল নকল করে, নিউটন বা লিবনিতজ এই অঙ্কবিদ্যার মূল সূত্র বুঝতে পারছেন না, ফলে তারা লিমিটএর ধারণা নিয়ে এলেন কলন বিদ্যায়, ভারতে যে বিদ্যা মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ানো হত, সেটা ইওরোপে গিয়ে দুর্বোধ্য উচ্চশ্রেণীর অঙ্কে রূপান্তরিত হল, এই নিয়ে চন্দ্রকান্ত রাজুর ক্যালকুলাস উইদাউট লিমিটস লেখা পড়তে পারেন (সূত্র - http://ckraju.net/.../calculus-without-limits-background...)। আর ২) কলন বিদ্যার প্রয়োগ আসীম কারণ তাঁর মতে ভারতে দুটি পেশা কলন বিদ্যা প্রায়োগিক/ফলিত চর্চা করত কৃষক - যাদের মৌসম বুঝতে কলন চর্চা করতে হত আর নাবিক - যারা দিনের বেলায় তারা ছাড়া আলোকোজ্জ্বল আকাশে যখন মাঝ সমুদ্রে যাত্রা করতেন তখন দিক খুঁজে পেতেন। এইগুলো আমাদের ভদ্রদের গায়ে লাগবে যারা খুব কষ্ট করে কলনবিদ্যা অর্জন করেছি, সেটা ছোটলোকেরা কিভাবে শিখতে পারে এই বিতর্কে।
যাই হোক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মমূলক এই অভিযোগে রামমোহন-বিদ্যাসাগর পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।
হায় তারা জানার চেষ্টা করেন নি, এদেশে কয়েক হাজার বছর ধরে কলনবিদ্যা চর্চার শেকড় সেদিনও শেষ হয়ে যায় নি।
Post a Comment