Saturday, July 23, 2016

কাশিমবাজারের ইতিহাসঃ রেশম ব্যবসায়ী এবং অষ্টাদশ শতের ব্যবসা - রীলা মুখার্জী



২) ফলে সপ্তদশ শতকে বাংলার অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে মুঘল অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়ল। স্থায়ী সরকার এবং যোগাযোগের সুবন্দোবস্ত ব্যবসায় গতি আনল। মুঘল সাম্রাজ্য বাংলার প্রান্ত এলাকাগুলি দখল করায় চেষ্টায় চট্টগ্রাম তাদের অধিকারে এল।
Le Chine l'Occident. Le Commerce a Canton নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বইতে LOUIS DERMIGNY  অসাধারণভাবে দেখিয়েছেন বিষুবরেখা ধরে মগ-আরাকান-পর্তুগিজদের যে হার্মাদি চলছিল, সেটি আদতে ক্যারিবিয় এলাকা থেকে পূর্বপ্রান্তের সমুদ্র(ফার ইস্টার্ন সি’জ) পর্যন্ত হার্মাদির একটি অংশমাত্র। পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম মুঘল অধিকারে যাওয়ায় বাংলায় সেই দীর্ঘ হার্মাদি পরিবেশের অবসান ঘটল। আমরা দেখতে পেলাম আরাকান সমুদ্র বাণিজ্য বাংলার বাণিজ্য কর্মে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
কিন্তু সপ্তদশ শতের শুরুতে পর্তুগিজদের রমরমার কারণে বাংলার বাণিজ্যের রাশ বাঙ্গালি এবং অন্যান্য ভারতীয় বণিকের হাত থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আরাসারত্নম আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন(৩-৪ পাতা পড়া যাচ্ছে না)
১৬৩২ সালে মুঘল সেনা পর্তুগিজদের হুগলি থেকে নির্বাসিত করায় বাংলায় পর্তুগিজ অর্থনীতিতে বিপুল আঘাত আসে। হুগলি, পিপলি এবং বালেশ্বর বাংলার সামুদ্রিক বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে শুরু করে।
বাংলার বেশ কিছু বন্দরেই বড় বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠতে শুরু করে, এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী বন্দর প্রশাসনও গড়ে ওঠে। বাংলার চিনি গেল পশ্চিম এশিয়া্য, কোরা রেশম(র’ সিল্ক) গেল জাপানে এবং বিভিন্ন খাদ্যশস্য আর ভোজ্য তেল গেল ভারতীয় বিভিন্ন উপকূল এলাকায়, যেখানে এগুলির ঘাটতি প্রকট ছিল।
কিন্তু বাংলার বাঙালি ব্যবসায়ীরা নতুন খুলে যাওয়া এই বাণিজ্যে অংশগ্রহন করতে খুব একটা উতসাহী হলেন না। ফলে বাংলায় গুজরাটি ব্যবসায়ীদের ঐতিহাসিক আগমন আরো তীব্র হল। করমণ্ডল বন্দরকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি বাংলা-সুরাট ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করল। এই ব্যবসাটাও সরাসরি আর বাঙালির হাতে থাকল না, গুজরাটি ব্যবসায়ীদের দালাল হিসেবে কাজ করতে শুরু করল বাঙালি ব্যবসায়ীরা। ১৬৮০ সালে মুঘল সাম্রাজ্য গোলকুণ্ডা দখল করায় যতদূরসম্ভব অধিকাংশ পার্সি-আরব ব্যবসায়ী বাংলায় পালিয়ে এলেন। সপ্তদশ শতের মাঝখান থেকে আমরা দেখব যে, অধিকাংশ বাণিজ্যের আর জাহাজের অংশিদারির একাংশ ছিল বাংলার সুবাদার আর তাদের দালাল(সাইডকিক)দের নিয়ন্ত্রণে। ইওরোপিয়দের কথা বলতে গেলে, ১৬৩০ সাল থেকে পর্তুগিজদের বাংলার ব্যবসা থেকে হাঠিয়ে দেওয়ার পর থেকে, পর্তুগিজেরা বাংলার ব্যবসা যেখানে ছেড়ে গিয়েছিল, ডাচেরা সেই শূন্যাস্থান পূরণের চেষ্টা করতে থাকে।
অষ্টাদশ শতকে ব্যবসার পরিবেশ পাল্টাতে থাকে দ্রুত। মুঘল সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে মুর্শিদকুলি খাঁ দেখতে পেলেন পশ্চিমের দিকের বিপুল বাণিজ্য সম্ভাবনা। ফলে বাংলার রাজধানী পূর্বের ঢাকা থেকে মুকসুদাবাদে সরে আসায় মধ্য সপ্তদশ শত থেকে পূর্ব দিকে বাণিজ্যর দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেল। বড় পুঁজির ব্যাঙ্কার জগত শেঠ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মাণিকচাঁদ বাংলায় কুঠী তৈরি করলেন এবং তার পর থেকে বাংলার রাজনীতি এবং ব্যবসায়ে জগত শেঠেদের আধিপত্য প্রশ্নাতীতভাবে শুরু হল। মুঘলদের বাংলা দখল করার পর এই প্রথমবার বাংলায় নতুন ধরণের রাজসভার রীতিনীতি গড়ে উঠল। সপ্তদশ শতের শেষের দিকে করমণ্ডল উপকূলের ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ আর ইয়েমেন আর পারস্যের পতনের পরে সুরাটের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির ঘটার সুযোগ গ্রহণ করে বাংলার বাণিজ্য। ???(১৭ টা পড়া যাচ্ছে না)
কোন এক অজ্ঞাত কারণে অষ্টাদশ শতকে মুঘল নৌপোতগুলি বঙ্গোপসাগর থেকে তুলে নেওয়া হল। ফলে যে শূন্যস্থানটি তৈরি হল, সেটি দখল করল ব্রিটিশ শক্তি ডাচেদের ওপরে টেক্কা দিয়েই।
(চলবে)
Post a Comment