Sunday, July 3, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান


দ্বিতীয় খণ্ড

আজম খাঁ
 
২০। হারেমের মহলদারের সঙ্গে ঝগড়া করায় শাহজাদার শাস্তি 

শাহজাদা মুহম্মদ আজম খাঁএর দেহরোহির নাজির বীরহোজ খাঁ সম্রাটকে নিবেদন করলেন, ‘শাহজাদা মহলদার নুরউন্নিসার প্রতি রূষ্ট ব্যবহার করেছেন এবং তিনি যখন আহমেদাবাদের সাম্রাজ্যের বাগানে ভ্রমন করতে যান, তখন, তিনি মহলদারকে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। মহলদার শাহজাদার ভ্রমণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাইরে(আমায়) একটা চিঠি লিখেছেন। এবং যেহেতু এই বিষয়ে সম্রাটের কোন নির্দেশ নেই, তাই এই দাস(এই লেখক) এসে শাহজাদার ঘোড়া আটকায়। শাহজাদা মহলদারকে তার মজলিস থেকে বরখাস্ত করেন’। সম্রাট এই চিঠিতে লিখলেন, ‘(এই সুবায়)যে মনসবদার নিযুক্ত আছেন, তিনি এবং খ্বাজা কুলি খাঁ এবং নারোয়ারের রাজা, তাদের বাহিনী নিয়ে দেখবে শাহজাদা যেন মুক্তভাবে নিজের মত করে ঘোড়ায় চড়ে এদিক সেদিক না যায় বা সাধারণ মজলিস না করে, যতক্ষণ না আমার (বাকি)নির্দেশ আসে’।

পরের দিন যখন শাহজাদা এই খবরটি পেলেন, তিনি একটি তার বোন পাদশা বেগম মার্ফত, তাকে মাফ করার একটি স্বাক্ষর সহ আবেদন সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, সঙ্গে জুড়ে দিলেন, নাজির আর মহলদারের সিলমোহোর সহ একটি আপসরফার সমঝোতা। তার আবেদনের ওপর সম্রাট লিখলেন, ‘আমি তোমার মহল (জায়গির) দখল নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নই। কিন্তু তোমায় যদি কোন অর্থদণ্ড না দিই, এই ধরণের স্পর্ধিত কাজ তুমি সারাজীবন করে যাবে। এই কাজের শাস্তি স্বরূপ আমার এই মাথামোটা, অদূরদর্শী, নির্বোধ সন্তানের নগদ মাইনে থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা কেটে রাষ্ট্রের খাজাঞ্চিখানায় নিয়ে নেওয়া হোক।

মন্তব্য – ১৭০১এর মাঝখান থেকে ১৭০৫এর নভেম্বর পর্যন্ত শাহজাদা আজম গুজরাটের সুবাদার ছিলেন। তার বোন জিনতউন্নিসার উপাধি ছিল পাদসা বেগম।

২১। রাজপথে শান্তি বজায় রাখা

আহমেদাবাদের সুবায় যখন মুহম্মদ আজম শাহ সুবাদার ছিলেন, সেখান থেকে সম্রাট জানতে পারলেন, ‘শত্রু জানাজি দলভি(মারাঠা), আহমেদাবাদের থেকে ৮০ মাইল দূরে সুরাটের রাজপথে বণিকদের পণ্য লুঠ করেছে। এই বিষয়টা শাহ আলিজার(আজম) গোচরে আনা হয়েছে একটা সংবাদপত্রের মাধ্যমে, কিন্তু তিনি বললেন, ‘এই ঘটনাটা ঘটেছে সুরাটের রাজস্ব আদায়কারী আমানত খাঁএর ফৌজদারির এলাকায়, এখানে আমার কিছু করার মাথাব্যথা নেই’।

তার চিঠির জোড়াপাতায় সম্রাট লিখলেন, ‘শাহজাদার পদমর্যাদা থেকে পাঁচাহাজার কমিয়ে দাও, এবং তার যে মধ্যস্থ রয়েছে(আমরা যদুনাথ সরকারের লেখা দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন থেকে জানতে পেরেছি, সুবায় সব উচ্চপদস্থ কর্মচারীর একজন করে সম্রাটের সভায় মধ্যস্থ থাকতেন, তার মাধ্যমে তারা সম্রাটকে তাদের সুবিধে অসুবিধে এবং অভিযোগ অভাব জানাতেন- অনুবাদক), লুঠে বণিকদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতির পরিমান জেনে তার প্রাপ্য থেকে কেটে তাদের ক্ষতিপূরণ দাও। এই কাজটা যদি কোন আধিকারিক করত তাহলে আমি তার যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আমার নির্দেশ জারি করার ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে শাহজাদা স্বয়ং, ফলে তার জন্য কোন তদন্ত না করেই আমি শাস্তির নির্দেশ দিলাম। বাহবা তোমার শাহজাদাত্ব, যাতে তুমি নিজেকে আমানত খাঁয়ের তুলনায় নিম্নস্তরের বলে মনে করলে! আমার জীবদ্দশায় তুমি আমার রাজমুকুটের উত্তরাধিকার দাবি করছ, তাহলে কেন তুমি আমার জীবদ্দশায় আমানত খাঁকে তোমার আগামী দিনের শাসন কার্যের অংশ করে নাও না!(কবিতা)

যে রোগ, অষুধ-পথ্যে সারে না, তার কোন নিদান নেই।/ যে মানবের জ্ঞান নেই, তার পাওয়ারও কিছু নেই’

মন্তব্য - দলভি মারাঠদের উপাধি। সুরাটের ডাকাতির বর্ণনা মিরাটইআহমদিতে উল্লিখিত হয়েছে।

২২। সভার অনভিপ্রেত অবমাননায় শাস্তি

একদিন সম্রাট যখন রাজসভায় বিচার করছিলেন, শাহজাদা মুহম্মদ আজম শাহ উঠে দাঁড়িয়ে কিছু অনুরোধ করলেন। মনোমত উত্তর না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমনভাবে এগিয়ে আসেন যে তার পা সম্রাটের সিংহাসনে (মসনদ) লেগে যায়। তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সম্রাট তার সামনে রাখা পর্দাটি ফেলে দিয়ে চলে যান এবং নির্দেশ দিয়ে যান, যাতে শাহজাদা তার সামনে না আসেন। কারোর এই বিষয়ে মাথা গলাবার সাহস হচ্ছিল না, নানদুরবারের শাহ সালিমুল্লা(একজন ফকির) সম্রাটকে বললেন, ‘শাহজাদা তার পা বাড়িয়েছেন স্পর্ধায় নয়, তার অনাবধানতায়। যে মানব শান্তি বজায় রাখে(তার মার্ফত), সে সর্বশক্তিমানের পুরষ্কার পান। কুরাণ থেকে একটি কবিতা সম্রাট লিখলেন, ‘নিরাপত্তার চাদরে মোড়া অবস্থা থেকে, ধ্বংসের সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি/ পড়ে যায়, যে তার সীমা ছাড়িয়ে অনিশ্চিতে পদক্ষেপ করতে চায়’।

মন্তব্য – যখন সম্রাট তার সিংহাসনের সামনে রাখা পর্দাটি ফেলে দেন, তার অর্থ যে তিনি সভা শেষের ঘোষণা করছেন। তখন তার পিছনের দরজা দিয়ে তিনি হারেমের পথে চলে যান।
(চলবে)
Post a Comment