Friday, July 8, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৪০। আমলাকে নম্রতা অনুসরণ করতে বললেন আওরঙ্গজেব

গোয়েন্দাদের সমীক্ষা পড়ে য়ার আলি বেগ একটি আবেদন সম্রাটের কাছে পেশ করে বললেন যে মুহম্মদ মুরাদ কুলের সঙ্গে হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পরে মুহম্মদ, ‘রে ছোটলোক(মার্দক)! তুমিও যেমন শাহেনশাহের ভৃত্য(চ্যালা), আমিও তেমনি’ বলায় হামিদুদ্দিন পদত্যাগ করে পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দেন প্রধান খাজাঞ্চি, বারহামন্দ খাঁকে। সম্রাট লিখলেন, ‘মার্দক শব্দটা এখানে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয় নি, একে সঙ্কুচিত অর্থে দেখ, যার মানে, ‘ছোট্ট মানুষ’। এই বিশ্বের কোন মানুষই মহান নয়। যতদূর সম্ভব খাঁ বাহাদুর চেলা বলায় ক্ষুব্ধ হয়েছে,(কবিতা)

যে তার থেকে নিচুস্তরের মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করে/ কোন না কোন সময় তার পর্দা সে নিজেই ছিঁড়ে ফেলে,/ প্রত্যেক জ্ঞানী, যদি অপদার্থের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে/তার নিজের সবথেকে দামি, প্রিয় রত্ন(জ্ঞান, চরিত্র)র ওপরে শক্ত পাথর প্রহার করে।

মন্তব্য – হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুরের কুলনাম নিমচাইআলমগিরশাহি, ইতানাম খাঁ(সরদার খাঁ)এর পুত্র, নিজের পরিচয় দিতেন মারাঠাদের বিরুদ্ধে সফল যোদ্ধা হিসেবে। কুল একটি তুর্ক শব্দ, মানে দাস। সম্রাট আকবর রাজকীয় দাসেদের উপাধি গুলাম থেকে চ্যালায় রূপান্তরিত করেন, কেননা তিনি মনে করতেন কাউকে গুলাম বলা অধার্মিক কর্ম, যা অন্যের নৈতিকতাকে ক্ষুণ্ণ করে – কেননা প্রত্যেক মানুষই সর্বশক্তিমানের গুলাম(সূত্র - মাসুমএর তারিখইশুজানি)।

৪১। ইচ্ছে থাকলে দারিদ্র বাধা হয়ে দাঁড়ায় না

আওরঙ্গজেবের রাজত্বের ৩২তম বছরে, মির্জা সদরউদ্দিন মুহম্মদ খাঁ সাফাওয়ি(যাকে শেষ পর্যন্ত শাহ নওয়াজ খাঁ উপাধি দেওয়া হয়), কোন একটা অনুচিত আবেদন করার জন্য পদ হারান। সম্রাট তার বাতসরিক ভাতা বরাদ্দ করেন ৪০ হাজার টাকা। শাহেনশাহ মাঝে মাঝে স্মৃতি রোমন্থন করতেন, মির্জার পিতা কিভাবে দারা শুকোহর সঙ্গে যুদ্ধে তার সফল সঙ্গী হয়েছিলেন এবং নিয়মিত বিজয়ী হতেন। ফরমান লিখে, দণ্ডধারীদের হাত দিয়ে খেলাত পাঠিয়ে সম্রাট তাকে রাজসভায় এত্তেল্লা দিয়ে নিয়ে আসেন। ফরমানটি হাতে পেয়ে খাঁ তা চুম্বন করেন, খেলাতটি পরিধান করেন, এবং সঠিক রীতিনীতি দেখিয়ে একটি আবেদনপত্র সম্রাটকে পাঠান, ‘বহুদিন ধরে দপ্তরের কাজের বাইরে থাকায় আমি দরিদ্র হয়ে পড়েছি, আমি এমন কাউকে পাচ্ছি না, যার মাধ্যমে রাজসভায় আমার আবেদন পাঠাতে পারি। আমি বেঙ্গল(Bengol) থেকে আসা যাত্রীদলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, যেটি আমায় নিয়ে যেতে পারে’। তার আবেদনের উত্তরে তিনি লিখলেন, ‘গোলাপের খুশবাই আর সকালের মলয় রাস্তাতেই থাকে,/তুমি যদি চাও, এর থেকে ভাল যাত্রীদল আর কিছুই হতে পারে না।/ হায় কি কি হৃদয়ে ভর্তি হয়ে থাকে,/এত ঘনঘন যেন শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে।

বাইরে থেক দেখতে গেলে তোমার বাহানা যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু বাস্তবিকভাবে তোমার উদ্যমের তোমার দুঃখের কারণ। হে সর্বশক্তমান! যাদের পদক্ষেপ অশক্তম তাঁদের রাস্তা দেখাও।

মন্তব্য – মির্জা সুলতান সিংহাসনে আরোহনের যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের সঙ্গী হন। কিন্তু লড়াই করেন নি, কেন তাকে আওরঙ্গজেব ফেলে যান। তার পুত্র সদরউদ্দিন আওরঙ্গজেবের খাজাঞ্চি পদ পর্যন্ত ওঠেন, এবং প্রথম বাহাদুর শাহ তাকে শাহ নাওয়াজ খাঁ উপাধি দেন।
(চলবে)
Post a Comment