Saturday, July 9, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৫২। পারসি আর ভারতীয়দের চরিত্রের বৈপরীত্য

গজনীর সংবাদপত্র মার্ফত সম্রাট জানতে পারলেন যে, ‘সুভান কুলি, পারস্য সীমান্তের থানাদার, কাবুলের সুবাদার আমীর খাঁকে একটা চিঠিতে লিখেছেন, ‘দুটি সীমান্তের মধ্যে কিছু দূরত্ব(চার লিগ) রয়েছে। সর্বশক্তিমান দয়ালু, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং মিলিজুলি সম্বন্ধ বর্তমান; দুই দেশের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি এবং ঝগড়ার কোন পরিবেশ নেই। দুই দেশের মানুষ দুদেশের মধ্যে গিয়ে বাজারে জিনিসপত্র কেনাকাটা-বিক্রয় করে যাতে দুটি দেশই একসঙ্গে বিকাশলাভ করে’। আমীর খাঁ উত্তরে লিখলেন, ‘এই বিষয়টি আমি মহামহিম সম্রাটিকে লিখছি, তার উত্তর যা পাব তা তোমায় জানাব’। কাবুল থকে একই কথাও সম্রাটের গোচরে আনা হয়েছে।

গজনী থেকে পাঠানো সংবাদপত্রের ওপরেই সম্রাট লিখলেন, ‘কাবুলের পাঠানো সমীক্ষার ওপর আমার বক্তব্য লেখা আছে – সেটা হল, ‘আমি হতবুদ্ধি হয়ে যাচ্ছি, আমীর খাঁ আমাদের বংশপরম্পরার কর্মচারী – আমার মনোভাব জানে, তার পূর্বপ্রজন্ম আমাদের তৈমূর পরিবারের বংশের সঙ্গে একভাবে জীবন কাটিয়েছে, সে কিন্তু এই দুইলাইনের শ্লোকটি ভুলে গিয়েছে,

শত্রু যখন তোমার প্রতি সদয়, তখন হুঁশিয়ার থেকো;/তাঁদের রণনীতি হয়ত ঘোমটায় ঢাকা, যেমন ঘাসের তলায় (লুকিয়ে)থাকে জল।

কোন বদ্ধমূল ধারণা বা শত্রুতার ধারণা থেকে নয়, আমরা বলতে পারি পার্সিদের সূর্য হল রক্ষাকারী গ্রহ, তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল তারা খুবই ক্ষিপ্র, তাড়াতাড়ি ভেবে নিতে পারে, এবং ভারতীয়দের থেকে চারগুণ বেশি দূরে দেখতে পায়, কেননা ভারতীয়দের রক্ষাকারী কবচগ্রহ হল শনি(ঠিক পড়লাম তো? ছাপাটা অস্পষ্ট এখানে - অনুবাদক)। তাঁদের একটাই ত্রুটি, শনির সঙ্গে শুক্রের মিলনে তারা খুব আয়েসি হয়ে পড়ে, আর যারা শনির দ্বারা শাসিত হয় তার হয় পরিশ্রমী। কিন্তু শনির ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাভাবিক নীচতা আর নিকৃষ্টতার চরিত্র কিছু মানুষের মধ্যে দেখা যায়। আমার বলার উদ্দেশ্যটা হল, ধূর্ত চতুর পার্সিদের বন্ধুত্বপূর্ণ চতুরতার কাছে তোমরা কেউ আত্মসমর্পন করবে না, যাতে তারা প্রমান না করতে পারে তোমাদের দুর্বলতাকে। (কবিতা)

বন্যা দেওয়ালের পদচুম্বল করে তাকে উপড়ে ফেলার জন্য।

৫৩। অধস্তন কর্মচারীকে তার উর্ধ্বতনর হাত থেকে বাঁচানো হল
জাননাসিরখাঁ, হায়দারাবাদের উপসুবাদার, রুহুল্লা খাঁয়ের অধস্তন হয়ে কাজ করছেন, সম্রাটকে একটি আবেদন করে লিখলেন, ‘যদিও বংশপরম্পরায় আপনার এই কর্মচারী, রুহুল্লা খাঁএর অধীনে আপনাকে সেবা করছে, কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই তিনি আমার ওপর মানসিক অত্যাচার শুরু করেছেন, এবং আমাকে আমার কাজ থেকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর মন সাপের(মার) মত সর্পিল, এবং সকলের অনিষ্ট করতে সদা তৎপর, আমার বিশ্বাস, আপনি এই দাসানুদাসকে ডেকে এই দুর্বৃত্তর থেকে এবং অসম্ভব মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচাবার ব্যবস্থা করবেন’।

মার শব্দটার ওপর নির্দেশকরে সম্রাট চিঠিতে এটির সঙ্গে হি শব্দটা জুড়ে তৈরি করলেন হিমার(=গাধা) শব্দটা, এবং লিখলেন, ‘দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষটি, যার নামটির সঙ্গে হি অক্ষরটি জুড়ে বসে(মানে ওয়ালা শব্দ তৈরি হয়), তার কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই(গাধার মতই)। কিন্তু খারাপ চরিত্রের কি নিদান হতে পারে?’
সম্রাট লিখলেন, ‘তার অনুরোধক্রমেই তোমায় উপ(সুবাদার)পদ দেওয়া হয়েছিল। তার কি অধিকার আছে তোমায় বরখাস্ত করে? এটা এই বাক্যটার মত হল, ‘একটা চোর চাষীর অনুরোধে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়েছে, কিন্তু তার অনুরোধে তাকে মুক্ত করা হল না’। সে যদি (তোমার বিরুদ্ধে)অভিযোগ করে, তাহলে তার ভাইকে কুঁয়োতে ফেলার জন্য কাটা কুঁয়োতে সে নিজেই পড়বে। তার অর্থ হল আমি তাকে তনখার বক্সী পদ থেকে বরখাস্ত করব’।

মন্তব্য – মীর বক্সী, প্রথম রুহুল্লা খাঁ, ১৬৮৭ সালে রাজ্যটি দখলের পর হায়দারাবাদের সুবাদার পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু তাকে খুব তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। জাননিসারখাঁ কখোনোই সেখানের উপসুবাদার ছিলেন না, বরং ফেব্রুয়ারি ১৬৯০তে বিজাপুরের দেওয়ান নিযুক্ত হন। তবে ছিলেন জানসিপারখাঁ(মীর বাহাদুর দিল, মুখতার খাঁ সাবজাওয়ারির তৃতীয় সন্তান) হায়দারাবাদের সুবাদার হিসেবে বহুকাল, রাজ্য দখলের পরে সুনামের সঙ্গেই। যতদূর সম্ভব ঘটনাটা বিজাপুরেই ঘটেছিল, যখন জাননিসারখাঁ রুহুল্লা খাঁএর অধীনে কাজ করছিলেন।
(চলবে)
Post a Comment