Tuesday, July 5, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৩৩। নিজামের পিতার উত্থান

আবিদ খাঁয়ের পুত্র মীর শিহাবউদ্দিন, যার উপাধি গাজিউদ্দিন খাঁ বাহাদুর ফিরুজ জং, বিলায়েত থেকে প্রথমে যখন ভারতে এসে, প্রধান খাজাঞ্চি সরবুলন্দ খাঁয়ের মাধ্যমে দিল্লিতে সন্ত কুতুব(শাহর মাজারে) ধর্ম করতে যাওয়া শাহেনশায় সঙ্গে পরিচিত হন, এবং তিনি তিনশ মনসবের অধিকারী হন। পরের দিকে সম্রাট আজমেরে গেলেন রাজপুতদের সঙ্গে হাত মেলানো নিখোঁজ শাহজাদা মহম্মদ আকবরের খোঁজ করতে। সেখানে সম্রাটের সঙ্গে যাওয়া সেনাপতিদের মধ্যে কেউ এই কাজে কেউ খুব একটা উতসাহ দেখাচ্ছিলেন না। তখন মীর শিহাবউদ্দিন জোর গলায় বললেন, ‘এই দাস তৈয়ার’। সম্রাট সম্মানজনক খেলাত দিয়ে তাকে আরো দুশ ঘোড়ার পদন্নতি করিয়ে, তাকে সেই কাজের যাত্রায় যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। চৌদ্দ দিনের মাথায় সম্রাটের সেনাবাহিনীকে ঘিরে থাকা প্রহরারত সৈনিকদের কাছে তার ফিরে আসার সংবাদ পৌঁছল। শিহাবউদ্দিনও লিখলেন, ‘এই দাস তথ্যানুসন্ধান করে বিশেষ কিছু সংবাদ নিয়ে পৌছেছে। তাকে আপনার শিবিরে প্রবেশ করার আনুমতি দেওয়া হোক’। এই আবেদনপত্রের ওপর সম্রাট লিখলেন, (কবিতা)

‘যিনি নিজের কলিজার রস নিংড়ে পদ্মরাগমণির মত রক্ত পান করে শান্ত থাকেন,/ তার মাথার তাজরূপী-ভবিষ্যতে যেন সেই পদ্মরাগমণি অলঙ্কার হয়ে বিরাজ করে।
কোতোয়ালকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তাকে শিবিরে প্রবেশের অনুমতিপত্র দেওয়ার’।

মন্তব্য - মীর শিহাবউদ্দিন, যার উপাধি গাজিউদ্দিন খাঁ বাহাদুর ফিরুজ জং, আওরঙ্গজেবের সময়ের সদর আবিদ খাঁয়ের পুত্র, প্রথম নিজামউলমুলকের পিতা(মীর কামাররুদ্দিন, চিন কালিচ খা, আসফ ঝা)। শিহাবউদ্দিন সমরখন্দের বাপের বাড়ি থেকে ১৬৬৯ সালের অক্টোবর মাসে দিল্লিতে ভাগ্য ফেরাতে আসেন। মাসিরইআলমগিরিতে এই খণ্ডটা বর্ণিত হয়েছে, কাফি খাঁও বর্ণনা করেছেন। আকবরের বিদ্রোহের বেশ কিছু সময় আগে এটা ঘটেছিল। বিলায়েত মানে ভারতের উত্তরপশ্চিম সীমান্তের পারের যে কোন দেশ, বিশেষ করে মধ্য এশিয়া। শাহজাদা আকবর তার পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন ১৬৮১ সালের জানুয়ারিতে।
(চলবে)
Post a Comment