Friday, July 22, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

চতুর্থ খণ্ড

৭১। হিন্দু যুদ্ধবন্দীদের প্রাণদণ্ড দেওয়া হল

রামজান মাসে সাতারা দুর্গ অবরোধের সময় দুর্গের চার জন মুসলমান এবং তিনজন হিন্দু সেনাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্রাট, প্রধান কাজি, কাজি মহম্মদ আক্রমকে নির্দেশ দিলেন মুফতির সাহায্য নিয়ে এই বন্দীদের সঙ্গে কি ধরণের ব্যবহার করা যায় তা ঠিক করতে। (ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ে)ঠিক হল, অবিশ্বাসীরা যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে আর মুসলমান বন্দীদের তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

আইনি পরামর্শ দেওয়ার পত্রে সম্রাট লিখলেন, ‘হানাফি তত্ত্ব অনুসারে সিদ্ধান্ত নাও; অন্য তত্ত্ব অনুসারেও সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, যাতে এই রাজ্যের ওপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ না ঢিলে হয়। আমরা খুব গোঁড়া শিয়া গোষ্ঠী নই, যারা মনে করে গ্রামে শুধু একটাই গাছ থাকা দরকার। সর্বশক্তিমানের নামগান কর! সত্য অনুসারে (সুন্নি ধর্মতত্ত্বে) চারটে পথ আছে, প্রত্যেকটা বিশেষ বিশেষ যুগ আর সময় ধরে(লিপিবদ্ধ)’।

তিনি এটা লেখার পরে কাজি আর মুফতি তাদের নির্দেশ দান করলেন, ‘ফাতোয়াইআলমগিরি সূত্র ধরে আমরা ফতোয়া দিচ্ছি যে হিন্দু আর মুসলমান যুদ্ধ বন্দীদের প্রতিবন্ধকরূপে গণ্য করে তাদের হত্যা করা হোক’। সম্রাট লিখলেন, ‘আমি এতে সম্মতি প্রদান করছি। সূর্যাস্তে আমার উপবাস ভঙ্গ হওয়ার আগেই তাদের বধ করতে হবে। আর যতক্ষণ না তাদের দেহ থেকে চ্যুত মুণ্ড আমার সামনে নীত হচ্ছে, ততক্ষণ আমি উপবাস ভঙ্গ করব না’। কোতোয়াল সরবরা খাঁয়ের সাহায্যে মুহরম খাঁ, তাদের বধ করে তাদের মুণ্ড সম্রাটের বিচার সভায় পেশ করলেন।

মন্তব্য – ৮ ডিসেম্বর ১৬৯৯ থেকে শুরু হয় সাতারা অবরোধ, চলতে থাকে ২১ এপ্রিল ১৭০০ পর্যন্ত। ১৬৯৮ সালে মুহম্মদ আক্রম রাজসভার কাজি নিয়োজিত হন। ১৭০৫ সালের অক্টোবরের প্রথমদিকে মারা যান। সুন্নি গোষ্ঠীরা চারটি পথ(স্কুল) মান্য করে, হানাফি, শাফি, হামবালি, এবং মালিকি। মুফতির কাজ হল আইনের সঠিক ব্যখ্যা করা এবং কাজিকে তার ফতোয়া দেওয়ার কাজে সাহায্য করা। ফতোয়াইআলমগিরি হল, আওরঙ্গজেবের নির্দেশে, শেখ নিজামের নেতৃত্বে এক দল ধর্মতাত্ত্বিক নানান ইসলামি রীতি নীতি আওরঙ্গজেবের সময়ের উপযোগী, সমন্বয়পূর্ণ করে এই নামে লিপিবদ্ধ করেন।

১৭০০ সালে ঠাণ্ডা মাথায় হিন্দু যুদ্ধ বন্দীদের হত্যা করার বিশদ বিবরণ সে সময়ের সংবাদ সমীক্ষায় দেখা যায়ঃ-

২৪ জানুয়ারি, ১৩তম শাবান – সক্কালে খ্বোয়াজা মুহরম খাঁকে ডেকে সম্রাট নির্দেশ দিলেন, যে ১৪ মারাঠা যুদ্ধবন্দীকে মাভলিসেরা বন্দী করেছে, তারা আগে দূর্গে বন্দী ছিল, বর্তমানে সহ কোতোয়াল মুহম্মদ আমিনের জিম্মায় রয়েছে; তাদের কৃষ্ণা নদীর তীরে নিয়ে বধ করা হোক। তাঁকে বলা হল, সেনাদের মধ্যে একটি বালকও রয়েছে। তার কি দশা হবে? সম্রাট কাজি আক্রমকে ডেকে তার মত জানতে চাইলেন, ‘তাদের সেখানে বধ করে নামাজ পড়া কি আইন সম্মত?’ কাজি উত্তর দিলেন, ‘তাদের মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হোক’। সম্রাটের নির্দেশে খ্বোয়াজা তাদের নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে মুণ্ডচ্ছেদ করলেন।

১৯ মে ১৭০০ – সম্রাট কোতোয়ালকে নির্দেশ দিলেন মৃত রাজারামের পরিবারের সঙ্গে বিজাপুরের দূর্গে বন্দী(জানুয়ারির প্রথম থেকে) ৩৩ জন অনুগামীকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন(সূত্রঃ আখবরাতইদরবার)।
(চলবে)
Post a Comment