Friday, July 8, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৪২। নীরব প্রার্থনাকারী

প্রধান খাজাঞ্চি, বারাহমন্দ খাঁকে সম্রাট বললেন, ‘মুসাভি খাঁ, ওরফে মির্জা মুজিজইফিরাত, নিজের দক্ষতায় এতই গর্বিত যে, এবং দারিদ্রে নিমজ্জিত হয়েও সে নিজে কোনদিন আমায় কিছু প্রার্থনা জানায় নি। কিন্তু সে যদি আমায় নিজের অবস্থা জানিয়ে কিছু না লেখে, তাহলে আমি তার প্রতি কিছু করতে পারি না। এ বিষয়ে তুমি তাকে ইঙ্গিত পাঠাও, তার থেকে একটা আবেদনপত্র চাও, সেটি আমাকে দেখাও’। এই সংবাদ পাওয়ার পর মুসাভি খাঁ সম্রাটকে লিখলেন, ‘আমার অবস্থা সম্পর্কে আপনার জ্ঞান আমার শব্দের থেকেও গভীর (কবিতা)

আমরা অব্যক্তরা এক সময় কীটানুকীট(মথ) ছিলাম/ (আমার কাছে)প্রকাশ্যে আমার অবস্থা জানানোর থেকে ভাল জ্বলেপুড়ে যাওয়া।/ সেবার গর্বে আমার জিহ্বা নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে/ এই প্রশংসনীয় কর্মগুলি আমায় ভুলের পথে নিয়ে গিয়েছে/ তরঙ্গের গর্বিত কর্ম বিশ্রাম পায় না দয়ার সমুদ্রে,/ (ফলে) যারা ভিক্ষে করে, তারা অপ্রয়োজনীয় ভাবে সনির্বন্ধ অনুরোধী।

সম্রাট তাঁর উত্তরে লিখলেন, ‘বাস্তবিকই তুমি সত্য লিখেছ’।(কবিতা)
নিরবতা কঠোর কারাগারকেও খুলে দেয়/ খাঁচায় তোতা নিজের সম্বন্ধে বৃথাই বকবক করে যায়

কিন্তু
মানুষ তাঁর চরিত্র বদলায় না,/ আমি যাদের দেখেছি, তারা সকলে নিজের চরিত্র অত্যধিক প্রশ্রয় দিয়েই চলে।
পরম্পরা অনুসারে, সম্রাট হলেন সর্বসক্তিমানের ছায়া; সময়ের রাজারা চান তাঁর চ্যালারা তাঁদের অনুরোধ তাঁর কাছে পেশ করুক, এবং তাঁর উত্তরে তাঁর কর্মচারী এমন এক অভূতপূর্ব উত্তর দিল, যে তাঁর প্রতিদান না দিলে, খারাপ ব্যবহার করা হয়।

মন্তব্য – মির্জা মুয়িজ, পারস্য মহদ শহরের অধিবাসী, আওরঙ্গজেবের স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করেন, এবং মুসাভি খাঁকে দাক্ষিণাত্যের খাজাঞ্চিখানার(দফতরইতান) দেওয়ান পদ দেওয়া হয় ১৬৮৮ সালে। ১৬৯০ সালের মে মাসে মারা যান। তাঁর রাজনঈতিক ছদ্মনাম ছিল ফিতরাত এবং মুসাভি। পারসি কবিতায় মথ শব্দটা ব্যবহার হত নিজেকে জ্বালানোর অন্বয়ে, যা উচ্চশ্রেণীর প্রেমিকের বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হত আর ঝগড়ুটে মোরগ ব্যবহৃত হত হৃদয়হীন দরবেশ বোঝাতে(সাদির গুলিস্তাঁ)।

৪৩। তোমার বেতনের জন্য কর্ম কর

মুখলিস খাঁ সম্রাটকে আবেদন করে পুণ্য মাসাদ শহরের উচ্চবর্ন সম্ভূত সৈয়দ পরিবারের সুলতান মহম্মদ খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছেন, এই আবেদনে বেতন বাড়াবার অনুরোধ করেন, অর্ধেক নগদে, আর অর্ধেক জাগিরে।

তাঁর আবেদনে সম্রাট লিখলেন, ‘আমরা যে বাল কাজগুলি করি তা আমাদের নিজেদের জন্যই, এবং পাপও আমাদেরই থাকে। আমি জানি সন্তচরিত্রের এবং দারিদ্রে পড়া সৈয়দকে। কিন্তু সে কন পদে নেই। একজন ভাড়ার শ্রমিক চাকরি করা মানুষের সমান রোজগার করবে এটা বাস্তব নয় (কবিতা)

তোমার পায়ের আঙ্গুল দিয়ে যেমন কোন গ্রন্থি খুলতে পার না,/ কিন্তু জীবনের গ্রন্থিগুলি পায়ের গুরুত্বপুর্ণ ব্যবহারেই খুলতে পার।

মন্তব্য - সাফ শিকান খাঁএর পুত্র মুখলিস খাঁ, পারস্যের সদর ছিলেন, ১৬৯২তে দ্বিতীয় খাজাঞ্চিরূপে কাজ সুরু করেন, মারা যান ১৭০১ সালে।
(চলবে)
Post a Comment