Friday, July 22, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

চতুর্থ খণ্ড

৭২। নির্দয়ভাবে জাজিয়া মাথট প্রয়োগ করা হত

বুরহানপুর থেকে সম্রাট যেখানে থাকেন, সেই পথ ও ইসলামপুরির মূল শিবির দেখাশোনার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরুজ জং খাঁয় সম্রাটকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, ‘প্রাবীন দাস-কন্যা আদতে এই বংশানুক্রমিক সেবক(ফিরুজ জং)এর মাতার সমাধি ভীম নদীর ওপর পাড়ে অবস্থিত। সেই এলাকার শষ্য বাজারের বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ানো খুব প্রয়োজন, যাতে সম্রাটের শিবির পর্যন্ত পর্যাপ্ত খাবারদাবার পৌঁছতে পারে নির্বিঘ্নে। কিন্তু এটা(বিক্রেতার সংখ্যা বাড়াবার কাজ) করা সম্ভব হবে না, যদি না আমরা জিজিয়া নামক মাথট করটি হিন্দু জনগনের ওপর থেকে প্রত্যাহার করে না নিই। প্রয়োজনে আপনি ইনায়েতুল্লা খাঁকে সনদ জারি করে জিজিয়া মাথটটি তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিন’।

সম্রাট লিখলেন, ‘অবিশ্বাসীদের থেকে কোন সাহায্যকারী চাই না। সমাধির কাছে শস্য বাজার দখল করতে গিয়ে পুণ্য কোরাণে উদ্ধৃত জিজিয়া সংক্রান্ত বাণী(যতক্ষণনা তারা জিজিয়া দিতে রাজি হচ্ছে ততক্ষণ তাদের ওপর অত্যাচার কর) উল্লঙ্ঘন করে তাদের ক্ষমা করার কথা বলছ – এই বাণীগুলি আমাদের পুণ্য ধর্মীয় আইনের সত্যিকারের জ্ঞান এবং বশ্যতার কথা যা এই সেবক ধারণ করে রয়েছে, সেটা তোমার জানা উচিত। বোঝা যাচ্ছে, কিছু মানুষ যারা ঝাড়ুদারের থেকেও নোংরা, তারা তোমার মনে সংশয় উতপাদন করেছে, এবং তোমায় অন্ধ করে তোমার মনে এই ধরণের ঘৃণিত ধারণা প্রবেশ করিয়েছে। এতি দিনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই বৃদ্ধ, কি করে এই ছলনায় ভোলে! (কবিতা)
চলে যাও! এই ফাঁদটা অন্য কোন পাখির জন্য ছড়য়ে দাও/ জেনে রাখ ফিনিক্সের নীড় অনেক ওপরে থাকে!

মন্তব্য – ফিরুজ জং ১৭০১ সালের অক্টোবরে ভীম নদীর তীরে ইসলামপুরী শহরে সম্রাটের মূল শিবির পাহারা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হয়। জাজিয়া বিষয়ে আওরঙ্গজেবের কঠোরতার বর্ণনা কাফি খাঁএর লেখায় পাওয়া যায়।
(শেষ)
Post a Comment