Sunday, July 3, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

দ্বিতীয় খণ্ড
আজম খাঁ
২৩। সম্রাটের শ্লেষ
শাহজাদা মহম্মদ শাহ আজম, তার চরিত্রের ছ্যাবলামি আর জঘন্য জিহ্বার জন্য খাস দরবার ঝাঁট দেওয়া ঝাড়ুদার জামা’র প্রিয় ছিলেন। এই সংবাদটি সম্রাটের কান পর্যন্ত পৌঁছল। যখন জামা খাস দরবার পরিষ্কার করছিল, সম্রাট আজম শাহের দিকে ফিরে বললেন, ‘বাবা! এই ঝাড়ুদারের চারটি পুত্র আছে’। আজম শাহ উত্তর দিলেন, ‘এর একটিমাত্র পুত্র, এবং সেটিও আবাল’। মহামহিম উত্তর দিলেন, ‘তোমার বক্তব্য ভুল হল। আমার তথ্য বলছে, তার চারটি পুত্রের মধ্যে একটি পারস্যে অবস্থান করছে!’ এই কথা শুনে শাহজাদা সম্রাটের কথার দিক বুঝলেন, এবং লজ্জিত হলেন। তিনি তার বোন জিনাতউন্নিসাকে অভিযোগ করে বললেন, ‘মহামহিম আমার মাকে অপমান করেছেন, কেন না তিনি সাধারণ একজন ঝাড়ুদারকে আমার পিতা বলে সম্বোধন করেছেন!’ সম্রাট উত্তর দিলেন, ‘তাহলে কিন্তু তুমি সম্রাট শাহজাহানকেও সম্মান জানাও নি, তুমি তার পুত্রকে ঝাড়ুদার জামার পুত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছ’।
মন্তব্য – যে সময়ের কথা হচ্ছে আওরঙ্গজেবের চারিটি সন্তান তখনও বেঁচে ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহজাদা আকবর ১৬৮১ সালে সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পারস্যে পালিয়ে যান।'
২৪। পুত্রদের দূরত্বে রাখতেন আওরঙ্গজেব
গুজরাটের সুবাদার মুহম্মদ আজম শাহ আবেদন করেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের জ্বরে ভোগার শারীরিক অসুস্থতা ছিল, আমি দু মাসে বেশি হল সুস্থ হয়ে উঠেছি, কিন্তু এখনও অশক্ত এবং খুব বেশি কথা বলতে পারি না। আমার অনুরোধ আমাকে আপনি এই সুবা থেকে আপনার কাছে নিয়ে রাখুন, যাতে আমি আপনার সান্নিধ্যর আশীর্বাদ পেয়ে, আপনার পুণ্য পদচুম্বন করে নতুন করে জীবনলাভ করতে পারি’।
এর উত্তরে সম্রাট লিখলেন, ‘আমার হৃদয়ের ফল অসুস্থ হলে তাকে সব অবস্থায় রক্ষা করেন সর্বশক্তিমান। এই অসুস্থ অবস্থায় এত দূর থেকে আমার কাছে বয়ে নিয়ে আসা নির্মমতা হবে’।(কবিতা)
তিনি মনে করেন, মনে রাখা দেখা হওয়ার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ/ সর্বশক্তিমানকে ধন্যবাদ! আমার চক্ষু অকৃতজ্ঞ নয়।
এই অশক্ত অসুস্থ অসহায় মানুষটি(আওরঙ্গজেব)র(শরীরে) হাজারো রোগের সঙ্গে নানান উপসর্গ(যেমন মাথাধরা)র বাসা, কিন্তু সে সহিষ্ণুতাকে তার চরিত্রের কম্বল বানিয়ে ফেলেছে।(কবিতা)
যারা মৃত্যুর মুখোমুখি তারা বলেন/ ভাগ্য যে সব প্রত্যেক বেমরশুমি ঝামেলা প্রেরণ করে, তখন মনে হয় তিনি আমায় দাক্ষিণ্য করেছেন,/ কিন্তু রোগের প্রতি সত্যিই আমার কোন আগ্রহ নেই/ যে রোগ আমার দেহে বাসা বেঁধেছে, সেটি যেন অনির্দেশ্যর আমার প্রতি উপহার।
আমার বাঁকা কথা আর নিন্দনীয় ক্রোধ সত্ত্বেও, আমি আমার হৃদয় খুঁড়ে বলতে পারি, একমাত্র হৃদয়টাই বেঁচে থাকবে, আর সব কিছু চলে যাবে। তুমি কেন বাস্তব জগত নিয়ে খুব চিন্তিত? তোমার হৃদয় স্বর্গে যাবে, তখন এই বিশ্ব, এই সময়কে বিদায় জানাতে হবে।(কবিতা)
প্রত্যেক বিশ্বময় পণ্য তোমায় খুশি করে, কিন্তু তা তোমায় ধুলোয় মিশিয়ে দেয়/ একমাত্র চোখের জলই তোমায় স্বর্গে উন্নত করতে পারে।
মন্তব্য – ১৬৯৩ সালে মাদ্রাজের কুডাপ্পায় শাহজাদা আজমের শরীর ভারি হয়ে ফুলে উঠছিল, এই রোগে বহুকাল তিনি ভুগছিলেন। তার পরে তিনি সম্রাটকে চিঠি লিখে তার অবস্থা জানান এবং দিল্লিতে পৌছান ২২ অক্টোবর ১৬৯৩তে। কিন্তু তখন তিনি গুজরাটের সুবাদার ছিলেন না। ১৭০৫ সালে কাফি খাঁ গুজরাট থেকে শাহজাদার পাঠানো একটা নিবেদন উল্লেখ করছেন, যে আবেদনে বলছেন তিনি তার পিতার কাছে আসতে চান –
‘শাহজাদা মুহম্মদ আজম পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে তার পিতার মত চাইছেন, যাতে তিনি তাকে দেখতে আসতে পারেন, এবং বলেন এই সুবার জলবায়ু তার শরীরের পক্ষে উপযুক্ত নয়। এই শুনে সম্রাট ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে নিম্নলিখিত চিঠিখানি লেখেন – ‘আমিও আমার পিতা শাহজাহানকে তার অসুস্থতার খবর পেয়ে একই ধরণের চিঠি লিখেছিলাম(তার জীবনের শেষ দিকে), তিনি আমায় উত্তর দিয়েছিলেন দেশের প্রত্যেক এলাকার বায়ু প্রত্যেকের জন্য একই যদি না তাতে শয়তানি ভর করে’। শেষে তিনি তাকে রাজধানীতে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন, এবং শাহজাদা পৌছেছিলেন ২৫ মার্চ ১৭০৬ সালে।
(দ্বিতীয় খণ্ড এখানেই শেষ)
(চলবে)
Post a Comment