Monday, July 25, 2016

কাশিমবাজারের ইতিহাসঃ রেশম ব্যবসায়ী এবং অষ্টাদশ শতের ব্যবসা - রীলা মুখার্জী

তৃতীয় খণ্ড

যে সব ব্যবসায়ীরা কাশিমবাজারের রেশম ব্যবসায়ে নিয়মিত খরদ্দার ছিলেন তাদের নিজস্ব একটা স্তরবিভক্ত দালাল গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল, যারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে রপ্তানি বাজারের জন্য রেশম বস্ত্র কিনে আনত। ১৬৮০তে যখন এই রপ্তানি ব্যবসাটা শৃঙ্গে উঠতে শুরু হয় এবং ১৭৪০এ প্রায় শেষ হয়ে যায়, এই ৬০ বছরের মধ্যে সব থেলে লাভ করেছে এই দালাল গোষ্ঠী। যদিও ব্যবসাটা খুব ভালই চলত, কিন্তু সপ্তদশ শতে মুঘল সুবাদার, খেমচাঁদ, মুথুরাদাস এবং শুকানন্দ শাহের মত বড় পুঁজির ব্যবসায়ী এবং শ্রফেরা ব্যবসায় বেশ বড়সড় একচেটিয়া প্রবণতা কিন্তু তার মধ্যেই গজিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। এবং সিল্ক পিস গুডসএর একটি বৈচিত্র ব্যান্ডানোজএর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে ১৭৩০ সালে উঠেপড়ে লেগেছিল কাশিমবাজারের ব্রিটিশদের সব থেকে কাছের দালাল বালি কোটমা।
রেশম ব্যবসার শীর্ষ সময়ে উত্তুঙ্গ উত্তেজনার মধ্যেও ১৭০০ সালের পরের দিকে রেশম ব্যবসা কিছুটা থিতু হয়ে আসার লক্ষ্মণ দেখা দেয়। রেশমের ব্যবসাটা যেহেতু খুব দামি পণ্যগুলির সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট থাকা কিছু পণ্য সপ্তদশ শতের শেষের দিকে এই এলাকার কিছু খুব বড় ব্যাঙ্কিং কোম্পানিগুলি এসে জমতে থাকে এবং উত্তুঙ্গ সুদের হার গড় ১৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে গোটা অষ্টাদশ শতক জুড়ে। এবং ইওরোপিয় ব্যবসা যত বাড়তে থাকে, কোম্পানি আমলারা ব্যবসায়ীদের থেকে পণ্যদ্রব্যগুলি নগদ অর্থ দিয়ে কেনার চেষ্টা করতে থাকে। অষ্টাদশ শতে কাশিমবাজারে যে রেশমের ব্যবসায় ইওরোপিয়রা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কিন্তু কিছুটা হলেও অগ্রিম দিয়ে রাখতে শুরু করে যাতে তারা সঠিক সময়ে তাদের চাহিদা মত দ্রব্য সরবরাহ করতে পারে। এইভাবেই কিন্তু দাদনি বণিকদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল।
{তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত}
(চলবে)
Post a Comment