Thursday, July 21, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৬৩। প্রত্যেকটি প্রথা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে

দ্বিতীয় রুহুল্লা খাঁ যার নাম মীর হাসান, সম্রাটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর এবং বিশ্বাসী ছিলেন, তিনি তনখার খাজাঞ্চি এবং খাঁইসামান পদ পর্যন্তও আরোহন করেছিলেন। তিনি ছিলেন তিন হাজারি মনসবদার; নিজেকে খাওয়াস হিসেবে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আসাদ খাঁএর মাধ্যমে একটি আবেদনপত্র পেশ করলেন, ‘আমি তিন হাজারি মনসবদার। কিন্তু মাত্র সাতশ ঘোড়ার মনসবদার ফয়িউজুল্লা খাঁ সরবরি এবং ডেপুটি রেজিস্টার। আমাকে যদি দয়া করে সরবরি এবং ডেপুটি রেজিস্টার পদে বৃত করেন, তাহলে আমি আরও বেশি করে আপনাকে সেবা করতে পারব এবং তাতে মহামহিমের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে’।

সম্রাট নির্দেশ দিলেন, ‘তোমায় সরবরি করার আমার কোন অনিচ্ছে নেই, তাতে যেটা হবে তোমাকে বর্তমানে পাওয়া নিজের পদ হারাতে হবে এবং মাত্র সাতশ ঘোড়ার মনসবদার হসেবে কাজ করতে হবে’। তখন আসাদ খাঁ বললেন, ‘তাহলে কোথায় সে দাঁড়াবে?’ সম্রাট উত্তর দিলেন, ‘আমার মাথার ওপরে ছাড়া আর তো কোন স্থান দেখি না’। তখন তিনি আরও বললেন, ‘যদি একটি রীতি ভাঙ্গা পড়ে, তাহলে সব রীতিনীতিগুলিকেই ভেঙ্গে ফেলতে হয়। আমি রাজসভার কোন রীতি ভাঙ্গার পক্ষে নই, মানুষ এতই প্রভাবশালী হওয়ার বাসনা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে যে, তারা আমায় রীতি ভাঙ্গার পরামর্শ দিচ্ছে! যখন এই রীতি ভাঙ্গার ঘটনাটা বেড়ে যাবে, তখন বিষয়টা আর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না’।

মন্তব্য – প্রথম রুহুল্লা খাঁ বক্সীর দ্বিতীয় পুত্র মীর হাসান খানাজাত খাঁ উপাধি লাভ করেন এবং ১৬৯৭ সালে খাঁইসামান পদে এবং তার পিতার উপাধিতে অভষিক্ত হন। কর্মচারীদের দারোগা পদে অভিষিক্ত হন ১৬৯৯ সনে। দ্বিতীয় বক্সী হন ১৭০১ সনে। ৯ মার্চ, ১৭০৪ সনে, মধ্য যৌবনেই মারা যান।

৬৪। সরকারি রীতিনীতি মানা কঠোর করা হল

বাংলা সুবা থেকে পাঠানো সমীক্ষায় সম্রাট জানতে পারলেন যে, সুবার সুবাদার ইব্রাইম খাঁ নিদারুণ আত্মম্ভরিতা এবং গর্ব দেখিয়ে এইনি সভায় কেদারায় শুয়ে সভা পরিচালনা করছেন এবং কাজি এবং অন্যান্য ধর্মাধিকারীরা মাটিতে বসে থাকেন। সেই সমীক্ষাপত্রের ওপর তিনি লিখলেন, ‘ঐ সুবাদারকে প্রধানমন্ত্রী সম্রাটের নির্দেশক্রমে থেকে একটা আদেশনামা লিখে দেবেন, যে তিনি যদি অসুস্থতার জন্য যদি তিনি মাটিতে বসতে না পারেন, যতক্ষণনা তার অসুখ সারছে, ততদিন তিনি ছুটি নিন, এবং ভিষগদের গিয়ে তাঁকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে বলুক। সংবাদ লেখক(সাওয়ানিধনিগার)কে উচ্চ পদ মনসবে আসীন করানো হয়েছে, ফলে সে ব্যক্তিটি কোনভাবেই সংবাদ লেখকের কাজ করতে পারবে না। তাঁকে ১০০ ঘোড়ার মনসব দেওয়া হোক। ইব্রাহিম খাঁকে লেখ যাতে সে তার সুবায় সরাসরি ফৌজদারি(জেলা প্রশাসক) পায়, যাতে সে নিজের নির্দেশের বিরুদ্ধে অন্য লেখকদের সংবাদ চাখার স্বাদ অর্জন করে। য়ার আলি বেগ এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করুক এবং যাদের আত্মসম্মান আছে তেমন এক সংবাদ লেখক খুঁজে বার করুক।

মন্তব্য – ইব্রাহিম খাঁ বাংলার সুবাদার ছিলেন ১৬৮৯ থেকে ১৬৯৮ পর্যন্ত।
(চলবে)
Post a Comment