Thursday, July 7, 2016

Anecdotes of Aurangzeb – আহকমইআলমগিরি - আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান

তৃতীয় খণ্ড

৩৮। জায়গিরদারের যোগ্যতা

প্রধান খাজাঞ্চি, খ্বাজা সরবুলন্দ খাঁর পিতা ছিলেন বুখারার অন্যতম প্রধান খ্বাজা পরিবার, এবং সরবুলন্দ ছিলেন শাহেনশার অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতা। একদিন মহামহিম একটা মৃদু অভিযোগ করে বললেন, তার কথাবার্তায় হাল্কা শিয়াবাদের অন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি উত্তর দিলেন, ‘হে মহামহিম, বুখারার সৈয়দেরা অধিকাংশ শিয়া গোষ্ঠীর। ফলে আমার জিহ্বায় কিছুটা হলেও সেই সমাজের কিছু অবশেষ থেকে গিয়েছে। কিন্তু আমি এখনও সেই বিশ্বাসে পুরপুরি নির্ভর করি না। আমার দুর্ভাগ্য, আমি এখনও সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে পারলাম না, আর অন্যটাতেও প্রবেশ করতে পারলাম না’।

এই জন্য সর্বুলন্দ খাঁ পার্সিদের নানাভাবে সাহায্য করতেন, এবং সরকারে তাঁদের প্রতিষ্ঠা দিতে চেষ্টা করতেন, তিনি এক অভিজাতকে কাবুলের সুবাদারির জন্য (সম্রাটের কাছে)সুপারিশ করেছিলেন। তার আবেদনের ওপরে শাহেনশা লিখলেন, ‘আমি আমার বিশ্বস্ত আমলার এই সুপারিশ গ্রাহ্য করলাম। আমার পরিধেয়াগার থেকে ছটি অংশ বিশিষ্ট একটি সাম্মানিক জামা, অর্থাৎ খেলাত দেওয়া হোক(তার মনোনীত করা ব্যক্তিকে)। রীতি অনুযায়ী জেবর, ঘোড়া, হাতি দেওয়া হোক। তবে দেখতে হবে এই ব্যক্তিটি যেন তার কাজ ছেড়ে না যেতে পারে। সর্বশক্তিমান সব ভাল করুন।

মন্তব্য – অক্টোবর ১৬৭২ সালে সুর্বুলন্দ খাঁ দ্বিতীয় খাজাঞ্চি প্রধান নিযুক্ত হন, স্বপদেই মারা যান ২৭ ডিসেম্বর, ১৬৭৯। সর্বুলন্দের মা, বাদাকসানের রাজা মির্জা শাহরুখের কন্যা ছিলেন, নাম আই বেগম।

...পাঠান্তরে পাওয়া যাচ্ছে, ...যাতে ক্ষোভ না জন্মায় এবং হাস্যস্পদ না হতে হয় এবং যাতে বহুকাল ধরে মানুষ বিষয়টা নিয়ে চর্চা না করে। এই মানুষটি নিজের সম্বন্ধে গর্ব ও খুব উচ্চ ধারনা পোষণ করে এবং মনটা হিংসায় ভর্তি। আলেক্সান্দারকে প্লেটো লিখেছিলেন, ‘সরকার অত্যাচারী না হয়েও কঠোরভাবে চালিত হতে পারে এবং উপহাসাস্পদ না হয়েও নরম হতে পারে’। এই অভিজাত মানুষটি একটি নীতি রূপায়নে জেদী এবং অবাধ্য, এবং বিরোধ এড়ানোর কৌশল জানে না। আর যেহেতু সে খুব সৎ এবং সরল, তাই সে বহু সময় জুয়াচুরি বা চক্রান্ত বুঝতে পারবে না। মুখোশের আড়ালে থাকার কৌশল না জানলে শাসন করা চলে না। আমাদের পুণ্য পরম্পরায় বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ হল শত্রুকে বন্দী করার কৌশল’। আইনশাস্ত্রবিজ্ঞানে নানান বিভাগ রয়েছে। এই সবগুলি নিয়েই গঠিত হয়েছে আর সরকার চালানোর শিল্প এই সব কিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে। যখন আমি দাক্ষিণাত্যে সুবাদারি নিয়ে যাই, তখন এক দরবেশের সঙ্গে দেখা হয়, যিনি শব্দ ভেঙ্গে নতুন শব্দ তৈরি করা (তকসির)র কারিগর ছিলেন। তিনি আমায় দেখিয়েছিলেন, দুটি স্তবকের কয়েকটি শব্দ সাজিয়ে, সেগুলি থেকে মিল থাকা অক্ষর তুলে নিলে (বাকি পড়ে থাকা অংশ)র নির্দিষ্ট বাস্তবচিত মানে হয়। ধরাযাক হুকুমত(সরকার) এবং হিলাত(ধূর্ত)কে দুটি স্তবকে সাজিয়ে মিল থাকা অক্ষর তুলে নিলে পড়ে থাকে কুল, য়ুম আর মালিক, এগুলি যোগ করলে(কালব) পাই মালিকইকুলইয়ুম(সব সময়ের রাজা)। ফলে সরকারের সঙ্গে ধূর্ততা যোগ করলে, তা দীর্ঘদিন টিকে থাকে, এবং সবলভাবেই তার তা হয় সব সময়ের রাজা।

মানুষের দলের মধ্যে ধূর্ততা আর মুখোশ দুটি যৌথভাবে লুকিয়ে থাকে। তার পুণ্য বাক্যে(কোরাণে) সর্বশক্তিমান ধূর্ততা শব্দটি বলেছেন, ‘সর্বশক্তিমানই সব থেকে বড় চক্রান্তকারী’(অর্থাৎ, মানুষের কাছে সর্বশক্তিমান রহস্যময়, এবং মানুষের সঙ্গে তিনি সব সময় ঘোমটার আবরণ পরেই ব্যবহার করেন – মিলটনের স্যামসন এগোনিস্টস থেকে) অথচ কোরাণে শত্রুকে ঠকানোর কৌশলকে ঘৃণা করা হয়েছে। এবং কাবুল শাসন করতে এই দুটি গুণ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
(চলবে)
Post a Comment