Thursday, July 5, 2018

ভয়নিশ পাণ্ডুলিপি - নবজাগরনীদের হাতে ইওরোপিয় পাগান দেহতত্ত্ব ধ্বংস

Dipanjan Dutta Chowdhury ইওরোপের তন্ত্রচর্চা নিয়ে দ্য ওয়াল ওয়েবসাইটে জিষ্ণু বসুর একটি প্রবন্ধের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভয়নিশ পাণ্ডুলিপি বেশ কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম তন্ত্র পাঠ করতে গিয়ে। তবুও আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ।মুল পাণ্ডুলিপিটির পিডিফ সংস্করণ আমার আছে। কারোর দরকার হলে নিতে পারেন। 
---
জিষ্ণুবাবুর লেখা সুলিখিত প্রবন্ধটির তথ্যের বাইরে আমার কিছু বলার আছে। উপমহাদেশের জ্ঞান নকল করার কাজ বহুকাল থেকে করে চলেছেন ইওরোপের জ্ঞানীরা। তারা জানতেন অঙ্ক, পঞ্জিকা, সমুদ্রবিদ্যা, ধাতুবিদ্যা, চিকিতসাবিদ্যা ইত্যাদি বাবদে তাদের উপমহাদেশের সামাজিক জ্ঞান আর দক্ষতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া অসম্ভব।
যে সময়ে পুঁথিটি লেখা হচ্ছে, সে সময় পঞ্জিকা সংস্কারের জন্য এবং জ্ঞান সঞ্চয়ের জন্যে ইতালিয় জেসুইটরা ঠিক করে বিশ্ব জ্ঞানের কেন্দ্র উপমহাদেশে যাবে।তারা জানত তাদের পঞ্জিকা এবং অঙ্ক জ্ঞান যৎকিঞ্চিত, যে জন্য তারা বিশ্বের পরিধির মাপ ৪০% কম মাপে, তার প্রতিফলন ঘটে মানচিত্রে। ভারত আর আফ্রিকা খুব কাছাকাছি চলে আসে - যে জন্য ভাস্কো আফ্রিকার মেলিন্দের আশেপাশে ভারত খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।
সে যাই হোক, জ্ঞানের খোঁজে ১৫০০ সালের প্রথম দিকেই তারা ভারতে পা দেয়। প্রথমে দক্ষিণ ভারতে, তারপরে আকবরের রাজসভায় আসেন। তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বইও আছে। যে জ্ঞান নিয়ে তারা ইওরোপে যান তার বলেই পঞ্জিকা সংস্কার হয় এবং ইওরোপের সমুদ্রযাত্রা সুগম হয়। চন্দ্রকান্ত রাজুর মতে এই সময়ই কলনবিদ্যা ইওরোপে যায় এবং নিউটন লিবনিতসের হাতে পড়ে বিকশিত কলন অন্য রাস্তা ধরে - রাজু এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। জিভার্গিজ যোসেফও দ্য ক্রেস্ট অব দ্য পিকক লেখেন। রাজুর দাবি উচ্চগ্রাম আর যোসেফের দাবি নিম্নগ্রাম। অনেক পরে জয় সিংহের মানমন্দির তৈরি করার সময় জেসুইটদের অংশগ্রহণ ছিল। এটা জেসুইটদের ভারতে আসার প্রথম দিকে চুরি করা দেহতত্ত্বের জ্ঞান হতে পারে।
তবে আরেকটা সম্ভাবনাও থেকে যায়।
ইওরোপে কিমিয়াবিদ্যা, যাকে লেখক এলকেমি বলেছেন, খুব বড়ভাবে ছিল। এর সঙ্গে দেহতত্ত্বচর্চা জুড়ে ছিল গভীরভাবে। মনে রাখতে হবে ইওরোপে দেহতত্ত্বচর্চা খুব নতুন কিছু নয়। এটা ইওরোপে পাগানদের বড় কাজ। ইওরোপে পাগানেরা দেহতত্ত্ব বিপুলভাবে চর্চা করত।ডাইনিবিদ্যা ধ্বংস করতে, আদতে পাগান বিদ্যা ধ্বংস করতে, সাম্রাজ্যবাদী খ্রিষ্টধর্ম যে বিপুল নারী গণহত্যা চালিয়েছিল গোটা ইওরোপে, সেটা গল্পকথা নয়। পাগান জ্ঞানচর্চার অংশ ছিলেন তাঁরা। তাঁদের আর তাঁদের জ্ঞান উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। পাগানদের ধর্মস্থল, জ্ঞান, প্রযুক্তি, পড়াশোনা সব কিছু ধ্বংস করতে থাকে সাম্রাজ্যবাদী নবজাগরণবাদী খ্রিষ্টবাদীরা। লুঠেরা খুনি নবজাগরণের সময় গোটা পাগান সভ্যতা ইওরোপ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় মাত্র কয়েক শতকের মধ্যে। উপমহাদেশে ইওরোপিয়ভাবে শিক্ষিতরা দেশিয়(এবং এশিয়) জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তি, প্রজ্ঞান ইত্যাদি ধ্বংস করতে যেমন আশ্রয় নিয়েছেন ইওরোপিয় সেকুলারিজমের ছাতার তলায়, তেমনি ইওরোপের লুঠেরা নবজাগরণের পাগান জ্ঞানচর্চার ধ্বংস ক্রিয়ার জন্যে উদ্ভব হয়েছিল সেকুলারিজম নামক হাতিয়ার।
আমার ধারণা সেই ধ্বংস্ক্রিয়ার সময় পাগান গুঢ় দেহতত্ত্ব লুকোতে এই ধরণের লেখার উদ্ভব।

No comments: