Wednesday, September 12, 2018

আওরঙ্গজেবঃ দ্য লাইফ এন্ড লেগাসি অব ইন্ডিয়াজ মোস্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল কিং২২ অড্রে ট্রুস্কে


যে সময় আওরঙ্গজেব নিজেকে শুধু সাম্রাজ্যের শাসক নয়, নিজেকে উপমহাদেশের নৈতিক বিচার দেওয়ার শাসক হিসেবে দাবি করছেন, এটা মুঘল সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্রের এক নতুন ধরণের বিষ্ময়কর উর্ধতন কর্তৃপক্ষীয়রূপ(হায়ার্কি), যা তিনি সাম্রাজ্য প্রধানের আচ্ছাদন হিসেবে নিজের গায়ে পরে নেবেন। এক সময় সাম্রাজ্যের প্রাক্তন প্রধান হিসেবে শাহজাহান নতুন সম্রাটের বাংলা এবং দাক্ষিণাত্যে অকার্যকরভাবে সৈন্যবাহিনী নিয়োগ করার কড়া সমালোচনা করেন। আওরঙ্গজেব বললেন, দক্ষ বিজেতারা সব সময় মানবিক শাসক হন না। মানবিক শাসকদের প্রাথমিক কাজ হল সুশাসন দেওয়া।
আওরঙ্গজেবেরনীতিনিষ্ঠ বিচার দেওয়ার প্রতি প্রকাশ্য নিবেদনের উদাহরণ, তাঁর সময়ের বহু সূত্রে উল্লিখিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ মানুচি, যাকে কোনভাবেই আওরঙ্গজবের অনুরাগী বলা যাবে না, লেখেন, He was of a melancholy temperament, always busy at something or another, wishing to execute justice and arrive at appropriate decisions। জ্যোতিষী ঈশ্বরদাস, ১৬৬৩ সালে আওরঙ্গজেবের সম্পর্কে সংস্কৃততে বিশদে লিখেছেন, এবং সমরাটের চরিত্র সম্পর্কে বলছেন ন্যান্যনিষ্ঠ(dharmya) এবং বলছেন তাঁর রাজস্ব নীতি আইনবদ্ধ (vidhivat)।
আওরঙ্গজেবের সার্বভৌমত্বের মূল্যানের ভিত্তিটাই ছিল ন্যায়নিষ্ঠ বিচার যদিও এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জুড়েছিল চিত্তাকর্ষক ফলিত রাজনীতি আর ক্ষমতা দখলের অসীম আগ্রাসী পিপাসার স্বাস্থ্যকর যৌথ মেলবন্ধন। আমাদের যদি আওরঙ্গজেবের জীবন আর শাসন নিয়ে ভাবতে হয় – হিন্দুস্থানের সিংহাসন দখল করতে তার ভাইদের পদললিত করা থেকে শুরু করে হিন্দুমন্দির বিষয়ে তার মনোভাব থেকে শুরু করে সুফি সন্তদের সমাধির পাশে তার সরল সাধারণ কবরের ভাবনা, তাহলে আমাদের নতুন করে প্রয়োগবাদী এবং কার্যকর নেতা বলতে আমরা কি বুঝি তার ছবিটা তৈরি করার দরকার হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নির্দেশমূলক কারণগুলি হিসেবে আমরা দেখতে পাই, আওরঙ্গজেবের তৈরি নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের ধারনার বাইরে গিয়ে যখন তিনি তার পিতাকে সিংহাসন চ্যুত করেন এবং দাক্ষিণাত্যের মুসলমান রাজত্বে প্রায় অমানুষিক যুদ্ধ চাপিয়ে দেন। আওরঙ্গজেব বহু সময় বাস্তববাদী রাজনীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে হয়েছেন, এবং তার এই অস্বস্তি থেকে আমরা বুঝি তার নয়্যবিচার আর সুশাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতির সীমারেখা থেকে।

মহান মুঘলদের উত্তরাধিকারের পরম্পরা
হিন্দুস্থানে আমরা এক টুকরো এই রুটি হিসেবে যেটি পেয়েছি(মুঘল সাম্রাজ্য), সেটি মহান তৈমুর আর আকবরের মহানুভব দান – নাতি বিদর বখতের প্রতি আওরঙ্গজেবের চিঠি


বিশাল বড় উপমহাদেশিয় সাম্রাজ্য ছাড়াও আওরঙ্গজেব বৌদ্ধিকভাবে উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিলেন বর্ণময় মুঘল অতীত যা তার সামনে অনুসরণযোগ্য রোল মডেল হিসেবে উপস্থিত ছিল। তার লেখাপত্তরে অতীত সাম্রাজ্যের প্রখ্যাত গুরুত্বপুর্ণ পূর্বজদের নাম নিয়ে তিনি বারবার বলেছেন, কিভাবে মহান সম্রাট হয়ে ওঠা যায়। উদাহরণস্বরূপ পরিণত বয়সে এক চিঠিতে তাঁর এক নাতিকে লিখছেন এই মুঘল সাম্রাজ্য মহান তৈমুর এবং আকবরের মহানুভব দান, এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সম্রাটেরা দায়িত্ব নিয়ে এই সাম্রাজ্যের বিপুল বিচ্ছুরিত ঔজ্জ্বল্যকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছে। 

No comments: