Monday, September 24, 2018

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন – এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল - সুশীল চৌধুরী২

ভূমিকা
বাংলা প্রথম সুবা যেটি প্রথম বিদেশি উপনিবেশে পরিণত হয়, তাই এই এলাকার ঔপনিবেশিক পূর্ব সময়ের ইতিহাস, বিশেষ করে ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্প এবং অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বইটি ১৭৫৭র পলাশী যুদ্ধের আগে বাংলার অবস্থা কি ছিল এবং তার পরেই বা তার পরের ঔপনিবেশিক আমলে কি কি পরিবর্তন ঘটেছে সে সব আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ন। যদিও ঔপনিবেশিক শাসন কিভাবে পরম্পরার অর্থনীতির ওপর পড়েছিল, সেই গবেষণা প্রচুর পরিমানে ঘটেছে(এ বিষয়ে কিছু কাজের জন্যে এই বইগুলি পড়তে পারেন N.K.Sinha, Economic History of Bengal, 3 vols.; D.B.Mitra, Cotton Weavers of Bengal; Hameeda Hossain, Company, We~vers of Bengal; T. Rayc_haudhuri, 'The mid-Eighteenth Century Back~round' and S. Bhttacharya 'Regional Economy (1757- 1857): Eastern India' in Cambridge Economic History of India, vol. II.), কিন্তু উপনিবেশপূর্ব সময়ের অব্যবহিত আগে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের অবস্থা কি ছিল সে সব নিয়েও খুব বেশি কাজ হয় নি। এই বইটি বাংলার আলোচ্য সময়ের বিশদ বিবরণ পেশ করে। এটাও আমরা বলেছি ব্রিটিশপূর্ব সময়ে বাংলার সমৃদ্ধি(প্রথম পাতার দ্বিতীয় টিকা The word 'prosperity' is used here in the sense indicating a thriving state of affairs, especially in trade and industry, in contradistinction to the decline which was clearly manifest in the second half of the eighteenth century and culminated in the early nineteenth.) নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়, এবং পরম্পরার ব্যবসা এবং উতপাদনের অধোগমনের পথ তৈরি হয় অষ্টাদশ শতাব্দের দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথম বিষয়টা খুব কম আলোচ্য, তাই আমরা ১৭৫৭ পর্যন্ত সময়ের বিশদ আলোচনা করার সঙ্গে সঙ্গে পরের সময়ে সে সব পতনের ইঙ্গিত দেখাযাচ্ছিল তাকে সূত্রায়িত করব। তাই অষ্টাদশ শতকের বাংলা আমাদের কাছে একটি নিদর্শন হিসেবে কাজ করবে, কিভাবে একটি সমৃদ্ধশালী ভূখণ্ড বৈদেশিক শাসনে নিশ্চিতভাবে পতনের দিকে যায়। ভৌগোলিকভাবে মুঘল সুবা আজকের পশ্চিমবাংলা, বিহার, ওডিসা এবং আজকের আধুনিক বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত ছিল।

বিগত দুই শতাব্দ ধরে বাংলা মুঘল আমলের অন্যতম সমৃদ্ধশালী সুবা হিসেবে গণ্য হত। মধ্য সপ্তদশ শতকে, হয়ত তার আগেও এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে ওঠে। এর উর্বর ভূমিতে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ধরণের উতকর্ষময় ফসল উৎপাদন হত, এর সঙ্গে বিপুল দক্ষ অসংখ্য কারিগর এবং তাঁতি এবং চরমভাবে বিকশিত আর্থিক ক্ষেত্র এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা তাকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে পরিণত করে। অষ্টাদশ শতকের প্রথমপাদ পর্যন্ত যে বিপুল রাজস্ব বিলেই হোক বা নগদ সম্পদেই হোক নিয়মিত দিল্লির দরবারে পাঠিয়েছে। নিয়মিত বিপুল উদ্বৃত্ত তৈরি এবং এই উদ্বৃত্তকে খুব সহজে নগদী অর্থে পরিণত করার ক্ষমতায় ইওরপিয়রা এই এলাকাকে যে অধিকাংশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমঃশ তাদের ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিতে থাকে সেটাও খুব আশ্চর্যের নয়। বাংলা সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে প্রায় সব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এশিয় ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে থাকে এবং বাংলাকে তাদের সম্ভাব্য উপনিবেশ ক্ষেত্র হিসেবে হিসেবে দেখতে থাকে। সোনা দিয়ে বাংলার পণ্য কিনে, বিপুল রপ্তানি উদ্বৃত্ত তৈরি করত সওদাগরেরা, তাতে বাংলার বদনাম ছিল যে সে এশিয়ায় সমস্ত সোনার খাদক হয়ে উঠছে আর এখান থেকে এক কণাও কোথাও বেরোয় না(Alexa,nder Dow, Hindostan, vol. III, p. lxii.)। এই প্রসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ন তথ্যটিও মনে রাখা দরকার যে শুধুই ইওরপিয়রাই বাংলায় সোনা বয়ে নিয়ে আসত না ব্যবসার জন্যে, এশিয় ব্যবসায়ীদেরও নগদ অর্থ আর দামি ধাতু দিয়ে বাংলায় ব্যবসা করতে হত। আজ আর এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে বাংলা ছিল অতীব স্বনির্ভর, রূপো, (এবং সোনা - অনুবাদক)ছাড়া এ দেশে বিদেশি পণ্য আনায় যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা ছিল। আর যে পণ্যটি আসত সেটি হল তুলো এবং অন্যান্য অদামি ধাতু এবং ধনীদের ভোগ্যপণ্যাদি – রপ্তানির তুলনায় যার মোট মূল্য তুচ্ছই ছিল।

No comments: