Sunday, September 16, 2018

আওরঙ্গজেবঃ দ্য লাইফ এন্ড লেগাসি অব ইন্ডিয়াজ মোস্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল কিং৪২ - অড্রে ট্রুস্কে

(ছবি খ্বাজা মহম্মদ আল বাকি বিল্লার শিষ্য আহমেদ শিরহিন্দি)
এটাও বলা দরকার মুসলমান প্রজাদের সংশোধন করতে আওরঙ্গজেব অনেকটা বড়ভাবে সক্রিয় হয়েছিলেন। বিশেষ করে তাদের বহু গোষ্ঠীর ধর্মতাত্ত্বিক ধারণার ওপর তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। যেমন আহমদ শিরহিন্দির লেখার কিছু অংশের ওপর তিনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আহমদ শিরহিন্দি সুফি নকশবন্দীর আঙ্গিকের ধর্মগুরু, তাঁর তীব্র ব্যঙ্গাত্মক লেখার জন্যে তিনি মুসলমান সমাজে যথেষ্ট বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। শিরহিন্দি জাহাঙ্গিরের সময় মারা গেলেও শাহজাহানের শাসনকালে মুসলমান সমাজে তাঁর প্রখ্যাতি বাড়তে শুরু করে। তার তাত্ত্বিক লেখাপত্রর মধ্যে ছিল মাদ্রাসা পাঠ্যবই। বহু মানুষ তাঁকে ইসলামের নবীকরণের তাত্ত্বিক(মুজাদ্দিদ) হিসেবে দ্যাখা শুরু করতে থাকে, এমন কি তাঁকে একজন নবি হিসেবেও গণ্য করা হতে থাকে। সমসাময়িক ইওরোপিয় রাষ্ট্রগুলি যেভাবে ধর্মের ওপর কলম চালানোর ব্যবস্থাপনা তৈরি করে ফেলেছিল, মুঘল রাষ্ট্র সেটা সে সময় করে উঠতে পারে নি। কিন্তু আওরঙ্গজেব স্বয়ং উদ্যোগী হয়ে ১৬৮০র দশকে শিরহিন্দির বেশ কিছু ধর্মতাত্ত্বিক লেখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
বহু সময় আওরঙ্গজেবের দৃষ্টিতে ইসিলামের যে রূপ, সেটির সঙ্গে কোন গোষ্ঠীর ধর্মতত্ত্বে মিল না হলে তাদের ওপর আঘাত নামিয়ে আনতেন। উদাহরণ স্বরূপ ১৬৪০এর দশকে তিনি যখন গুজরাটের সুবাদার সে সময় মুঘল সেনা পঞ্চদশ শতকে তৈরি মাহাদাভি(Mahdavi) নামক একটি millennial গোষ্ঠীর জনা বারো সদস্যকে হত্যা করে। তাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল বলেই হয়ত তাদের ওপর এই আঘাত নামিয়ে আনা হয়। চল্লিশ বছর পর Mahdaviরা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান কিছুটা নামিয়ে এনে, গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একটি দল দরবারে গিয়ে সম্রাট আর তার কাজিকে বোঝাতে সমর্থ হয় যে তারা রাজনৈতিক উচ্চাশাহীন ধর্মগোষ্ঠী এবং মূলস্রোতের মুসলমান।
আওরঙ্গজেব অরাজনৈতিক মুসলমান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছেন। শাহজাদা কালের সময় তিনি ইসমাইলি বোহরাদের টার্গেট করে তাদের এক নেতাকে হত্যা করান। তার রাজত্বকালে আওরঙ্গজেব বরাবরই এই গোষ্ঠীকে যন্ত্রনা দিয়ে এসেছেন। সিংহাসনের ওঠার পর অষ্টম বছরে তিনি নির্দেশ দ্যান প্রত্যেক বোহরা মসজিদকে সুন্নি আঙ্গিকে পাঁচবার নামাজ পড়তে হবে, এমন কি সেনা দিয়ে তিনি এই গোষ্ঠীর বহু সদস্যকে গ্রেফতার করিয়েছেন।
---
অন্যান্য মুঘল রাষ্ট্রপ্রধানের মতই আওরঙ্গজেব জনকৃত্যর নাম করে মানুষকে পরিবর্তন করা বনাম ব্যক্তিইচ্ছার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম রেখা টেনেছেন। সঙ্গীত দ্বিতীয় অংশে পড়বে। আমরা অনেকেই জেনে এসেছি আওরঙ্গজেব তার সাম্রাজ্যের সময়ের গোটা অংশ সঙ্গীতকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। এই ভুল ধারনাটি আমাদের পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছেন গবেষক Katherine Schofield। আওরঙ্গজেব তার দরবারে কিছু নির্দিষ্ট সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলেন মাত্র।
উল্লেখযোগ্য আওরঙ্গজেব তাঁর সময়ে খুব প্রচলিত ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা আঙ্গিক নিষিদ্ধ করেন নি। এই প্রসঙ্গে একটা গল্প শোনা যায়। উচ্চপদস্থ বয়স্ক আমলা কামগর খাঁএর দ্বিতীয় বিবাহ উপলক্ষ্যে এক কবি কষাঘাতপূর্ণ ব্যঙ্গ কবিতা লেখেন। অপমানিত কামগর খাঁ আলমগীরের কাছে বিচার চাইলেন। আওরঙ্গজেব বললেন, এই কবি তাঁকেও ছেড়ে কথা বলে নি had not spared me [in his satires]; in return, I had increased his reward, that he might not do it again; yet in spite of this [favour] he had not on his part been less [satirical]। আওরঙ্গজেব তখন সেই আবেদন খারিজ করে দ্যান এবং কামগর খাঁএর অহং আহত হওয়া প্রেক্ষিতে বললেন, We ought to repress our feelings and live in harmony।

No comments: