Wednesday, May 16, 2018

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়২৬ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন
হোয়াইট স্টাডিজ আর অনুমানগুলির সমস্যার সমালোচনা

শিক্ষা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে সমাজতত্ত্ব পাঠ
ফলে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে এবং গবেষণা করে বার করতে হবে আধুনিক সমাজতত্ত্ব কোন কোন ধারনার ওপর ভিত্তি করে রয়েছে এবং সেই উপাত্তগুলি নির্ভর করে সেগুলিকে কিভাবে এশিয় দেশিয় বৌদ্ধিক পরম্পরার সঙ্গে জুড়ে এশিয় সমাজতত্ত্বে সাজিয়ে তুলতে পারি এবং আমাদের ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেশজ ভাবনার সূত্র জুড়তে পারি। আজ পর্যন্ত ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আমাদের যা অভিজ্ঞতা, তাতে দেখেছি, ছাত্রছাত্রীরা অন্য কোন বিভাগে সুযোগ না পেলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ী শংসাপত্রের জন্যে সমাজতত্ত্বে ভর্তি হয়ে যায়, সে জানে বিন্দুমাত্র কিছু না বুঝে, বিন্দুমাত্র পরিশ্রম না করে সে বিপুল নম্বর পেয়ে যাবে। আমাদের ভাবতে হবে আদৌ এই সমাজতত্ত্ব পড়ানোর কোন যুক্তি আছে কিনা।

শিক্ষা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠেও ইওরোপমুখ্যতাই প্রায় শেষ কথা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে পশ্চিমের তৈরি হাজারো বাতিল, অযৌক্তিক তত্ত্ব ঠুসে দিয়েছে যাতে আগামী দিনে এই বিষয়ে ছাত্রদের মধ্যে বাস্তব রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে সদর্থক আলাপ আলোচনার পরিবেশই তৈরি না হয়।
সব কটা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম, অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমের মতই প্রথমে ইওরোপে সূচনা হয়, এবং তার পরে আমেরিকিয়রা তাদের স্বার্থেই এটি দখল করে। আমাদের এই বিশ্বে গবেষণার একটাই লক্ষ্য ইওরোপ আমেরিকার কোন নব্য তত্ত্বকে তুলে নিয়ে তার ওপরে পিএইচডি থিসিস করা। The Achieving Society বইতে David McClelland কৃতিত্ব অর্জনের প্রেরণা(achievement motivation) নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারপরে তিনি লিখলেন Power: The Inner Experience। ক্ষমতার ভাষ্য রচনা করতে গিয়ে আমরা সেগুলি অবলম্বনে গাদা গাদা প্রবন্ধ লিখেছি। একই কথা বলতে পারি মাইকেল ফুকো, দেরিদা বা আরও শয়ে শয়ে ইওরোপিয় আমেরিকিয় লেখক সম্বন্ধে। ইওরোপ আমেরিকার তাত্ত্বিক চিন্তার প্রতি মানসিক দাসত্ব সম্পূর্ণ হয়েছে এবং এটি আমাদের পক্ষে খুবই অবমাননাকর।
অবাক কাণ্ড যে আমাদের কারোরই অবিশ্বাস করা উচিত না যে অসাদা সমাজের খুব জোরালো রাজনৈতিক চিন্তার পরম্পরা রয়েছে। ভারত এবং চিনের প্রচুর রাজনৈতিক ধারনার বই রয়েছে যেমন Book of Mencius, The Analects of Confucius  বা কৌটিল্যের Arthashastra ইত্যাদি। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে নিকোলো মাকিয়াভেলির দ্য প্রিন্স গেলানো হচ্ছে। পশ্চিমি বিদ্বতজনেরা এতই অশিক্ষিত যে তারা এই এশিয় রাজনৈতিক চিন্তাগুলি পাঠ্যক্রমে রাখার কথাই ভাবে নি। এবং আমরাও আর কতকাল এই পশ্চিমি অশিক্ষা এবং/অথবা উপেক্ষা সহ্য করে তাদের শিক্ষণের পদপ্রান্তে বিনা প্রশ্নে নকল করে যাব।
রামায়ণ এবং মহাভারতের মত দুটি মহাকাব্য রাজনৈতিক শিক্ষার বড় হাতিয়ার হতে পারত। মহাকাব্যগুলিতে নৈতিকতা, দর্শন এবং রাজনীতি বিষয়ে বিশদে আলোচনা থাকলেও ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচীতে এদুটির কোন অস্তিত্বই লক্ষ্য করা যায় না। বিশেষ করে মহাভারতের যুদ্ধে, যুদ্ধ ক্ষেত্রে যুদ্ধ চলাকালীন নানান চরিত্রের মুখে যে রকমের হিংসার বহিঃপ্রকাশের নানান তাত্ত্বিক আলোচনা দেখা যায় তা কোনদিন পড়াবার চিন্তা করাই হয়নি।

তাই আজকের ভারত, থাইল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কা বা ইন্দোনেশিয়ায়(মুসলমান দেশ হওয়া সত্ত্বেও) হাজারো শিক্ষার্থী শিক্ষা কেন্দ্রের ইওরোপিয়দের তৈরি করে দেওয়া পাঠের সীমান্তের বাইরে বেরিয়ে এসে শিক্ষাকেন্দ্রের চত্ত্বরের বাইরে এই পাঠগুলি নিয়ে নিজেরা আলোচনা করছে। এবং এটা তাদের দোষের নয়। 
Post a Comment