Monday, May 14, 2018

ইওরোপকেন্দ্রিকতা বিরোধী চর্চা - ইওরোপবিদ্য ভাবনার শেষ বিদায়২২ - ক্লদ আলভারেজ

সমাজ বিজ্ঞান পাঠ্যের বিবর্তন
হোয়াইট স্টাডিজ আর অনুমানগুলির সমস্যার সমালোচনা
শিক্ষা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে মনোবিদ্যা পাঠ

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতই ভারতে এবং অন্যান্য এলাকায় মনোবদ্যা শিক্ষণের পরম্পরার বিরুদ্ধে কাজ করার যুক্তি হল, সেগুলো থেরাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও সেগুলোর তাত্ত্বিক কাঠামো প্রায় নেই বললেই চলে, যার জন্যে এই বিষয়ের ওপর প্রায়ই প্রশ্ন উঠতে থাকে, এটাও মনে রাখা দরকার। আর এই সমালোচনা করেন এমন মানুষ, যাদের কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশের মনোবিদ্যার তত্ত্ব আর প্রয়োগের শেকড়ের যোগ অত্যল্প। তাদের সমস্যা হল স্থানীয় ভাষায়, সাহিত্যে এবং পাঠে তাদের জ্ঞান নেই বলে, এই ধরণের চর্চায় তারা অনভ্যস্ত। শুধু দেশিয় মনোবদ্যা চর্চাই নয়, অন্যান্য বিদ্যা চর্চাতেও তারা প্রায় অজ্ঞ।
অবশ্যই অবস্থা পাল্টাচ্ছে তার বড় কারণ বহুকৃষ্টিক পদ্ধিতিতে কাজ শুরু করার জন্যে এবং যে কাজে সাদা চামড়া নির্ভর মনোবিদ্যার ভিত্তিকে, প্রয়োগবাদিতা এবং তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বহুকৃষ্টিক পদ্ধিতিতে কাজ শুরু করার একটা অসুবিধে হল, সে বার বার ইওরোপকেন্দ্রিক মণবিদ্যা চর্চার তত্ত্ব, পদ্ধতিগত ভিত্তিকে তৌল করে। নাইডু বলছেন, ইওরোপিয় ধাঁচে বিজ্ঞান এবং গবেষণার পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুধু যে বিরোধিতা করা হয় তাই নয়, overemphasis on diagnosis and treatment of individual mental illness নিয়ে এটির ক্লিনিক্যাল এপ্রোচটিও সমালোচনা করা হয়। ঠিক হল বৃহত্তর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মনোবিদ্যার অন্তর্ভূক্তি করা উচিত।
ইওরো-আমেরিকিয় মনোবিদ্যার নীতি thus be said to have not only precluded insights of people into their own psyches available in their own intellectual traditions but also led to violent, inhuman and wholly destructive approaches in their own histories
মনোবিদ্যাচর্চার শেকড়ে ফিরতে ভারতে কিছু উদ্যম নেওয়া হয়েছে বিশেষ করে বৌদ্ধ মনোবিদ্যা চর্চায় অভিধর্ম সূক্তে কিছু বিষয় নজরে এসেছে। যোগচর্চাতেও মনোবিদ্যার চর্চা নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি সম্মেলন হয়ে গেল এবং একে বৃহত্তর মনোবিদ্যা পরম্পরার সঙ্গে এবং ছাত্রদের যাতে যোগ্য শংসাপত্র দেওয়া যায় তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।  

শিক্ষা সাম্রাজ্যবাদ হিসেবে নৃতত্ত্ব পাঠ
বিজ্ঞান হিসেবে নৃতত্ত্ব একটি মৃত বিদ্যা। আজ আর এটির বেঁচে থাকার কোন যৌক্তিক কারণই নেই। অথচ আমাদের দিকের বিশ্বে আজও মানুষ নৃতত্ত্বে আস্থাবান তার বড় কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলীর পাঠদানের ঔপনিবেশিক কাঠামো, যা সহজে ভেঙ্গে ফেলা যাচ্ছে না কারণ তারা তাদের প্রাক্তন শাসক প্রভুদের তৈরি এই বিদ্যার রাজনৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্ন করে না।
ক্লদ লেভি-স্ত্রাউস একদা বলেছিলেন, বিজয়ীরা বিজীতদের নিয়ে তৈরি করা বিদ্যার বিজ্ঞানের নাম দিয়েছে নৃতত্ত্ব। এই সূত্রে তিনি বলেছেন কেন বিজীতরা নৃতত্ত্বচচর্চা করতে পারবে না। এ বিষয়ে তাঁর উক্তি তুলে দেওয়া গেল
‘Anthropology is not a dispassionate science like astronomy, which springs from the contemplation of things at a distance. It is
the outcome of a historical process which has made the larger part of mankind subservient to the other, and during which millions of innocent human beings have had their resources plundered and their institutions and beliefs destroyed, whilst they themselves were ruthlessly killed, thrown into bondage, and contaminated by diseases they were unable to resist.
‘Anthropology is daughter to this era of violence. Its capacity to assess more objectively the facts pertaining to the human condition reflects, on the epistemological level, a state of affairs in which one part of mankind treated the other as an object.

‘A situation of this kind cannot be soon forgiven, much less erased. It is not because of its mental endowments that only the Western world has given birth to anthropology, but rather because exotic cultures, treated by us as mere things, could be studied accordingly as things. We did not feel concerned by them whereas we cannot help their feeling concerned by us. Between our attitude towards them and their attitude towards us, there is and can be no parity.’ (Smithsonian Lecture)
Post a Comment