Monday, May 14, 2018

বাংলার ইতিহাস ও নারী মুক্তি

বাংলার ইতিহাস জানা দরকার - উপনিবেশ তার স্বার্থে অনুগামী ভদ্রবিত্তকে অনেক কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিখিয়ে গিয়েছে, তার বাইরে বেরোতে হবে তো।
বাংলার ইতিহাস উচ্চবর্ণের পরিবারের মহিলাদের ইতিহাস নয়(সেই পরিবারের মেয়েরাও সুতো কাটতেন চরকা চালাতেন), কারিগরদের পরিবারের ইতিহাস। বাংলার জনসংখ্যায় উচ্চবর্ণের সংখ্যা ১ শতাংশও ছিল না। আজও এবং সেদিনও শূদ্র নমঃশূদ্র পরিবারের মেয়েরা কাজ করতেন। আজও এই কারিগরদের ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতির যুগে মেয়েরা যদি কাজ (নিজের পরিবারের কাজ ধরছিই না, উতপাদনের সঙ্গেও যুক্ত থাকার কাজ বলছি) না করে তাহলে গোটা অর্থনীতি দাঁড়িয়ে যাবে। এডামের ১৮৩৫-৩৮এর শিক্ষা সমীক্ষায় ১৯টা মেয়েদের বিদ্যালয় দেখেছিলেন(পলাশী, ছিয়াত্তর, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, লুঠ বিশিল্পায়ন পেরিয়ে এসেছে)। ১৮০৮ সালে যতদূর সম্ভব হ্যামিলটন বুকানন বুকানন পাটনা জেলায় সাড়ে তিন লক্ষ চরকা কাটনি দেখছেন - এবং পাটনা কাপড় বোনার জন্যে খুব বেশি প্রসিদ্ধ ছিল না।
খুল্লনা তার স্বামীর হাতের লেখা দেখে চিনতে পেরেছিল। সে পড়তে জানত বলে। কর্ণাটের রাজকন্যা ছেলেদের মুরগি বানাতেন পড়াশোনা জানতেন বলেই। মাধবমালঞ্চি কইন্যায় মালঞ্চী পাঠশালায় যাচ্ছেন(গীতিকায় মেয়েদের পাঠশালার যাওয়ার উদাহরন ভুরি ভুরি), হটু হটি বিদ্যালঙ্কার পাঠশালা চালাতেন।
তাছাড়া মুসলমানী মেয়েদের নিয়ে কত চোখের জল ফেলানো - পর্দানশীন, হারেমে সময় কাটান ইত্যাদি - তাদের সম্বন্ধে বলা যাক - আকবরের স্ত্রী মারিয়ুজ্জামানি জাহাজের ব্যবসা চালাতেন, হজে তার পিসিশ্বাশুড়ি আর ৩০ জন মুঘল মেয়েদের নিয়ে যান, হজে লোক নিয়ে যাওয়া তার ব্যবসা ছিল, পর্তুগিজদের সঙ্গে ব্যাপক লড়াই হয়, নুরজাহানের কথা ছেড়েই দিচ্ছি। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুঘল বিদুষী বা বেগমস অব বেঙ্গল পড়তে পারেন।
মহিলাদের স্বাধীনতা নেই, জ্ঞান কারিগরেরা লুকিয়ে রাখত(পশ্চিমি পেটেন্টওয়ালারা, জ্ঞানচোরেরা এই অভিযোগ করে), বাংলা জুড়ে সতীদাহ (এটা উচ্চবর্ণের সমস্যা) হত এ সব ঔপনিবেশিক মিথ আর কতদিন?
Post a Comment