Monday, November 7, 2016

উপনিবেশিকতাবাদ বিরোধী চর্চা - মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছরের পাঠ


মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছরের মূল অবদান - সবার উপরে কর্পোরেট সত্য তাহা ছাড়া গতি নাই গোছের মধ্যবিত্ত বাম ভদ্রলোক প্রণোদিত সর্বব্যপী ভয়ের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ...
ভয় পাইয়ে দেওয়া কর্পোরেট লুঠেরা ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির রণনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ;
এই সর্বব্যাপী ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে কর্পোরেট খাতক মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক - যাদের পড়াশোনা, জীবনধারণ, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, ভাবনাচিন্তা এবং রোজগার সবই কর্পোরেট উদ্যম থেকে আহৃত।
মধ্যবিত্ত সমস্ত সংস্কৃতিই - এমন কি বামেদের কর্পোরেটিয় বিশ্বায়ন বিরোধিতা আদতে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকেদেরকে আরও বেশি করে কর্পোরেট আওতায় নিয়ে ফেলার চক্র - এই ভয়ের পরিবেশে থেকে থেকে তার মনে হয় এই সার্বিক কর্পোরেটিয় পরিবেশে আর কিছু করার নেই, কর্পোরেটের অঙ্কশয়ানি হওয়া ছাড়া।
লোকসংস্কৃতি আর হস্তশিল্পের মত, বা গ্রামকে প্রান্তিক দেগেদেওয়া বা ক্ষেত্রসমীক্ষা
বা লুপ্তপ্রায় জাতীয় শব্দবন্ধ বড় পুঁজির পড়াশোনার রচনা - বিশেষ করে জাদুঘরিয় বিদ্যা চর্চা আরও বড় ভূমিকা পালিন করেছে - যেটা আমরা পরমে বারবার দেখাতে চেষ্টা করেছি -
এই সংস্কৃতি উতপাদন ব্যবস্থা এগুলি যে তাঁদের তুলনায় কত ন্যুন, প্রান্তিক জাদুঘরিয় তুচ্ছ তা প্রমান করার চেষ্টা করে, তাই এই শব্দগুলি পশ্চিমি ইওরোপিয় বিদ্যায় মাহির ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের খুব প্রিয় - এবং সে অবচেতনে আদলে বড় পুঁজির উপনিবেশের দালাল হিসেবে কাজ করে।
আমাদের দলের বহু কর্মী আগে সক্রিয় বাম কর্মী ছিলাম - এবং এখানেই আমাদের বামেদের প্রতি অভিমান - তাঁরা এই শুদ্র সভ্যতাটাকেই তাঁরা দেখার চেষ্টা করলেন না - ব্রিটিশেরা শুদ্র সভ্যতার বিশিল্পায়ন করল - মার্ক্সের সেই সভ্যতা
ধ্বংসের প্রণোদনাটাকেই সত্যি ভেবে শুদ্র সভ্যতার ধ্বংসের জয়গান গাইলেন।
সেই প্রবণতা আজও চলছে
সৌভিক বলেছেন চিনে মাও করেছেন, কিন্তু এই বাংলায় অষ্টরম্ভা
এই সুযোগে আবার গ্রাম অর্থনীতির জীবনযাত্রার বাস্তবতাটা দেখে নেওয়া যাক গ্রাম উতপাদকেদের বাংলা বাজার কতটুকু -
বাংলায় অন্তত ৫০ লক্ষ ছোট উদ্যমী, ৭ লক্ষর বেশি তাঁতি এবং অন্তত ৩ লক্ষ পরম্পরার অভিকর শিল্পী রয়েছেন – মোট ৬০ লক্ষ। এবারে বোঝা যাক – যদি প্রত্যেককে মাসে দুহাজার টাকা রোজগার করতে হয়, তাহলে নিশ্চই বছরে ন্যুনতম ১ লাখ টাকার উতপাদন এবং ব্যবসা করতে হবে। তাহলে ৬০ লক্ষ গুণ ১ লক্ষ – অর্থাৎ ন্যুনতম ৬০ হাজার কোটির ব্যবসা দেয়।
বাংলার ক্ষেত্রফল এবং জনসংখ্যা ভারতের গড় জনসংখ্যার কাছাকাছি – এই অঙ্কের সঙ্গে যদি আমরা রাজ্যগুলির গুণিতক করে ফেলি তাহলে যে অঙ্কটা দাঁড়াবে তা চোখ কপালে তোলার মতই। তাও তো কৃষি এই উদ্যমের বাইরে রাখা গিয়েছে।
ফলে কর্পোরেট ব্যবসার উচ্চতার ফানুষ চুপসে যায়।
তাই এই বিশাল বিপুল অর্থনীতির জোরে ২০০৮এর ইওরোপ আমেরিকার বিষকে নীলকণ্ঠের মত ধারণ করে গ্রাম ভারত, কর্পোরেট ভারতকে উদ্ধার করে আর সেই বেল আউটের জেরে কর্পোরেট অর্থনীতির ফাণ্ডামেন্টাল কত জোরদার সেই ফানুসে বাতাস ভরে বড় পুঁজি পোষিত ফেউয়েরা।
অন্তত বাঙ্গালিকে সেই ভয়ের পরিবেশ থেকে উত্তোরণের বার্তা দিচ্ছে মমতা সরকার - ছ মাস পাঁচ বছরের এটাই অন্তত আমাদের মত গ্রামীন সংগঠনের প্রাপ্তি
Post a Comment