Wednesday, November 23, 2016

বাংলা যখন বিশ্ব সেরা৮ - লাইফ অব মীর জুমলা, জেনারেল অব আওরঙ্গজেব

জগদীশ নারায়ণ সরকার

৫। গোলকুণ্ডা রাজ্যে মীর মহম্মদের প্রভাব
এইভাবে মীর জুমলা বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত দপ্তরে কাজ করেছেন, ‘এবং প্রায় সব ক’টায়’, মানুচি বলছেন, ‘তাঁর নিজের ছাপ ছেড়ে গিয়েছেন।’ ক্রমশঃ তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। প্রথম জীবনে পাওয়া ‘নবাব’ উপাধি পাওয়া সূত্র একটা ব্রিটিশ কুঠির তথ্যে পাচ্ছি ২৮ মে, ১৬৩৮ সালে, তাঁর দশ দিন আগে তিনি সরইখাহিল পদে ছিলেন। নিজামুদ্দিন আহমেদ বলছেন, তাঁর প্রত্যেক পদক্ষেপে মীর মহম্মদ, সুলতানের মঙ্গল চাইতেন, এবং ফলে তাঁর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। মুঘল ঐতিহাসিকেরা সক্কলে প্রায় মীরের ক্ষমতার দক্ষতা এবং প্রভাবিত করার যোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় প্রকাশ করেন নি। ওয়ারিস বলছেন, মীর জুমলা আটক ও ফাটকের(মানে খোলা ও বন্ধ) যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, অর্থাৎ তিনি কুতুব শাহের সমস্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। আকিল শাহ বলছেন, ‘গোলকুণ্ডা রাজ্যের সর্বেসর্বা’ ছিলেন মীর জুমলা। কোন কিছুই তাঁর অনুমতি ছাড়া করা যেত না। তিনি সুলতান আর ইওরোপিয় কুঠিয়ালদের মধ্যে সংযোগসূত্র ছিলেন। তাভার্নিয়ে গোলকুণ্ডার সুলতান আবদুল্লা কুতুবশাহকে কিছু মুক্তো আর গয়না বিক্রি করতে চাইলে তাকে মছলিপত্তনম থেকে মীর জুমলার সঙ্গে দেখা করতে গোলকুণ্ডায় যেতে হয়েছিল। কেননা, ‘কোন ব্যতিক্রমী বা দামি কিছু কিনতে চাইলে, সুলতান মীর জুমলার সম্মতি ব্যতীত কোন পদক্ষেপই নিতেন না’(জুলাই ১৬৫২)। গোলকুণ্ডার আভ্যন্তরীণ প্রশাসনে তাঁর অবিসংবাদী প্রভাব এবং তাঁর বিপুল ব্যবসার জাল দেখে বিদেশিদের মনে হত রাজ্যে তাঁর ক্ষমতাই চূড়ান্ত। ঠিক এই জন্য মছলিপত্তনমে এক ব্রিটিশ কুঠিয়াল তাঁর পারস্যের এক কুঠিয়াল সতীর্থকে লিখেছিলেন, ‘সম্রাটের বকলমে সরইখাহিল সারা রাজ্য শাসন করে’। গোলকুণ্ডায় আসা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দূত এন্ড্রু কোগু(১৬৩৯) জানাচ্ছেন, ‘(এটা)সত্যি যে সরইখাহিলই সারা রাজ্য শাসন করেন’। শেখ মহম্মদ ইবনইখাতুন মীর জুমলা পদ ছাড়ার পর মীর মহম্মদ মীর জুমলা পদে আসীন হন। কিন্তু কোন তারিখে সেটা জানা যাচ্ছে না। ফলে মীর মহম্মদের মীর জুমলায় রূপান্তরের তারিখটি আমাদের অজানা থেকে যাবে। অধ্যাপক শেরওয়ানির ধারণা বিজয়নগরের অন্যতম প্রধান দূর্গ, উদয়গিরি জয় করার খবর ১৮ জুন, ১৬৪৩ সালে যখন সুলতানের কাছে আসে, তখনই তিনি তাঁকে মীর জুমলা পদবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবশ্যই এটি একটি উপযুক্ত সময় নতুন পদে আসীন হওয়ার। ১৬৪৩০-৪৪ সালে সোয়ালি কুঠি ওয়ালাদের তাঁর সম্বন্ধে মন্তব্য, 'ক্ষমতায় থাকা সরইখাহিল বা উজির, সরকারকে চালায় এবং দেশটা নিয়ন্ত্রণ করে', এ তথ্যটা কিন্তু মাথায় রাখা দরকার। তবে প্রশাসনে তিনি কুশলী ছিলেন, সরকারে ছিলেন প্রভাবশালী। কিন্তু মীর জুমলা যুদ্ধেও যে খুব দক্ষ ছিলেন, তা প্রমান হয় তাঁর পূর্ব কর্ণাটক দখল করায়, যেখানে তিনি ১৬৪২ সালে সুলতানেরও বিরোধিতা করেছিলেন। সেই ঘটনাটা পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তৃতাকারে বলব। তাঁর সম্মান এতই ছিল যে সুলতান তাঁর দুই মন্ত্রী সুজাউলমুল্ক এবং উলচি বেগকে তাঁর সঙ্গী হতে নির্দেশ দেন।
(চলবে)
প্রথম অধ্যায় শেষ
Post a Comment