Friday, November 25, 2016

বাংলা যখন বিশ্ব সেরা১০ - লাইফ অব মীর জুমলা, জেনারেল অব আওরঙ্গজেব

জগদীশ নারায়ণ সরকার
দ্বিতীয় অধ্যায়
কর্ণাটকে মীর জুমলা
প্রথম পর্ব
ক। বীজাপুর
মহীশুরের উপত্যকায় বেশ কিছু হিন্দু রাজ্য যেমন ইক্কেরি, সেরা, ব্যাঙ্গালোর আর কুর্নুলকে ১৬২২-২৩ এবং তাঁর পরে ১৬৩৬-৪৮ সালে নিজের অধীনে নিয়ে আসে বীজাপুরের সুলতান। মাত্র সাত বছরে ১৬৩৭ থেকে ১৬৪৪এর মধ্যে তাঁর সেনাপতি (সরইলস্কর বা সিপাহসালার), রণদৌলা খাঁ(রুস্তমইজামান), আফজল খাঁ, মুস্তাফা খাঁ এবং খান মহম্মদ একে একে বেন্দুর আর মহীশূরের একাংশ এলাকা দখল করেন। ১৬৩৭-৪১ সালের প্রথম সেনাপতি রণদৌলা(রুস্তম) মালান্দ আর কর্ণাটক দখল করতে সক্ষম হয় সেনা পরাক্রমে আর কূটনীতিক চাতুর্যে। ত্রিকের আর বাসবপত্তনের রাজা কেং নায়ক (কেঙ্গে হানুয়া)র বেন্দুর দখল করে কানাড়ায় সেনা অভিযান শুরু হয়। রয়াল বিরুদ্ধে নায়েকদের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে তিনি রয়ালের সঙ্গে একটা চুক্তি করেন, তিনি তাঁর বিজিত এলাকার সম্পদ বিজাপুরে নেবেন এবং শুধু খালি দুর্গটা দখল করে রাখবেন তৃতীয় ভেঙ্কট। প্রাথমিকভাবে রুস্তমের প্রস্তাবে ভেঙ্কট রাজি হলেও পরে তিনি বাস্তব অবস্থা বুঝে পিছিয়ে যান। রুস্তম তখন ভেঙ্কটের বিদ্রোহী ভাইপো শ্রী রঙ্গর সঙ্গে সন্ধি করলেন। রাজ্যের ভেতর থেকে সাহায্যের সূত্র পেয়ে রুস্তম, কেং নায়কের সাহায্যে ইক্কেরির রাজা বীরভদ্রের রাজত্ব অধিকার করলেন(নাগর তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ১৬৩৭)। তারপর তুঙ্গভদ্রা নদী পেরিয়ে তিনি বর্তমান অনন্তপুর জেলার গাণ্ডিকোটার প্রামাসানি প্রধানের এলাকা তাদপার্তি অভিযানের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু পরিকল্পনা পালটে তিনি তাঁর সহকারী সেনাপতি আফজল খাঁকে নিয়ে, কেঙ্গে হানুয়ার পরামর্শে এবং শ্রী রঙ্গার বিদ্রোহের সুযোগে কেম্প গোণ্ডা(কেম্পে গৌড়া)র অধিকারে থাকা ব্যাঙ্গালোরের দিকে যাত্রা শুরু করেন(১৬৩৮)। সেরা(কস্তুরি রঙ্গার নিয়ন্ত্রণে টুঙ্কুর) দখল করে এটিকে সাহজী ভোঁসলেকে দিয়ে রুস্তম কান্তিরাভা নারাসা(রাজা কান্তি রাই)র দুর্গ দখল করে ৫ লাখ হুন ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিজাপুর ফিরে এলেন (১৬৩৮-৩৯)। ফলে এর পর থেকে বিজাপুর মহিশূরের বিশাল অংশ দখল করল।
বিজাপুরের বিরুদ্ধে রাজা নায়কের বিদ্রোহ আর কানাড়ি এলাকায় হিন্দু রাজাদের উত্থানে আবার রুস্তম ফিরে আসতে বাধ্য হলেন। ডিসেম্বর ১৬৩৮ সালে তিনি ইক্কেরির রাজার সাহায্যে তারিকারে-বাসবপত্তন দখল করেন। নায়কদের সেনা বাহিনীর সাহায্যে ভেঙ্কট লড়াই করলেন জুলাই ১৬৩৯ পর্যন্ত। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্গালোর দখল করতে পারলেন না। টুঙ্কুরের রাজা চিক-নায়কন-হাল্লির বিদ্রোহের খবরে রুস্তম সেটি দমন করতে আফজল খাঁকে পাঠালেন। তিনি বেল্লুর (তৃতীয় ভেঙ্কটের দখলে থাকা), টুঙ্কুর, বালাপুর আর কুনিগালও দখল করলেন। ১৬৪১এর মে-আগস্টে শ্রী রঙ্গার সঙ্গে হাত মিলিয়ে রুস্তম তৃতীয় ভেঙ্কটের বিরুদ্ধে ভেলোরে লড়াই করলেও মাদুরা, জিঞ্জি আর তাঞ্জোরের যুক্ত সেনাদলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে না পেরে ফিরে এলেন। চন্দ্রগিরির শ্রী রঙ্গা(তৃতীয় রঙ্গা) বিজাপুরের সঙ্গে চুক্তি করলেন (মার্চ ১৬৪৪) তাঁদের বিজয়ে তিনি সাথী হবেন, সেই দুর্গের লুঠ করা সমস্ত ধনসম্পত্তি বিজাপুর নিয়ে যাক কিন্তু শর্ত হল দুর্গটির অধিকার রয়্যালকে দিতে হবে। তাকে পাদশাহী চাদর দিয়ে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু খুব শীঘ্রই রয়্যাল এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বিজাপুরের বিরুদ্ধে হিন্দু জোট গড়ে তুলতে চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু কোন কিছুই রুস্তমকে দমাতে পারা গেল না, তিনি একের পর এক দুর্গ, এলাকা দখল করতে শুরু করলেন। পরে রয়্যালকে মাফ করার শর্তে রয়্যাল ৫০ লক্ষ হুন ক্ষতিপূরণ/পেশকাশরূপে হিসেবে দিতে বাধ্য হল। রুস্তমের পরের দখলি এলাকা হল বালাপুর আর কুলিহাল(কুনিগাল?, রয়্যালকে দেওয়া)। ১৬৪৪এ ইক্কেরির দুর্গ দখল হলের বেন্দুরের শিভাপ্পা নায়েকের কাছে হারলেও পরে তা খান মহমুদের চেষ্টায় দখলে আসে। তিনি সেই লড়াইতে পেন্নার থেকে কৃষ্ণা-তুঙ্গভদ্রার মধ্যে নান্দিয়াল, শ্রীভেল্লা এবং কানিগিরি(১৬৪৫)র মত প্রচুর দুর্গ দখল করলেন। ১৬৪৫এর মধ্যে বিজাপুর পশ্চিম, কর্ণাটকের বিপুল এলাকা দখলে আনতে পারল।
(চলবে)
Post a Comment