Friday, November 25, 2016

বাংলা যখন বিশ্ব সেরা১২ - লাইফ অব মীর জুমলা, জেনারেল অব আওরঙ্গজেব

জগদীশ নারায়ণ সরকার

গাজি আলির সেনাপতিত্বে কুতুব শাহি বিপর্যয়
মীর জুমলা কর্ণাটক থেকে গোলকুণ্ডা রাজসভায় যাওয়ার পর্বে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পেলেন গাজি আল বেগ। নেতৃত্ব আরও জোরদার করতে সুলতান তাঁকে পাঠালেন সৈয়দ মুজফফর, শাহ গজনফর খান, বিজাপুরের রুস্তমইজামানের জামাই এবং অন্যান্য সেনা আধিকারিককে। কিন্তু সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের পরিবর্তন গোলকুণ্ডার রাজ্যজয়ের পক্ষে শুভ হল না।

শ্রী রঙ্গ প্রাণপনে চেষ্টা করছিলেন গোলকুণ্ডার বিরুদ্ধে রণনীতির গুটিগুলি সাজানোর। বিজয় নগরের শেষ প্রভাবশালী নরপতি শ্রী রঙ্গ’র ছিল অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ক্রমশঃ মীর জুমলার আক্রমণের প্রাবল্য থেকে সেরে উঠছিলেন। যুবরাজ থাকাকালীন তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে বিজাপুরী হানাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পেয়ে তিনি তাঁর পূর্বের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়ে মুসলমান আক্রমনকারীর বিরুদ্ধে দক্ষিণের হিন্দু রাজাদের একজোট করতে সচেষ্ট হলেন, এমনকি ডাচেদের সাহায্যও প্রার্থনা করলেন। প্রাথমিকভাবে শ্রী রঙ্গ তাঁর সভার ষড়যন্ত্রীদের খতম করলেন। তারপর তাঁর কাছাকাছি মাদুরার তিরুমালা নায়েককে ধ্বংস করতে উদ্যমী হলেন। কিন্তু তিরুমালার নায়েক তাঞ্জোর আর জিঞ্জির নায়েকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁদের যৌথ শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। শ্রী রঙ্গ জিঞ্জির নায়কের বিরুদ্ধে বিপুল সেনাবাহিনী নিয়ে লড়তে গেলেন। তিরুমালার নায়েক বৃহত্তর দেশভক্তিকে চুলোয় দিয়ে শ্রী রঙ্গর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে গোপনে গোলকুণ্ডার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন, উত্তর দিক থেকে সুলতানকে, শ্রী রঙ্গর রাজধানী ভেলোর আক্রমণ করতে প্ররোচিত করে। এই সংবাদের শ্রী রঙ্গ জিঞ্জি থেকে তাঁর রাজ্যে ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং তাঁর সঙ্গে হাত মেলায় পশ্চিম উপকূলের ইক্কেরির নায়ক। কিন্তু শ্রী রঙ্গ তাঁর রাজধানীতে ঢুকে লুঠেরা গোলকুণ্ডার সেনা (১৬৪৩-৪৪)কে রাজধানী ছাড়া করে। দামরালা ভেঙ্কটাপ্পাকে গোলকুণ্ডার সঙ্গে হাত মেলাবার আগেই তিনি গ্রেপ্তার করেন। মীর জুমলা, বিজাপুরী সেনাপতিদের ১৫ লক্ষ প্যাগোডা এবং ১৫টি হাতি দিয়ে কিনে নিয়ে অভেদ্য উদয়গিরি দখল করার কাণ্ডে মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত আদিল সাহের ঈর্ষা আরও বেশি জ্বালিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন শ্রী রঙ্গ। কর্ণাটকের বালাঘাটে তখন ছিল বিজাপুরী ৬০০০ গোলান্দাজ আর ২০০০০ পদাতিক সেনা। রয়্যাল তাঁদের আক্রমন করে সেখান থেকে কুতুবশাহী সেনাকে উতখাত করলেন(জানুয়ারি ১৬৪৪)। তিনি এবারে তাঁর অভিজাতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেন – জিঞ্জি, তাঞ্জোর আর মাদুরার নায়েকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিপুল অর্থ দাবি করে বিজাপুরকে সেই অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঋণ শোধ করলেন আর জিঞ্জির হাত থেকে আর্নি দখল নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন।

কিন্তু শ্রী রঙ্গর পক্ষে একই সঙ্গে তাঁর রাজ্যের ভেতর আর বাইরের, দু ধরণের শত্রু বিরুদ্ধে লড়া খুব সহজ হল না। নিজের রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তাঁর আত্মীয় আয়াপ্পা দারমালার আক্রমনের ধাক্কায় দারমালা ভেঙ্কটাপ্পাকে মুক্তি দিতে হল এবং তাঁদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হল। অন্যদিকে যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্কটগিরি দখল করে রাখা গোলকুণ্ডা সেনা বাহিনীর আক্রমনের আশংকাও তিনি করছিলেন।

৬৪৪এর ১৪জুলালাইএর মাঝামাঝি কুতুব শাহী সেনাবাহিনী কাসি আলি(গাজি আলি)র নেতৃত্বে কোন বাধা ছাড়াই পুলিকটের কাছাকাছির শহরগুলি শহর দখল করে। এবং আরও অগ্রসর হয়ে ডাচেদের বাণিজ্য সুবিধা রেখেই তাঁদের আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়। ব্রিটিশেরা আশঙ্কা করছিল সেন্ট জর্জেও গোলকুণ্ডার আক্রমন আসতে পারে। কিন্তু আক্রমণকারীরা ডাচ সেনাপতি হিউসেনের জবরদস্ত প্রতিরোধ ভেঙ্গে গড়টি দখল করতে পারল না। উল্টোদিকে জিঞ্জির বিদ্রোহী নায়েক, গাজি আলির আক্রমনের আগেই রয়্যালকে আক্রমনের পরিকল্পনা করছিল পিছন থেকে। খবর পেয়ে রয়্যাল জিঞ্জির সঙ্গে চুক্তি করে হিন্দু সেনাপতি কিস্টাপ্পা নায়েককে তুলে নেন এবং চিন্নানা(মালাইয়া)কে আবার ক্ষমতায় বসান। কিস্টাপ্পা এবং ভেলুগতি শিঙ্গা হঠাৎ করে মুসলমান বাহিনীকে ভেঙ্গাল্লু হ্রদের সামনে(২১ আগস্ট ১৬৪৪) আক্রমন করে। গোলকুণ্ডার সেনাবাহিনীর প্রভূত ক্ষতি হয়। যৌথ বাহিনী তাদের আরমাগাঁও থেকে উদয়গিরি ছাড়িয়ে তাড়িয়ে দিয়ে আসে। মীর জুমলার বীরত্বপূর্ণ কাজ ধুলিতে মিশে গেল।
(চলবে)
Post a Comment