Thursday, August 23, 2018

লাইব্রেরিজ এন্ড লাইব্রেরিয়ানশিপ ইন এনসিয়েন্ট এন্ড মেডিভ্যাল ইন্ডিয়া - বিমল কুমার দত্ত - মুঘলযুগে গ্রন্থাগার৭

আকবরের মৃত্যুর সাত দিনের মাথায় পুত্র সেলিম, নুরুদ্দিন মহম্মদ জাহাঙ্গির বাদশা গাজি নাম নিয়ে আগরার সিংহাসনে আরোহন করেন। দৈহিক সুখে অনেকটা উৎসাহী জাহাঙ্গির পাদশা পিতা এবং পিতার পিতামহের বেশ কিছু গুণাবলী অর্জন করেন। তার রচিত জীবনী তুজুক, সাহিত্য দক্ষতার অবিসংবাদী চিত্র।
তিনি জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক এবং শিক্ষার অনুরাগী ছিলেন। তিনি নির্দেশ দ্যান, শিক্ষিত উত্তরাধিকারহীন ধনীরা মাদ্রাসা, ধর্মস্থান এবং গ্রন্থাগার তৈরি এবং সারানোর কাজ করবে। তাঁর নির্দেশ ছিল ত্রিশ বছর ধরে যে মাদ্রাসাগুলিতে কোন কাজ হয় নি, যেটি পশুপাখিদের আস্তানা হয়ে আছে, বা যে সব মাদ্রাসায় পড়ুয়া আর বিদ্বানের পদক্ষেপ পড়ে, সেইসবগুলিই সারানোর নির্দেশ দ্যান। তাই সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষণায় আগরা শিক্ষাকেন্দ্রের যে ঐতিহ্য বহন করছিল তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি শুধু অসাধারণ বিপুল গ্রন্থাগার উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জন করেছিলেন তাই নয়, তিনি প্রচুর চিত্রও উত্তরাধিকার সূত্রে পান। সেই চিত্রগুলিকে প্রদর্শন করার জন্যে তিনি একটি চিত্রশাল তৈরি করেন।
রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগার ছাড়াও তার নিজস্ব একটি গ্রন্থাগার ছিল। তিনি বই এত ভালবাসতেন যে তিনি যখনই গুজরাট যান, তখন তাঁর সঙ্গে একটি গ্রন্থাগারও ছিল। গুজরাটে তিনি উলেমাদের তার গ্রন্থাগার থেকে বই উপহার দিতেন। এই উপহারের একটি চিত্র জাহাঙ্গির লিখেছেন, “১৬ তারিখ, মঙ্গলবারে, গুজরাটের অভিজাতরা আমার কাছে দ্বিতীয়বার এলেন। আমি তাদের খেলাত, রাহাখরচ, জমি দিয়ে যেতে অনুমতি দিলাম। তাদের প্রত্যেককে আমার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার থেকে তাফসিরি কাশাফ, তাফসিরি হুসেইনি, রাহুজালতুলআহবাবএর মত পুস্তক উপহার দিলাম এবং প্রতেক পুঁথির পিছনে আমার গুজরাট আসার তারিখ লিখে দিয়ে সম্মান জানালাম।”
তার গ্রন্থাগারের জন্যে এবং তার বইপ্রেমের জন্যে তিনি উচ্চমূল্যে বই খরিদ করতেন। মার্টিন লিখছেন “যে পুথির জন্যে জাহাঙ্গির ৩০০০ স্বর্ণমুদ্রা খরচ করছেন, যার দাম ১০ হাজার পাউন্ড, সেটি আজকের প্যারিসে ২০০০ পাউন্ডেও বিক্রি হবে না। যদিও মানুষ পুরোনো বই আর চিত্রের জন্যে বিপুল দাম দিতে প্রস্তুত, ঠিক যেমন আমেরিকিয়রা রেম্ব্রাঁ এবং ভ্যান ডাইকসের ছবির জন্যে দ্যায়।”
জাহাঙ্গিরের সময়ও বইচিত্রণের কাজ আরও সমৃদ্ধ হয় এবং তিনি তা যথোচিত পৃষ্ঠপোষণাও করেন। আকবরের পছন্দ ছিল প্রায়-জীবন্ত চিত্রকলা, জাহাঙ্গিরও একইরকমভাবে বিশ্বাস করতে চিত্রাঙ্কনে জীবনকে তুলে ধরতে, তিনি বলতেন হাজার বর্ণনা দিয়ে যা বোঝানো যাবে না, সত্যিকারের জীবনের ছবি পাঠককে বিস্ময়াবিষ্ট করে তুলতে পারে। জাহাঙ্গির-নামায় চিত্রাঙ্কনের জন্যে তিনি চিত্রশিল্পী নিয়োগ করেন এবং মুকরব খান গোয়ার সমুদ্র বন্দর থেকে যেসব পশুপাখি ধরে আনেন সেগুলি তিনি তাঁকে দিয়ে জাহাঙ্গিরনামায় আঁকিয়ে নেন।
বিপুল গ্রন্থাগার চালু রাখার জন্যে তিনি বিপুল সংখ্যক আমলা বিশেষ করে নকলনবিশ নিয়োগ করেন। জাহাঙ্গির তুজুক লেখা শেষ করলে, তিনি গ্রন্থাগারের নকলনবিশদের সেটি নকল করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে নির্দেশ দ্যান। প্রথম নকলটি পান শাহজাহান। তিনি হস্তলেখকে গুরুত্ব দিতেন এবং তাঁর সময়ে লিপিকারদের সম্মান দিয়েছেন। প্রখ্যাত লিপিকার শেখ ফরিদ বাখরিকে তিনি রত্নখচিত তলোয়ার, খেলাৎ, কলম, দোয়াতদানি উপহার এবং মীর বক্সী উপাধি দিয়ে সম্মাননা জানান। তিনি বলেন আমি আপনাকে কলম আর তরবারির সর্বশক্তিমানরূপে স্বীকার করলাম (শাহিবুসসাইফওয়াইকালাম)।
(চলবে)

No comments: